১৫ আগস্ট, গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশের
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ এবং মাত্র ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলও। তাঁদের সকলের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক অবদান অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করার অর্থ এই নয় যে, আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে আরও যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তাঁদের ভূমিকা অস্বীকার বা খাটো করতে হবে। ইতিহাসের প্রত্যেক প্রাপ্য ব্যক্তিকে তাঁর যথাযথ
মর্যাদা দেওয়াই ইতিহাসের প্রতি সুবিচার।

আজ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সবসময় শুধু বিতর্কেই লিপ্ত থাকব, নাকি ইতিহাসকে জানার ও বোঝার
চেষ্টা করব?
১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ - সেই সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কী ছিল? স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় কী ধরনের সংকট ছিল? কোন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু তাঁর স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিহত হলেন? এসব বিষয়ে একপেশে বক্তব্য বা রাজনৈতিক প্রচারণাকে ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ না করে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পড়ুন, জানুন, যাচাই করুন এবং নিজের বিবেক ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে মূল্যায়ন
করুন।
বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী তরুণ প্রজন্মের
প্রতি আমার আহ্বান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক
ইতিহাস ভালোভাবে পড়ুন। শুধু স্লোগান নয়, জ্ঞান ও আদর্শে নিজেদের
শক্তিশালী করুন। বঙ্গবন্ধুকে জানুন তাঁর জীবন, সংগ্রাম, ভাষণ,
রাজনৈতিক দর্শন, সাফল্য ও তাঁর সময়ের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। একইভাবে অন্যান্য জাতীয় নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্পর্কেও জানুন এবং তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দিন।
তাহলে কেউ ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার উত্তর দিতে হবে না শুধু আবেগ দিয়ে; যুক্তি, তথ্য ও ইতিহাসের জ্ঞান দিয়ে উত্তর দিতে পারবেন। এতে বঙ্গবন্ধু কিংবা অন্য কোনো জাতীয় নেতার অবদান নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন ও বিদ্বেষ কমবে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, ইতিহাস সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। রাজনীতিতেও আদর্শিক নৈতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যুক্তিবোধ ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
বঙ্গবন্ধু নিজেও ছাত্র ও তরুণদের লেখাপড়ার ওপর গুরুত্ব দিতেন। ১৯৭৪ সালে ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “আমি দেখতে চাই যে, ছাত্রলীগের ছেলেরা যেন ফার্স্টক্লাস বেশি পায়।” তাঁর রাজনীতিতে জ্ঞান ও শিক্ষার গুরুত্ব এখানেও প্রতিফলিত হয়। দুঃখজনকভাবে, আজ রাজনৈতিক কর্মীদের বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ভালোভাবে লেখাপড়া করা বা ইতিহাস ও রাজনীতি গভীরভাবে পড়াশোনা করার জন্য উৎসাহ দেওয়ার সেই প্রবণতা নেতৃত্বের মধ্যে নেই । কারণ এতে তাদের নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেন্জ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে !
নিজে জানুন, ইতিহাস পড়ুন, তারপর যুক্তি দিয়ে কথা বলুন। কারণ নিজের মধ্যে জ্ঞানের আলো থাকলেই সেই আলো দিয়ে অন্যকেও আলোকিত করা যায়।
১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নিহত সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। ইতিহাসের মূল্যায়ন হোক তথ্য, জ্ঞান, বিবেক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।