
মোঃ শহিদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পবিত্র শবে বরাত। ইসলাম প্রিয় মুসলমান ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অত্যন্ত বরকতময় রহমতময় সৌভাগ্যময় রজনী পবিত্র শবে বরাত। সারাদেশে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের দোয়া প্রার্থনায় পালিত হলো পবিত্র শবে বরাত। ১৪ই শাবানের রাত। আত্মশুদ্ধি পূর্ণময় মুক্তিলাভ শান্তি ঐক্য কামনায় সৌভাগ্যময় রজনী। এ রাত ভাগ্য নির্ধারণ দোয়া কবুলের রাত। এ রাতের মহিমান্বিত ফজিলতপূর্ণ, বরকতময় অসাধারণ অপরিসীম।
৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ১৪ই শাবান দিন গত রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের বন্দরটিলায় অবস্থিত হযরত আলিশাহ (রহঃ) জামে মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
দেশের অন্যান্য এলাকার মতো জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী হযরত আলিশাহ (রহঃ) জামে মসজিদে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের ইবাদত-বন্দেগিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা।
মাগরিবের পর থেকেই শুরু হয় মসজিদে মুসল্লিদের আনাগোনা। এশার জামাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ধর্মীয় আলোচনা নফল ইবাদত। মধ্যরাত পেরোতেই—রাত ঠিক ১২টার সময়—মসজিদের ভেতর এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি হয়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। ব্যক্তিগত গুনাহ মাফ, পরিবার-পরিজনের কল্যাণ, দেশ-জাতির শান্তি, সমাজে ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, শবে বরাত এমন এক বরকতময় রজনী—যে রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন, রহমতের দরজা উন্মুক্ত করেন এবং আন্তরিক তওবাকারীদের ক্ষমা করে দেন। এই বিশ্বাসকে হৃদয়ে ধারণ করেই মুসল্লিরা গভীর মনোযোগ ও বিনয়ের সঙ্গে ইবাদতে মগ্ন থাকেন।
ধর্মীয় মনীষীদের ব্যাখ্যায়, এই রাত মানুষকে আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়। কেবল নফল নামাজ বা দোয়াই নয়—অহংকার পরিহার, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত থাকা এবং অন্যের প্রতি জুলুম ও অন্যায় আচরণ থেকে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞাই শবে বরাতের মূল শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান,“এই রাত আমাদের স্মরণ ঢ়করিয়ে দেয়—আল্লাহর রহমত অসীম, কিন্তু সেই রহমত পেতে হলে হৃদয়কে পরিষ্কার করতে হয়। শবে বরাত আমাদের নতুন করে সৎ পথে ফেরার সুযোগ দেয়।”
রাতভর হযরত আলিশাহ (রহঃ) জামে মসজিদে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া-মোনাজাত, হামদ-নাত এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে পবিত্র রজনীকে অর্থবহ করে তোলা হয়। মুসল্লিদের মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও দোয়ার আদান-প্রদান সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে এই রাত মানুষকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দেয়। জীবন ক্ষণস্থায়ী—এই উপলব্ধি থেকেই মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে, অন্যায় থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার করে এবং ন্যায়ভিত্তিক জীবন গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
মসজিদের শান্ত, সুশৃঙ্খল ও পবিত্র পরিবেশে মুসল্লিদের ইবাদত যেন স্পষ্ট করে দেয়-ইসলাম কেবল আচারনির্ভর ধর্ম নয়, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংহতির শিক্ষা প্রদানকারী এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
এই পবিত্র রজনীতে সম্মিলিত প্রার্থনায় প্রতিফলিত হয়েছে একটি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা—হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ,নৈতিকতা-ভিত্তিক জীবন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ইবাদত ও দোয়ায় অংশ নেওয়া সকল মুসল্লির প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা। মহান আল্লাহ যেন এই বরকতময় রাতে আমাদের সকলকে ক্ষমা করেন, অন্তরকে পবিত্র করেন এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শান্তি, হেদায়েত ও কল্যাণ দান করেন—এই কামনাই সকলের।
মহান আল্লাহতায়ালা সকলের সদইচ্ছা আশা, মনের বাসনা পূরণ করুন। আমীন
Leave a Reply