1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজধানী ঢাকা শহরকে অচল করে তুলতে মরণফাঁদ অটোরিকশাই যথেষ্ট পটিয়ায় মাদক-জুয়া ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে সমাবেশ শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে: এনামুল হক এনাম এমপি ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল চিটাগাং’র ‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ উদযাপন দুর্গাপূজায় কালিকা প্রসাদ স্মরণে রঙিনের কণ্ঠে ‘ঢাকের বোলে বাংলা দোলে’ মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান আলোকবর্তিকা মানব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১১ বছরে মাহফুজা, ৯ বছরে ইসরার-শৈশবেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা, তৃণমূল প্রেস সোসাইটির নিন্দা মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্টের জয়েন্ট ট্রেজারার নির্বাচিত হওয়ায় লিও অভি আলম তুহিনকে সংবর্ধনা সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে জে এম সেন হল পূজা মণ্ডপে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন

রাজধানী ঢাকা শহরকে অচল করে তুলতে মরণফাঁদ অটোরিকশাই যথেষ্ট

  • সময় শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩২ পঠিত

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন লাখো মানুষ জীবিকার তাগিদে, শিক্ষার প্রয়োজনে কিংবা জরুরি কাজে এই মহানগরীতে চলাচল করেন। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলার অভাবে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এর মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশার চলাচল নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

একসময় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে অটোরিকশা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কিন্তু যে যানবাহন মানুষের যাতায়াত সহজ করার কথা, সেটিই যখন নিয়মহীন চলাচল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং বিপজ্জনকভাবে রাস্তা পরিবর্তনের কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ায়, তখন বিষয়টি আর অবহেলা করার সুযোগ থাকে না।

ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ এমনিতেই অনেক বেশি। তার ওপর সড়কের ধারণক্ষমতা, চলাচলের নিয়ম এবং নির্দিষ্ট রুটের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে যানজটের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ফলে কর্মজীবী মানুষ হারাচ্ছেন মূল্যবান সময়, শিক্ষার্থীরা ভোগ করছেন ভোগান্তি, রোগীরা পড়ছেন বিপাকে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো, একটি আধুনিক রাজধানীর সড়ক কি এভাবে চলতে পারে? নাগরিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা কি রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়? অবশ্যই। তাই এখনই সময় অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহনের চলাচলে কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার।

একটি যানবাহন মানুষের উপকারে আসবে, নাকি বিপদের কারণ হবে তা নির্ভর করে এর নিরাপত্তা, চালকের দক্ষতা, চলাচলের নিয়ম এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ওপর। অটোরিকশাও এর ব্যতিক্রম নয়। যথাযথ নিয়মে পরিচালিত হলে এটি যাত্রীদের উপকারে আসতে পারে; কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও বেপরোয়া চালনার কারণে এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ মোড় নেওয়া, চলন্ত যানবাহনের সামনে চলে আসা, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা, ভুল পথে চলাচল এবং যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর মতো আচরণ সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের পাশে ছোট যানবাহনের অসতর্ক চলাচল চালক ও যাত্রী উভয়ের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে।

অটোরিকশার সঙ্গে অন্য যানবাহনের সংঘর্ষ ঘটলে যাত্রীদের গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পেছনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, জরুরি যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং পথচারীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়।

এখানে মনে রাখতে হবে, অটোরিকশাকে ঢাকার যানজটের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবসম্মত নয়। ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য, অপর্যাপ্ত গণপরিবহন, অবৈধ পার্কিং, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও যানজটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কিন্তু অন্য সমস্যাগুলো রয়েছে বলে অটোরিকশার অনিয়ম উপেক্ষা করা যায় না। প্রতিটি সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে সমাধান করাই দায়িত্বশীল নগর ব্যবস্থাপনার পরিচয়।

ঢাকার যানজট শুধু রাস্তায় আটকে থাকার সমস্যা নয়; এটি মানুষের সময়, শ্রম, অর্থ এবং মানসিক স্বস্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। একজন কর্মজীবী মানুষ সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে না পারলে তাঁর কর্মদক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন শিক্ষার্থী ক্লাসে দেরি করলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। ব্যবসায়ী সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে যানজট মানুষের জীবন রক্ষার পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অ্যাম্বুলেন্সকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হলে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যানজটকে কেবল নগরজীবনের স্বাভাবিক দুর্ভোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যেখানে যানবাহনের গতি ব্যাহত করছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা। কোন সড়কে কত যানবাহন চলবে, কোথায় যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে, কোন এলাকায় স্ট্যান্ড স্থাপন করা প্রয়োজন এবং কোন ধরনের যানবাহন কী শর্তে চলাচল করবে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অটোরিকশা চালকদের অনেকেই নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। তাঁদের দৈনিক উপার্জনের ওপর নির্ভর করে পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসাভাড়া এবং সন্তানের শিক্ষার ব্যয়। তাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণের নামে তাঁদের জীবিকার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনের অজুহাতে সড়কে নিয়ম ভঙ্গ, যাত্রীদের ঝুঁকির মুখে ফেলা কিংবা অন্যের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অধিকারও কারও নেই। একজন চালকের যেমন সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহের অধিকার রয়েছে, তেমনি একজন যাত্রীর রয়েছে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর অধিকার। পথচারীরও রয়েছে ফুটপাত ও সড়কে নিরাপদ চলাচলের অধিকার।

