1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে অবৈধ অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার চট্টগ্রাম জামেয়া মহিলা মাদরাসায় কামিল ও ফাযিলের ছবক প্রদান অনুষ্ঠান-২৬ সম্পন্ন মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ গ্রেফতার সাতকানিয়ায় দাফন-কাফন সেবা ফাউন্ডেশনের নাম ঘোষণা পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের ৩য় কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন ফেনীতে অবৈধ ভোজ্যতেল মজুদ, ৮ হাজার লিটার জব্দ, জরিমানা ৫০ হাজার বোয়ালখালীতে অভিযান: ৫ ফার্মেসিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উচ্চ গতির প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলেজ শিক্ষার্থীর। চাম্বল ইউনিয়নে কিশোর গ্যাং ও মাদক আতঙ্ক: অবশেষে গ্রেফতার ‘তারেক’, স্বস্তি এলাকাবাসীর নানিয়ারচর জোন কমান্ডার কর্তৃক বিদায়ী সংবর্ধনা ও ক্রীড়া পুরুস্কার বিতরণ অনু‌ষ্ঠিত

মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ গ্রেফতার

  • সময় শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৪ পঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের নেতা সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকার তার নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলাফেরা করছিলেন। তবে সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিক আব্দুল্লাহ একসময় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তার নাম ছিল বেশ আলোচিত এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত। কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলে করিম জুনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জুনুর নির্দেশ বাস্তবায়নে সাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

 

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করলে সাদিক আব্দুল্লাহ নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে ভিন্ন পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করেন এবং ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

তবে নাম পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিচয় গ্রহণ করলেও তার অতীতের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি চাপা থাকেনি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি গোপনে তার আগের রাজনৈতিক অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং পুরনো প্রভাববলয় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তার চলাফেরা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়। তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে দীর্ঘদিন আটক করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতারের খবর মুহূর্তের মধ্যে মুহসিন কলেজ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাদিক আব্দুল্লাহ নামটি এলাকায় বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ্যে আসত না। তবে এবার তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসীর মতে, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একইভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

অনেকেই আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। তাই ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, অতীতে যারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এতে করে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস পাবে না।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার পরিবেশ আরও

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট