
মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
সাংবাদিক সেজে চাঁদা দাবি,বাকলিয়ায় দুই যুবক আটক
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা পুলিশ সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মঙ্গলবার(৩ জানুয়ারি)এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোহাম্মদ জোবায়ের(২৮) এবং নয়ন শীল(২৯)।তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানায়,এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ সেলিম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নিবন্ধিত হয় মামলা নং-০৪ হিসেবে,যার তারিখ ০৩ জানুয়ারি ২০২৬।মামলাটি দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫ এবং ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।মামলার বিষয়বস্তুতে উল্লেখ রয়েছে,গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাদীর নিকট আর্থিক দাবি তোলেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন বাকলিয়া থানার এসআই(নিঃ) মনজুরুল আলম ভূঞা, এসআই(নিঃ) শফিউল আলম এবং এসআই(নিঃ) একে এম জালাল উদ্দিন।তারা সঙ্গীয় ফোর্সসহ যৌথভাবে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ জোবায়ের ও নয়ন শীলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।গ্রেফতারের সময় আসামিরা কোনো বৈধ সাংবাদিক পরিচয়পত্র বা অনুমোদন দেখাতে পারেননি বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ জোবায়েরের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় এবং নয়ন শীলের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায়।তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।এ সুযোগেই তারা নিজেদের পরিচয় আড়াল রেখে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও চাঁদা দাবির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাদী মোহাম্মদ সেলিমের দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ রয়েছে,আসামিরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আর্থিক দাবি তোলেন।তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।এতে করে তিনি মানসিকভাবে চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং আইনগত সহায়তা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।পরে বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানানোর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।তিনি আরও বলেন,সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ যদি অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করে বা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে,তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক পেশা,আর এই পেশার নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ ঘটনায় সচেতন মহল বলছেন,সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা কেবল ভুক্তভোগীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না,বরং প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।তাই এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকেও আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। কেউ সাংবাদিকতার নামে কাজ করলে তার পরিচয় যাচাই করা এবং বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশি পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।তাদের দাবি,মাঝে মধ্যেই কিছু ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ছবি তুলে, ভিডিও ধারণ করে সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে ভয়ভীতি দেখান এবং অর্থ দাবি করেন।এতে সাধারণ মানুষের মনে সাংবাদিকদের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়।তাই পুলিশের এই ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেও তারা মনে করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়,তদন্তের স্বার্থে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।একই সঙ্গে অনুরূপ ঘটনার শিকার হলে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়,সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।কেউ যদি নিজেকে সাংবাদিক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলে দাবি করে আর্থিক দাবি তোলে,তবে তা যাচাই না করে কখনোই টাকা দেয়া উচিত নয়।প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে।
চট্টগ্রাম নগরীতে অতীতে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদারের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বাকলিয়ায় আটক হওয়া এই দুই ব্যক্তি সেই চক্রের অংশ কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।তদন্ত শেষ হলে এই ঘটনার পেছনের পুরো চিত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।অন্যদিকে সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেছেন,এই গ্রেফতারের মাধ্যমে এমন ভুয়া পরিচয়ধারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ আরও জোরদার হবে এবং সাধারণ মানুষও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
Leave a Reply