
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার কাছে এক অন্যরকম গভীর অনুভূতির নাম। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে প্রতিষ্ঠা করলো? কারা প্রতিষ্ঠা করলো? কিভাবে করলো? কোন প্লাটফর্ম থেকে করলো? এর পেছনে কোন ইতিহাস সেসব প্রশ্ন আমার কাছে মূখ্য নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার কাছে শুধু টিন-বেড়ায় কিংবা ইট-সিমেন্টে গড়া কোনো ভবনের নাম নয়; প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমার কাছে এক অপূর্ব সুন্দর ও উজ্জ্বল আলোর ঠিকানার মতো স্থানের নাম।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে মনুষ্য সন্তান কেবল পাঠ্যবইয়ের অক্ষর শেখে না, শেখে আলোকিত মানুষ হতে। আমাদের কাছে মূখ্য বিষয় হলো; এই প্রতিষ্ঠান আমাদের সমাজ-দেশকে কী উপহার দিচ্ছে? কোন মানের শিক্ষার্থী তৈরি করছে? এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে কোন মানের স্বপ্ন দেখতে শিখাচ্ছে? জীবনের অনিশ্চিত পথেও কেমন করে দৃঢ়ভাবে হাঁটতে হয়, তার পাঠ এখানে এসে একজন মনুষ্য সন্তান শিখতে পারছে কিনা? ভুল থেকে উঠে দাঁড়াতে, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধার সাথে সম্মান করতে, মানবিক মানুষ হতে, প্রশ্ন করতে, সত্য খুঁজতে এবং হারাম-হালাল অনুধাবন করতে, এইসব বিষয়ে একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তিকে তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটুকু শানিত করতে পারছে? এসবই আজ আমাদের কাছে আজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথাগুলো আজ এজন্যই লিখছি যে, একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র চাকরি বা ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্যের জন্যে নয়, দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও বিবেকবান মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার ভিত গড়ে দিতে ঐকান্তিক ভূমিকা পালন করতে পারে একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীর আত্মগঠনের এক সুশৃঙ্খলিত নীরব কারখানা, যেখানে শিক্ষকই ওই কারখানার মূখ্য কারিগর এর ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও প্রতিটি এলাকায় এখনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, বাস্তবসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর সংখ্যাও নগণ্য। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিতে গেলে বলা যেতে পারে, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জেলাসীমান্ত ইউনিয়ন টইটং। টইটং ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ওয়ার্ড হলো চার নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে ৯ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস হলেও নেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একইসাথে ৫ নং ওয়ার্ডেও প্রায় ৬ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এই ওয়ার্ডেও নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাছাড়া টইটং ৭ নং ওয়ার্ডজুড়ে (হাজিবাজারের পূর্ব-দক্ষিণ পার্শ্বে) প্রায় ৭ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন, এখানেও নেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উল্লেখিত স্থানগুলোতে কয়েকটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও একটিও নেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার ফলে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক, কাটুরিয়া, দিনমজুরসহ অসংখ্য নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার্জনের পথ ব্যহত হচ্ছে। এই ধরনের সকল এলাকার মানুষের প্রত্যাশা; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর যদি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করবার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তবেই সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। সরকারের পাশাপাশি এলাকার বিত্তবান মানুষের কাছেও শিক্ষাবিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের আহবান রইলো।
লেখক : উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মী।
Leave a Reply