1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পবিত্র মাহে রমাদানের তাৎপর্য ও মুমিনের করণীয় -মোঃ হোসাইন জাকের ইপিজেডে তাঁতীদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও ইফতার: রমজানের শিক্ষা সংযম, মানবিকতা ও ঐক্যের বার্তা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আনোয়ারা প্রেস ক্লাবের দোয়া ও ইফতার মাহফিল লালখান বাজার ওয়ার্ড যুবদলের উদ্যোগে বাঘঘোনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পটিয়ায় লবণ মিল শ্রমিকের টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার উধাও, কারখানা বন্ধ সীতাকুণ্ডে এক চল্লিশ মাদ্রাসা ও এতিম খানায় খেজুর বিতরণ বাঘাইছড়িতে বিসমিল্লাহ বাবুর্চি সমিতির ইফতার মাহফিল সম্পন্ন ‘চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ান’-এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত আমিরাতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় শহীদ সাইদ রশিদ আল বালুশির মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন হাজ্জা বিন জায়েদ দুবাই এয়ারপোর্টের কাছে ড্রোন পড়ে বাংলাদেশি-সহ চারজন আহত

পবিত্র মাহে রমাদানের তাৎপর্য ও মুমিনের করণীয় -মোঃ হোসাইন জাকের

  • সময় শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩০ পঠিত

আত্মশুদ্ধির বসন্তকাল, ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস হলো পবিত্র মাহে রমাদান। এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমান এই মাসে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকেন। রমাদান শব্দটি আরবি ‘রামাদ’ (Ramad) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পুড়িয়ে ফেলা। অর্থাৎ, এই মাসটি মুমিনের গুনাহসমূহকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয় এবং আত্মাকে কলুষতামুক্ত করে পবিত্র করে তোলে।

২. রমাদানের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য:
রমাদানের সবচেয়ে বড় শ্রেষ্ঠত্ব হলো এই মাসেই মানবজাতির মুক্তি সনদ মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:
“রমাদান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)

এই মাসটি পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরামদের ওপরও ফরজ ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের জৈবিক চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করে রুহানি বা আধ্যাত্মিক শক্তিকে জাগ্রত করার জন্য রোজা একটি সার্বজনীন বিধান।

ক. তাকওয়া অর্জন: রোজার মূল লক্ষ্য

রোজা কেন ফরজ করা হয়েছে? আল্লাহ তাআলা তার উত্তর দিয়েছেন কুরআনে: “যাতে তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)। তাকওয়া হলো এমন এক শক্তি যা মানুষকে নির্জনেও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। একজন রোজাদার প্রচণ্ড গরমে এবং একাকী ঘরে পিপাসার্ত থাকলেও পানি পান করেন না—কেননা তিনি জানেন তার রব তাকে দেখছেন। এই অনুভূতির নামই তাকওয়া।
খ. জান্নাতের দরজা উন্মোচন ও জাহান্নাম বন্ধ: রাসূলুল্লাহ (স.) এর হাদিস অনুযায়ী, রমাদান শুরু হলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এর অর্থ হলো, এই মাসে নেক কাজ করা সহজ এবং পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।

৩. রমাদানে মুমিনের করণীয়: আমল ও ইবাদত: রমাদানের প্রতিটি মুহূর্ত হিরন্ময় সুযোগ। এই মাসে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের একটি ফরজের সমান সওয়াব বহন করে।
(১) বিশুদ্ধ নিয়তে রোজা পালন: রোজা কেবল উপবাস নয়। রাসূল (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (বুখারি)। তাই চোখের রোজা, কানের রোজা এবং জিহ্বার রোজা নিশ্চিত করতে হবে।

(২) কুরআন তিলাওয়াত ও গবেষণ:
যেহেতু এটি কুরআনের মাস, তাই প্রতিদিন অন্তত একটি নির্দিষ্ট অংশ তিলাওয়াত করা উচিত। যদি সম্ভব হয়, অর্থসহ পাঠ করা এবং তাফসির অধ্যয়ন করা আরও উত্তম।
(৩) তারাবির সালাত: তারাবির সালাত রমাদানের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আল্লাহর কালাম শোনা এবং রুকু-সিজদার মাধ্যমে বিনয় প্রকাশ করা মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। রাসূল (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমাদানে তারাবি’র সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”

