পটিয়া প্রতিনিধি
পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষে পটিয়ায় আমার ভান্ডার বশরীয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পটিয়া স্টেশন রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোহাম্মদ নুরুল আলম সওদাগর প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মানবতার বন্ধন পটিয়ার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নুরুল আলম সওদাগরের পুত্র রবিউল হোসেন, মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
কুইজ প্রতিযোগিতায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম, শৈশব, নবুয়ত, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, সমাজ সংস্কার, দয়া, ক্ষমা ও তাঁর মহান জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা হয়। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক মোহাম্মদ নুরুল আলম সওদাগর বলেন, “মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ও আদর্শ থেকে আমাদের শিশু-কিশোরদের শিক্ষা নিতে হবে। শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন নয়, মহানবীর শিক্ষা অনুসরণ করে সত্যবাদিতা, ন্যায়, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে হবে। এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। তাদের শিক্ষাজীবন সুন্দর করতে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
প্রধান বক্তা আলমগীর আলম বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল মানবতার সর্বোচ্চ শিক্ষা। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা, বৈষম্য, অন্যায় ও অসহিষ্ণুতা অনেকটাই দূর করা সম্ভব। শিশুদের মাঝে মহানবীর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এতিমখানার শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া শুধু একটি সহায়তা নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে উৎসাহ দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ধর্মীয় আলোচনা, কুইজ, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বিত আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধও বিকশিত হবে।
শেষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।