মোঃ কায়সার চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চিকিৎসকদের অবহেলায় ভেঙ্গে পড়েছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। রোগীরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের খোঁজ না পেয়ে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছিল। মাত্র ৬/৭ জন চিকিৎসক অমানসিক কষ্ট করে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। তখন বর্তমানের মত এতটা অবহেলার চিত্র দেখা যায়নি। বর্তমানে ১১ জন চিকিৎসক এখানে পোষ্টিং নিয়ে এসেছেন। প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে চিকিৎসক ডিউটি বন্টন করা হয়ে থাকে। কিন্তু চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অমনোযোগীতার কারনে রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।মাঝে মাঝে ইন্টার্নি চিকিৎসকরাই রোগী দেখতে দেখা যায়। এতে হাসপাতালের উপর রোগিদের আস্থা হারাতে বসেছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে ডাক্তার মোহাম্মদ আফজালুর রহমান দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার সুদক্ষতার কারণে হাসপাতালের চিত্র পরিবর্তন হয়েছিলো। অবকাঠামোগত ও হাসপাতাল কমপাউন্ডের চিত্র নান্দনিক হয়েছে। চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে আনা হয়েছিলো নতুন নতুন ব্যবস্থা। এতে রোগিদের আস্থা ফিরে এসেছিলো চোখে পড়ার মতো।
ডাক্তার মোহাম্মদ আফজালুর রহমানের পদোন্নতির কারণে বদলি হওয়ার পর দলীয় পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগ থেকে এনসিপি পরিচয়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান মনোহরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাহরিয়ার এনাম।
এ সুযোগ পেয়ে ডাক্তার শাহরিয়ার এনাম হয়ে উঠেন বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মে বেপরোয়া।
আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি নিয়মিত নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করে ব্যাস্ত থাকেন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা নিয়ে। পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মধ্যেও অবহেলায় চিকিৎসা সেবা থমকে যেতে বসেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা রোগিরা বসে থাকলেও চিকিৎসকদের দেখা না পেয়ে তাদের অনেককে ফিরতে দেখা যায়। শনিবার এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে একদল সাংবাদিক হাসপাতালে গমন করেন। তখন বেলা পৌনে ১১ টা। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ইমার্জেন্সিসহ ৩/৪ জন ছাড়া অন্যান্য চেম্বারে কোন চিকিৎসক নেই। ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএ নেই তার চেম্বারে। মোবাইল ফোনে কল দিলেও করেননি রিসিভ।
এছাড়াও গত একমাসে একাধিকবার এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে সাংবাদিকরা হাসপাতালে গমন করলে একই পরিস্থিতি দেখতে পান।
ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য রোগির মধ্যে দুর্গাপুর গ্রামের হালিমা খাতুন, পারভীন, উত্তর হাওলা গ্রামের মর্জিনা খাতুন,হাটির পাড়ের রাফেজা খাতুন, রহমত গাজী, জালাল গাজী, দিশাবন্দ গ্রামের আবুল হোসেন, সিরাজ গাজী, মান্দারগাঁও পুলপুকুরিয়া গ্রামের রওশন আরাসহ রোগিরা জানান, তারা বেলা ৯ টা কিংম্বা আগে পরে হাসপাতালে এসেছেন।
বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত তারা অপেক্ষায় থাকলেও কোন চিকিৎসককে না পেয়ে অপেক্ষা করে রয়েছেন। অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের খোজ না পেয়ে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে ফিরতে বাধ্য হয়েছে। এব্যাপারে খবর নিতে ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএ ডা: শাহরিয়ার এনামের মোবাইলে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিভিল সার্জন ডা: আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ডাক্তারদের দায়িত্ব হচ্ছে সময়মতো আসা এবং সময়মতো যাওয়া। ইউএইচএ না থাকায় আরএমও ডাঃ শাহরিয়ার এনাম দায়িত্বে আছেন। আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে এখানে নতুন টিএসও নিয়োগ দেওয়ায়। আশা করি তখন সকল সমস্যা সমাধান হবে।
এব্যাপারে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত নাগরিকগণ।
Leave a Reply