সুতরাং সমাধান হতে হবে মানবিক, বাস্তবসম্মত এবং আইনসম্মত। অটোরিকশার চলাচলের জন্য নির্ধারিত রুট, বৈধ স্ট্যান্ড, অনুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যস্ত সড়কে চলাচলের সময় ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করার আগে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং চালকদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনা করা জরুরি।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু ঘোষণা বা সাময়িক অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছ আইন প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। কোনো যানবাহন অনুমোদনহীন হলে, নিরাপত্তার শর্ত পূরণ না করলে কিংবা চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, আইন প্রয়োগের নামে কোনো চালককে অযথা হয়রানি করা হবে না এবং জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। নিয়ম সবার জন্য সমান হতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তি, যানবাহনের মালিক কিংবা সাধারণ চালক কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোথায় যানজট বেশি, কোন সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি এবং কোন এলাকায় অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল নিবন্ধন, নজরদারি ক্যামেরা এবং স্বচ্ছ অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে চালকেরা আইন মানতে উৎসাহিত হন এবং যাত্রীরাও নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সচেতন থাকেন।

ঢাকার যানজটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে শুধু অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। রাজধানীতে পর্যাপ্ত, নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মানুষ যদি সহজে বাস, মেট্রোরেল ও অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে ব্যক্তিগত এবং ছোট যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাসের নির্ধারিত রুট ও স্টপেজ কার্যকর করতে হবে। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করতে হবে। গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, যাতে যাত্রীরা এক যানবাহন থেকে অন্য যানবাহনে সহজে যেতে পারেন। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নিরাপদ পথচারী পারাপার নিশ্চিত করা এবং অল্প দূরত্বে হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

একটি আধুনিক নগরীর সড়ক পরিকল্পনা শুধু গাড়ির জন্য হতে পারে না। সেখানে পথচারী, সাইকেলচালক, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সড়কের প্রতিটি অংশকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে মানুষের চলাচল সহজ হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমত, অটোরিকশার চলাচল ও অনুমোদনসংক্রান্ত নিয়ম স্পষ্ট করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যস্ত সড়কে অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তাসচেতনতা বাড়াতে হবে। চতুর্থত, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, গণপরিবহনের মান উন্নত করে যাত্রীদের নিরাপদ বিকল্প নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় অটোরিকশার কারণে নিয়মিত যানজট বা নিরাপত্তার সমস্যা সৃষ্টি হলে সেই অভিযোগ দ্রুত যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

একটি কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য চালক, মালিক, যাত্রী, পথচারী ও প্রশাসন সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ এককভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। কিন্তু দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি অবশ্যই সম্ভব।

রাজধানী ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। এই শহরের সড়ক যদি প্রতিদিন মানুষের সময় নষ্ট করে, নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে তার প্রভাব গোটা দেশের ওপর পড়ে। তাই অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলসহ সড়কের সব ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

অটোরিকশা বন্ধ করাই একমাত্র সমাধান নয়; বরং প্রয়োজন সঠিক নিয়ন্ত্রণ, বৈধ চলাচল, দক্ষ চালক, নিরাপদ যানবাহন এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। দরিদ্র চালকদের জীবিকার অধিকার যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি যাত্রী ও পথচারীদের জীবনও নিরাপদ রাখতে হবে। কোনো একটি পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অন্য পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

আমরা এমন একটি ঢাকা চাই, যেখানে যানজটের কারণে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হবে না; যেখানে অ্যাম্বুলেন্স জরুরি প্রয়োজনে বাধাহীনভাবে চলতে পারবে; যেখানে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন; আর যেখানে সড়কে চলাচল হবে আইন, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে।

মনে রাখতে হবে, রাজধানীকে অচল করে দেওয়ার জন্য শুধু যানবাহনের সংখ্যা নয়, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাই বড় বিপদ। তাই অটোরিকশাকে মরণফাঁদে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। এখনই প্রয়োজন কঠোর কিন্তু মানবিক নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং জনবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা।

সড়ক মানুষের চলাচলের জন্য বিশৃঙ্খলার জন্য নয়। নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে আর কোনো অবহেলা কাম্য নয়।

লেখক
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব- নাগরিক ছাত্র ঐক্য, কেন্দ্রীয় সংসদ

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট