
মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে বাংলাদেশের তরুণদের পদচিহ্ন।তারই অনন্য উদাহরণ ফ্যাশন ডিজাইনার আবদুল্লা আল মাছুম।সৃজনশীলতার শক্তিতে তিনি পাড়ি দিয়েছেন দেশ থেকে বিদেশে, অস্ট্রেলিয়ার ফ্যাশন জগতে অর্জন করেছেন বিশেষ পরিচিতি ও সম্মান।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় পত্রিকা CBD News ফ্যাশন ম্যাগাজিনে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত প্রশংসামূলক প্রতিবেদন ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।শুধু তাই নয়, তাঁর ডিজাইন পৌঁছেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ (Vogue)এও।এসব অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক গর্বের বিষয়।
মেলবোর্নভিত্তিক সুপরিচিত ফ্যাশন হাউস ইভান্স লেদার (Evans Leather)এ কাজ করছেন আবদুল্লা আল মাছুম। লেদার ফ্যাশন ডিজাইনে বিশেষ দক্ষ এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছেও আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
চলতি বছর ইভান্স লেদারের একটি বিশেষ লেদার ডিজাইন স্থান পেয়েছে ভোগ ম্যাগাজিনে।সেই ডিজাইনের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশি তরুণ এই ডিজাইনার।তাঁর নকশা ও সৃজনশীলতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি যেমন গর্বিত,তেমনি দেশও পেয়েছে একটি উজ্জ্বল পরিচিতি।
লেডি গাগার পোশাক ডিজাইন নতুন অধ্যায় এখানেই শেষ নয়।সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সুপারস্টার গায়িকা ও অভিনেত্রী লেডি গাগার জন্য একটি বিশেষ জ্যাকেট ডিজাইন ও তৈরি করেন আবদুল্লা আল মাছুম।এই কাজটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ সাড়া ফেলে।তাঁর ডিজাইন ও কারুশিল্পের সূক্ষ্মতা ব্যাপক প্রশংসিত হয়।এতে তাঁর পেশাগত ক্যারিয়ার যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে,তেমনি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে বাংলাদেশের নামও উচ্চারিত হয়েছে নতুনভাবে।
যদিও তাঁর কর্মক্ষেত্র এখন অস্ট্রেলিয়া,তবে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকায়। মূল বাড়ি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার পণ্ডিতের বানা গ্রামে।
শিক্ষাজীবনের শুরু চট্টগ্রাম কাস্টমস ল্যাবরেটরি স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন ওমর গনি এমইএস কলেজে।ফ্যাশনের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে নিয়ে যায় উচ্চশিক্ষায় ডিগ্রি অর্জনের দিকে।
তিনি পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি,চট্টগ্রাম থেকেবি.এসসি ইন ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সম্পন্ন করেন।এরপর ফ্যাশন খাতে আরও দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অফ অ্যাপারেল ম্যানেজমেন্ট, চট্টগ্রাম থেকে মাস্টার্স ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং করেন।
লেদার কারুশিল্প, ফ্যাশন ডিজাইন এবং অ্যাপারেল প্রোডাকশন সব ক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন সমান দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয়।ব্যক্তিজীবনে আবদুল্লা আল মাছুম এস এম খায়রুল ইসলাম ও রহিমা আক্তারের দ্বিতীয় সন্তান।তাঁর বড় বোন মায়মুনা আক্তার বর্তমানে কানাডার নাগরিক।ছোট বোন মোর্শেদা আক্তার মিম পড়াশোনা করছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে।পরিবারের সমর্থন ও প্রেরণাই তাঁর সাফল্যের অন্যতম শক্তি বলে জানান তিনি।
অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন আবদুল্লা আল মাছুম।তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয় এটি বাংলাদেশের তরুণ ডিজাইনারদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা।
বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি দিন দিন বিশ্ববাজারে গুরুত্ব পাচ্ছে।এই যাত্রায় আবদুল্লা আল মাছুমের মতো সৃষ্টিশীল তরুণদের অবদান ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নেবে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply