শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের প্রধান হাতিয়ার। সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশন। ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই মানবিক কার্যক্রমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর হাসিনা যাকারিয়া বেলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী মুহাম্মদ বরকত উল্লাহ খাঁন, আর এস এম নিজাম উদ্দিন, সংগঠনের মহিলা সম্পাদক সামসুন নাহার সামু, ড্রীমটাচ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা নিপা,স্বপ্নছোয়া ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল কবির, বি ফর বাংলাদেশের প্রজেক্ট টিম রাফসানুল আরমান, সদস্য নাদিয়া মিম, সিফা এইচআর, ফরহাদ ট্রেজারার, আফনান, পার্থ ও অভি প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, ইরেজার, স্কেল, রঙিন পেন্সিল ও স্কুল ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। নতুন বই-খাতা পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও স্বপ্নের ঝিলিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর হাসিনা যাকারিয়া বেলা বলেন,
“শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। সমাজের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বিশেষ অতিথিরা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিশু প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ না থাকায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতায় বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী বলেন,
“একটি শিশুকে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া মানে তার ভবিষ্যতের পথে একটি আলো জ্বালানো। আমরা বিশ্বাস করি—শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েই একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে শিশুদের হাসিমুখ আর হাতে নতুন শিক্ষা সামগ্রী যেন প্রমাণ করে দেয়—শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগই পারে একটি জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।