
পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের ওয়ার্ড, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং ভর্তি রোগীদের খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর অতিরিক্ত চাপ, জনবল, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন সংকটের কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পটিয়ার প্রায় সাত লাখ মানুষের পাশাপাশি বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলীসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন এবং ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে সীমিত অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের জনবল সংকট মোকাবিলায় চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল অফিসার, চারজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার কার্যক্রম শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পুনর্নির্মাণে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ভর্তি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা হাসপাতাল থেকেই করার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং খাবারের মান উন্নত করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম হাসপাতালের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, পটিয়া হাসপাতালের ওপর আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষেরও চিকিৎসার চাপ রয়েছে। তাই বর্তমান অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়বসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply