1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দুর্নীতি, সন্ত্রাসমুক্ত করে আধুনিক মডেল আসনে রূপান্তর করা হবে: চট্টগ্রাম ১৪ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ চন্দনাইশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন আনোয়ারা উপজেলায় আহত বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকার সিগারেট, মোবাইল ও বিউটি ক্রিম জব্দ খোলা চিঠি ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল চিটাগাং’র উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত পূর্বাশার আলো’র সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ইফতার মাহফিলে বক্তারা: রমজানে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো বিত্তবানদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য কুরআনের আলোকে অপশাসন ও জুলুম মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে : মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান দুবাইয়ে নদিমপুর প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোতয়ালীতে স্কুলছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ,পলাতক তুষারকে ধরতে মাঠে পুলিশ

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরী: দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংগ্রাম, শিক্ষা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ। -সোহেল ফখরুদ-দীন

  • সময় রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫০৭ পঠিত

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরী: দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংগ্রাম, শিক্ষা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ। মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরী (জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯৫০ – মৃত্যু: ১৩ ডিসেম্বর ২০১২)। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরী এক অনন্য, সাহসী ও সংগ্রামী নাম। আনোয়ারা উপজেলার কৃতীসন্তান এই অসাধারণ মানুষটি ছিলেন একদিকে শিক্ষানুরাগী, সমাজকর্মী, অন্যদিকে ছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য জীবনবাজি রাখা এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তাঁর জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫০ এবং মৃত্যু ১৩ ডিসেম্বর ২০১২—এই দু’টি তারিখ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা হলেও, তাঁর কর্ম, ত্যাগ ও মানবিকতা আজো দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে অম্লান।
১৯৬৬ সালে পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে তিনি পটিয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি ক্লাসে ভর্তি হন। ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, সাহসী ও সচেতন। পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে স্থানীয় তরুণদের সংগঠিত করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৪ আগস্ট ১৯৭১ পাকিস্তান দিবস বয়কট করা ও পাকিস্তানি পতাকা পোড়ানোর ঘটনায় স্থানীয় রাজাকাররা ওষখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাধন মাস্টারকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালায় এবং ৩৫-৪০ জন নিরীহ মানুষকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জড়ায় (মামলা নং ৫৬৫; এসডিও কোর্ট, পটিয়া; তারিখ: ২২/০৮/১৯৭১)। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন মো. আবু জাফর চৌধুরী—যা তাঁর প্রতিবাদী চেতনা ও দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ বহন করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সরাসরি ভূমিকা: মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ইসলামাবাদী গ্রুপে। পরবর্তীতে বীরমুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার অবসরপ্রাপ্ত নুরুল ইসলাম আবুর নেতৃত্বে বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেন। তাঁর নানাবাড়ি চন্দনাইশের বরকল ইউনিয়নের বরকত গোয়াজখাঁ বাড়ি হওয়ায় শাহজাহান ইসলামাবাদীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা যুদ্ধ-সংগঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে। বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান ইসলামাবাদী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক বিপ্লবী মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী সন্তান।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধে যেখানে সার্জেন্ট মহি আলম চৌধুরী ছিলেন অধিনায়ক এবং হাবিলদার আবু ইসলাম আবু ছিলেন সহ-অধিনায়ক—সেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেছেন শাহজাহান ইসলামাবাদী। এফ এফ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরী অংশ নেন একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে। তিনি যে প্রধান অপারেশনগুলোতে অংশ নেন—ন১. আনোয়ারা থানা অপারেশন (২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)। সার্জেন্ট মহি আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রথম গ্রুপের দায়িত্বে ছিলেন তিনি নিজে, দ্বিতীয় গ্রুপে হাবিলদার আবু ইসলাম আবু—এবং এই গ্রুপের অন্যতম যোদ্ধা ছিলেন আবু জাফর চৌধুরী।
তাঁর স্মরণীয় অবদান : গুজরা/খাসখামা তহসিল অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া : পরৈকোড়া হয়ে আনোয়ারা থানার টেলিফোন লাইনের তার কেটে দেওয়া।
রাজাকার ডেপুটি কমান্ডার আবদুল হাকিমের বাড়ি অপারেশন।
গ্রুপ কমান্ডার আবু ইসলাম আবুর নেতৃত্বে যৌথ কমান্ডো অভিযানে অংশগ্রহণ।
চাউল বোঝাই নৌকা আটক ও গণমানুষের মধ্যে বিতরণ।
২১ মে ১৯৭১ পরৈকোড়া গণহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে শহর থেকে আটক করা চাল বিতরণের সাহসী উদ্যোগে সামিল ছিলেন তিনি।
মানবিক আশ্রয়দাতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা: আনোয়ারার নিজ বাসায় (দ্বিতল বিশিষ্ট বাড়ি) যুদ্ধাহত মানুষ, ঘরছাড়া হিন্দু-বৌদ্ধ পরিবার এবং বিভিন্ন এলাকার পলাতক মানুষদের তিনি আশ্রয় দিতেন। তাঁর ঘর ছিল মুক্তিযুদ্ধকালে এক নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র। তিনি নিজের সহযোদ্ধাদের নিয়ে পাহারা দিতেন ও খাদ্যের ব্যবস্থা করতেন—যা দক্ষিণ চট্টগ্রামে মানবিক কর্মকাণ্ডের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শিক্ষাবিস্তার ও সামাজিক কাজ: মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি নিজ গ্রামে শিক্ষার উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ও তাঁর পরিবার পৈতৃক জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেন “মামুর খাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”—যা আজও এলাকার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী মিয়া চৌধুরী–বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরী ট্রাস্টের অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী।
মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা: ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ ইংরেজি বিকেল ৫টায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। হে রাব্বুল আলামিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরীকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মর্যাদা দিন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং চিরশান্তি দান করুন।
তথ্যের ঋন স্বীকার : মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর চৌধুরীর সন্তান,বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শিক্ষানুরাগী, চট্টগ্রাম।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট