1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পটিয়ায় রমজানের শুরুতেই লেবুর বাজারে অস্থিরতা, হালি ১২০ টাকায় বিক্রি। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় কীটনাশক যুক্ত মশারি বিতরণ,অনুষ্ঠিত হয়েছে। একুশ শতকে একুশের চেতনায় উদীয়মান বাংলাদেশ -লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে বিসিআরসি’র সমাবেশ: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার বার্তা “পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত ও তাৎপর্য – মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন কাদেরী ভিলেজ এপসি ৪-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন চন্দনাইশ চৌধুরী পাড়া একতা সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন চৌধুরী পাড়া ফুটবল দল ২-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন চন্দনাইশ সাদেক মোহাম্মদ পাড়া ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন চট্টগ্রামে ফল ও সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বেশি দামে, ৫ প্রতিষ্ঠানকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা মোস্তানছির হক সভাপতি সাজিদ সাধারণ সম্পাদক বোয়ালখালী স্টুডেন্ট ফোরাম ঢাকার নতুন কমিটি গঠিত সীতাকুন্ড ভ্রাম্যমান অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

একুশ শতকে একুশের চেতনায় উদীয়মান বাংলাদেশ -লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ পঠিত

 

২১ ফেব্রুয়ারি- এই একটি তারিখ বাঙালি জাতির ইতিহাসে শুধু একটি দিন নয়, একটি চেতনার নাম। শোক, গর্ব ও অঙ্গীকার- এই তিন অনুভূতির সম্মিলনে গড়ে উঠেছে একুশের মহিমা। ভাষার জন্য জীবন দেওয়া শহীদদের রক্তে লেখা এই দিন আমাদের শিখিয়েছে আত্মমর্যাদা, প্রতিবাদ এবং ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার পাঠ। একুশ তাই কেবল স্মৃতির নয়, এটি ভবিষ্যতের দিশারি।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল তরুণ ছাত্রসমাজ। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখে বুক পেতে দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না-জানা আরও অনেকে। তাঁদের আত্মত্যাগে বাংলা ভাষা পেয়েছে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি, আর বাঙালি জাতি পেয়েছে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস। ভাষা আন্দোলন ছিল শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম সুসংগঠিত প্রতিবাদ, যার ধারাবাহিকতায় জন্ম নেয় স্বাধীনতার স্বপ্ন।

একুশের চেতনা কখনো এক জায়গায় থেমে থাকেনি। এই চেতনাই পরবর্তী সময়ে রূপ নিয়েছে গণআন্দোলনে, স্বাধিকার সংগ্রামে এবং শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধে। তাই একুশ মানে শুধু ভাষা নয়; একুশ মানে স্বাধীনতা, একুশ মানে আত্মপরিচয়। একুশ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অধিকার আদায় করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, আর সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হলে ভয়কে জয় করতে হয়।

আজ একুশ শতকে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। উন্নয়ন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও অবকাঠামোর অগ্রগতিতে দেশ দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রা তখনই অর্থবহ ও টেকসই হবে, যখন উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে একুশের চেতনা ধারণ করা হবে। ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতা, এই মূল্যবোধ ছাড়া উন্নয়ন কেবল পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ থাকে।

একুশের এই ঐতিহাসিক তাৎপর্য শুধু বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো-এর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বাঙালির সংগ্রাম এভাবে বিশ্বজনীন স্বীকৃতি পায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকার করে নেয়; ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ভাষাই একটি জাতির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও অস্তিত্বের ভিত্তি। বাংলাদেশ তাই গর্বের সঙ্গে বলতে পারে, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন থেকেই বিশ্ব পেয়েছে ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক অনন্য দিবস।

২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয়; বাংলা ভাষা শুধু আবেগের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। সর্বস্তরে শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো এবং নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানানো আজ সময়ের দাবি। অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও মাতৃভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাই একুশের শিক্ষা।

একুশ আমাদের শেখায়, দেশপ্রেম মানে কেবল আবেগ নয়, দায়িত্ববোধ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, সামাজিক অবক্ষয় রোধ, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একুশের চেতনার বাস্তব প্রয়োগ। অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকাই ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

প্রতি বছর একুশের প্রথম প্রহরে যখন মানুষ নগ্ন পায়ে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায়, তখন সেই নীরব পদচারণায় উচ্চারিত হয় অদৃশ্য অঙ্গীকার; আমরা ভুলবো না, আমরা মাথা নত করবো না। এই একুশে ভাষা শহীদদের রক্তের ঋণ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আমরা নতুন করে শপথ করি; ভাষার মর্যাদা রক্ষায় কখনো আপস করবো না, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকবো না। একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার সাহস এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার শক্তি; এই চেতনা হৃদয়ে ধারণ করেই একুশ শতকের বাংলাদেশ এগিয়ে যাক মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও আত্মমর্যাদার আলোকিত ভবিষ্যতের পথে।

লেখক পরিচিতি
সংগঠক ও কলাম লেখক।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট