1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বান্দরবানের কৃষি উন্নয়নে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ দরকার -সৈয়দ মিয়া হাসান জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা’র বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহারে মাও. সোলাইমান ফারুকী মধ্যমপাড়ায় উঠান বৈঠকে ধানের শীষে ভোটের আহ্বান,আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে গণসংযোগ জোরদার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: চট্টগ্রাম-১১ আসনে ট্রাক প্রতীকে গনঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ইঞ্জিঃ নেজাম উদ্দীন (আকাশ) চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে হার্ডলাইনে সরকার দক্ষিণ হালিশহরে ধানের শীষের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন,নির্বাচনী মাঠে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক চন্দনাইশে হাশিমপুর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দীনের সমর্থনে উঠান বৈঠক চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আন্দোলন থামছেই না সংকট উত্তরণে কোন পথে সমাধান? -আলমগীর আলম। সম্মিলিত ৯৪ ক্রিয়েটার গ্রুপ অফ বাংলাদেশের উদ্যোগে হাস পার্টি, বন্ধুদের আড্ডা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে বিদায়ী ওসিদের সংবর্ধনা: দায়িত্বের কঠোর বাস্তবতা ও মাঠপর্যায়ের নীরব যুদ্ধের স্বীকৃতি

  • সময় রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৮ পঠিত

 

মোঃ শহিদুল ইসলাম
বিশেষ সংবাদদাতাঃ

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নেতৃত্ব কাঠামোয় বদলি একটি প্রশাসনিক স্বাভাবিকতা হলেও—মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব, ঝুঁকি, বাস্তবতা এবং জননিরাপত্তার নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের যে কঠোর ধারা, তা বহন করে থাকেন থানার অফিসার ইনচার্জরা। তাই আজকের এই বিদায় সংবর্ধনা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি এক প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, যেখানে আইনশৃঙ্খলার মূল যোদ্ধাদের অবদানকে কুর্নিশ জানানো হয়।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবর্ধনা ছিল শৃঙ্খলা, প্রটোকল ও মানবিক সম্মান প্রদর্শনের সমন্বয়ে সাজানো এক গম্ভীর অনুষঙ্গ। যার পুরো আয়োজনে ফুটে উঠেছে মাঠের নেতৃত্বের প্রতি প্রশাসনিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বের কঠোর প্রয়োগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি বিদায়ী ওসিদের উদ্দেশে বলেন

“চট্টগ্রামের প্রতিটি থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল ভার ছিল আপনাদের কাঁধে। মাঠের দায়িত্ব কখনো কাগজের নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ থাকে না—এটি বাস্তবের চাপ,ঝুঁকি এবং মুহূর্তের সিদ্ধান্তের উপর দাঁড়িয়ে থাকে।”

পুলিশ সুপার আরও জানান, বদলি হলো নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়; যেখানে অভিজ্ঞতা আরও শাণিত হয়, দায়িত্ব আরও ব্যাপক হয় এবং জনগণকে আরও নিবিড়ভাবে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিদায়ী ওসিদের বক্তব্যে উঠে এল দায়িত্বের ভার ও সংগ্রামের বাস্তবতা বিদায়ী অফিসার ইনচার্জগণ তাঁদের বক্তব্যে তুলে ধরেন—রাতভর অভিযানের অভিজ্ঞতা,অপরাধচক্র মোকাবিলার কঠিন বাস্তবতা,জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে নেওয়া তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত,দলগত নেতৃত্বের গুরুত্ব,এবং মাঠে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত মানবিক সম্পর্কের গল্প,

তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট—জননিরাপত্তার দায়িত্ব বহন করা কখনো দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নয়; এটি এক ধরনের নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ, যেখানে সংশয়, ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ সবসময়ই উপস্থিত। তাঁরা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও মানবিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। তার সঞ্চালনায় ছিল প্রশাসনিক দৃঢ়তা, ভাষায় ছিল পেশাদার সঠিকতা। বিদায়ী ওসিদের দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনকে তিনি মূল্যায়ন করেন মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে।

পরিশেষে বিদায়ী ওসিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পুলিশ সুপার—যা কেবল একটি স্মারক নয়, বরং মাঠের নেতৃত্বকে প্রণোদিত রাখার একটি প্রতীকী শক্তি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— শেখ মোঃ সেলিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক),মোঃ সিরাজুল ইসলাম পিপিএম (সেবা), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস),জেলার সকল থানার বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ,জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে—আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব শুধু একজনের নয়; এটি একটি সমন্বিত ও পেশাদার নেতৃত্ব কাঠামোর ফল। সম্মাননা অনুষ্ঠান বিশ্লেষণ: কেন এই বিদায়গুলো গুরুত্বপূর্ণ
১.মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়নের সুযোগ বিদায় সংবর্ধনা একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি করে—যেখানে দায়িত্ব পালনকারীরা বুঝতে পারেন প্রতিষ্ঠানের কাছে তাঁদের গুরুত্ব কতটুকু।২.বদলির চাপ
কমায়,অপ্রত্যাশিত বদলির কারণে মানসিক চাপ থাকে। সম্মাননা অনুষ্ঠান সেই চাপ কমায়, এবং কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে আরও আগ্রহী করে তোলে।

৩. পেশাদার মনোবল বৃদ্ধি করে,স্বীকৃতি সবসময় মনোবল বাড়ায়। পুলিশ বিভাগের মতো চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।৪.সংগঠনকে আরও মানবিক করে তোলে,এই আয়োজন দেখায়—শুধু দায়িত্ব নয়, দায়িত্ব পালনকারীকেও প্রতিষ্ঠান গুরুত্ব দেয়-৫.প্রশাসনের সঙ্গে মাঠের সংযোগ আরও দৃঢ় হয়,এমন অনুষ্ঠান মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের সম্পর্ককে শক্ত করে।

৬,নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের বার্তা দেয়,অনুষ্ঠানে যে ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে—তা নতুন এবং বিদ্যমান কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেয়:সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক নেতৃত্বই পুলিশ পেশার মূল শক্তি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট