
সৈয়দ মিয়া হাসান
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি জেলা বান্দরবান আবারও বাংলাদেশের অন্যতম প্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সহজ ও স্বচ্ছল যোগাযোগ সুবিধা এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় দেশজুড়ে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বান্দরবান জেলা একসময় বোমাং সার্কেলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানকার ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজবাড়ি, চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির (বুদ্ধ ধাতু জাদি), নীলাচল, শৈলপ্রপাত ও মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলোর অন্যতম কেওক্রাডং, পাহাড়ি সৌন্দর্যের অনন্য নিদর্শন তানচি (তাজিংডং), স্বচ্ছ জলের জন্য বিখ্যাত বগালেক এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের প্রিয় রেমাক্রি। এসব এলাকায় পর্যটন কার্যক্রম চালু থাকায় পাহাড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে বান্দরবান ভ্রমণ নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও স্বস্তিদায়ক। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ এখন সহজ ও মসৃণ হওয়ায় পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন।
পর্যটনের এই ইতিবাচক জোয়ার বান্দরবানের অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আনছে। নতুন নতুন হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস, রেস্টুরেন্ট ও ট্রাভেল সার্ভিস গড়ে উঠছে। এর ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়ছে গাইড, পরিবহনকর্মী, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পর্যটন খাতের বিকাশ পাহাড়ি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বর্তমান স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা অব্যাহত থাকলে বান্দরবান খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, উন্নত নিরাপত্তা ও সহজ যোগাযোগ—সব মিলিয়ে বান্দরবান এখন সত্যিই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ও প্রিয় পর্যটন স্পট।
Leave a Reply