
চন্দনাইশ প্রতিনিধি:
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রথমবারের মতো ব্যাপক ও বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চারদিনব্যাপী সম্মিলিত বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটি বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ ও পহেলা বৈশাখ বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনবোধের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এটি কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষিজীবন ও সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এক সর্বজনীন উৎসব। মুঘল সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলা সনের প্রবর্তন কৃষিভিত্তিক সমাজে শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা এনে দেয়, যা আজও বাঙালির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ নতুন সম্ভাবনা ও নতুন উদ্দীপনার প্রতীক। পুরনো বছরের জীর্ণতা ভুলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয় এই উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হওয়ায় এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদের আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতায় এবং চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় “সম্মিলিত বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা পরিষদ”-এর ব্যবস্থাপনায় আগামী ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ (১লা থেকে ৪ঠা বৈশাখ ১৪৩৩) পর্যন্ত গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৮টায় বরুমতি ব্রিজ থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য, শান্তিপূর্ণ বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হবে। উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ মেলায় প্রতিদিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, লোকজ পরিবেশনা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ আয়োজন থাকবে। দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের পরিবেশনা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
মেলায় প্রায় দুই শতাধিক স্টলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা কৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সামগ্রী, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী পণ্য—হাতপাখা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, মৃৎশিল্প, লোহাজাত দ্রব্য, লেবু ও পেয়ারা—বিশেষভাবে স্থান পাবে। ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশসহ থাকবে নানা গ্রামীণ খাবারের আয়োজন।
শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, পাইরেট শিপসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় আয়োজন রাখা হয়েছে। আয়োজকরা মনে করছেন, এই মেলা স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:
এম এ হাশেম রাজু (মেলা কমিটির আহ্বায়ক), মোজাম্মেল হক বেলাল (চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য), সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, মোর্শেদুল আলম, এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, নেছার আহমেদ, শহিদুল ইসলামসহ মেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
চারদিনব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজন সফল করতে সাংবাদিক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে এ আয়োজন গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
Leave a Reply