
আলমগীর আলম।
পটিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একটি পাকা সেতুর অভাবে দুই উপজেলার হাজারো কৃষিজীবী মানুষ প্রতিদিন নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়ছে সময়, খরচ ও ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলার সংযোগস্থলে একটি খাল বা নদী থাকলেও সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানি বৃদ্ধি পেলে সাঁকো ভেঙে যায়, নৌকা চলাচল ব্যাহত হয়, ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এলাকার অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ধান, সবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু সেতু না থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় সময়মতো ফসল বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে দিন দিন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষও এই দুর্ভোগের শিকার। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলে চরম বিপাকে পড়তে হয়। রাতের বেলায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং দুই উপজেলার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন তারা। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আশ্বাসে নয়, বাস্তবায়নেই মিলুক সমাধান।
এখন সময়ের দাবি, পটিয়া ও বোয়ালখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
Leave a Reply