বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:
এপেক্স ক্লাব অব পটিয়া (ক্লাব নাম্বার ১৩৩, জেলা ৩, এপেক্স বাংলাদেশ) তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার প্রতিবেদনে বছরজুড়ে অনুষ্ঠিত সেবামূলক, নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছে। মানবিকতা, ফেলোশিপ এবং নেতৃত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এই ক্লাবটি শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ধর্মীয় উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
সেবামূলক কর্মকাণ্ডে মানবিকতার ছোঁয়া
পটিয়া এপেক্স ক্লাব বছরজুড়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে:
দারিদ্র্য বিমোচন ও মৌলিক চাহিদা পূরণ:
জানুয়ারি মাসে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র এবং পথশিশুদের মধ্যে সোয়েটার বিতরণ করা হয়।
মার্চ মাসে পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনে অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।
এপ্রিল মাসে 'পথের ফুল' প্রকল্পের অধীনে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের সেলাই মেশিন বিতরণ এবং পথশিশুদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এটি নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
জুন মাসে দিনমজুর ও পথশিশুদের মধ্যে ছাতা ও পোশাক বিতরণ করা হয়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে সহায়তা করে।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা উন্নয়ন:
ফেব্রুয়ারি মাসে মাসব্যাপী কুরআন শরীফ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়, যা মার্চ মাসে আমির ভান্ডার মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ইফতার মাহফিল ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। এই উদ্যোগ ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে সহায়তা করেছে।
মার্চ মাসে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং অক্টোবর মাসে তাজেদারে মদীনা একাডেমিতে বিশুদ্ধ জল পরিস্রাবক (Water Filter) দান করা হয়, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখে।
শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ মনোযোগ
ক্লাবটি বিশ্বাস করে, শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়ন সমাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য।
শিক্ষা উন্নয়ন:
দক্ষিণ গোবিন্দরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শাহ আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিকবার শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে (ফেব্রুয়ারি, জুন)।
সেপ্টেম্বর মাসে শাহ আশরাফিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগগুলো পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের ঝরে পড়া রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
২৬ মার্চে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়, যা যুব সমাজের মধ্যে দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন এবং জাতীয় বীর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ক্লাবটি সাংস্কৃতিক ও জাতীয় মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা:
বিশ্ব পরিবেশ দিবস (৫ জুন) উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয় এবং পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে চারা বিতরণ করা হয়।
৮ জুন পটিয়া ব্যাপটিস্ট চার্চে ১০০ জন শিক্ষার্থীর সাথে বৃক্ষরোপণ এবং মৌসুমী ফল উৎসব পালন করা হয়। পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নেতৃত্ব উন্নয়ন, ফেলোশিপ ও জাতীয় সম্পৃক্ততা
পটিয়া এপেক্স ক্লাব কেবল সেবাকার্যেই নয়, নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সাংগঠনিক প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে:
নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সক্ষমতা:
ক্লাবটি বছরজুড়ে একাধিক বোর্ড ও ডিনার মিটিং আয়োজন করেছে (মোট ১০০তম ডিনার মিটিং এপ্রিল মাসে উদযাপিত হয়)।
তারা জাতীয় নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ (NLT) সহ জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কনভেনশন এবং স্কুলে অংশগ্রহণ করেছে (জুলাই, আগস্ট, অক্টোবর)।
ক্লাব সম্প্রসারণ ও মেন্টরিং:
সাতকানিয়া ও বোয়ালখালীতে নতুন এপেক্স ক্লাব গঠনের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা বৈঠক আয়োজন করা হয় এবং অক্টোবর মাসে সাতকানিয়া ক্লাবের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগ তরুণ নেতৃত্ব তৈরি ও এপেক্স আন্দোলনকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।
বান্দরবান, চকরিয়া, লামা, এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য ক্লাবের সাধারণ সভা ও সেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা হয়, যা আন্তঃক্লাব সম্পর্ক জোরদার করে।
সভাপতির বার্তা: অনুপ্রেরণা ও অঙ্গীকার
প্রেসিডেন্ট এপেক্সিয়ান আলমগীর আলম তাঁর বার্তায় বলেছেন, "মানবিক সহায়তা থেকে শুরু করে শিক্ষাগত সহায়তা, পরিবেশ কর্মসূচি থেকে জাতীয় অংশগ্রহণ পর্যন্ত, আমাদের ক্লাব একটি উন্নত ও আরও সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।" সফলভাবে বছর শেষ করার পর, ক্লাবটি আশা করে এপেক্সের এই চেতনা আগামী বছরগুলোতে আরও বৃহত্তর সেবা, ফেলোশিপ এবং মানবতার দিকে তাদের অনুপ্রাণিত করবে। পটিয়া এপেক্স ক্লাবের এই বছরব্যাপী কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সামাজিক পরিবর্তনের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।