(৪) শেষ দশকের ইতিকাফ:
রমাদানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। এটি দুনিয়ার সব ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে কেবল মহান আল্লাহর সাথে মিতালি করার এক মোক্ষম সুযোগ। ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর পাওয়ার নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়।

(৫) লাইলাতুল কদর তালাশ করা:
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী হলো কদরের রাত। রমাদানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) এই রাতটি তালাশ করতে হয়। এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

৪. রমাদানের সামাজিক ও মানবিক দিক:
ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের ধর্ম নয়, এটি সামাজিক সাম্যের ধর্ম। রমাদান আমাদের সেই শিক্ষা দেয়।
ক. দান-সদকা ও ফিতরা: রাসূল (স.) রমাদানে প্রবাহমান বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হতেন। এই মাসে জাকাত আদায় করা উত্তম, কারণ সওয়াব অনেক বেশি। এছাড়া ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মানুষের ঈদের খুশিতে শামিল করা ওয়াজিব।

খ. ইফতার করানো: অন্যকে ইফতার করানো একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে, তবে রোজাদারের সওয়াবে কোনো কমতি হবে না।

গ. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব: সারাদিন ক্ষুধার্ত থেকে ধনী ব্যক্তিরা বুঝতে পারেন অনাহারে থাকা মানুষের কষ্ট। এতে অসহায়ের প্রতি মমত্ববোধ জন্মায়। ইফতারের দস্তরখানে ধনী-দরিদ্রের সহাবস্থান ইসলামী সাম্যের এক জীবন্ত চিত্র।

৫. রমাদানে বর্জনীয় কাজসমূহ:
রোজা রেখে কিছু অভ্যাস আমাদের ত্যাগ করতে হবে, নতুবা আমাদের পরিশ্রম বৃথা যাবে:
গীবত ও পরনিন্দা: কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ চর্চা করা নিজের মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সমান। এটি রোজার সওয়াব শূন্য করে দেয়।
অনর্থক তর্কাতর্কি: কেউ গালি দিলে বা ঝগড়া করতে আসলে বলতে হবে, “আমি রোজাদার।”
অপচয়: ইফতারের নামে বিপুল পরিমাণ খাদ্যের অপচয় করা ইসলাম বিরোধী।
অশ্লীলতা ও হারাম উপার্জন: হারাম খাদ্য দিয়ে সেহরি বা ইফতার করলে ইবাদত কবুল হয় না। এছাড়া পর্দা না করা বা অশ্লীল দৃশ্য দেখা রোজা হালকা করে দেয়।
৬. রমাদানের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা:
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও স্বীকার করেছে যে, বছরে এক মাস রোজা রাখা শরীরের ‘অটোফেজি’ (Autophagy) প্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) দূর করে, লিভারকে বিশ্রাম দেয় এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। তবে আমাদের লক্ষ্য হতে হবে প্রধানত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক।
৭. স্থায়িত্বের পরীক্ষা: রমাদানের বিদায় মানে ইবাদতের বিদায় নয়। রমাদানের শিক্ষা হলো বাকি ১১ মাস একইভাবে আল্লাহর অনুগত থাকা। শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা এবং রমাদানের তাকওয়াকে জীবনের পাথেয় করাটাই হলো প্রকৃত সাফল্য।
পবিত্র মাহে রমাদান হলো মুমিনের জন্য একটি রিচার্জ স্টেশন। এই মাসে আমরা আত্মাকে রিচার্জ করে নেই যেন সারা বছর পাপাচারের অন্ধকারে পথ না হারাই। এটি ক্ষমা চাওয়া এবং জান্নাত প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ সময়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমাদানের হক আদায় করার এবং প্রকৃত মুত্তাকি হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

কবি, শিক্ষক ও গবেষক

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট