1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পটিয়ার সাংস্কৃতিক জাগরণে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির ভূমিকা -আলমগীর আলম রাতের আঁধারে মসজিদে চুরি, উধাও সাউন্ড সরঞ্জাম চট্টগ্রামে নারী ভোটারদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ২ বোন দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত উন্নয়ন ও সেবায় শূন্যতার প্রভাব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামে নিপু সভাপতি,টিটু সাধারণ সম্পাদক বোয়ালখালীতে আগুনে পুড়ল ৯ বসতঘর বোয়ালখালীতে আগুনে পুড়ল দোকান বোয়ালখালীতে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত এক যুবক ক্ষমতার পালাবদলে ৩৫ বছরের ইতিহাস ভাঙার পথে বাংলাদেশ নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সৌহার্দ্য: মাঠ থেকে একজন গণমাধ্যমকর্মীর কথা -উৎফল বড়ুয়া

পটিয়ার সাংস্কৃতিক জাগরণে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির ভূমিকা -আলমগীর আলম

  • সময় রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ পঠিত

বাঙালির ইতিহাস কেবল রাজনৈতিক ঘটনাপঞ্জি নয়; এটি ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি, রবীন্দ্র-নজরুলের সাহিত্যধারা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া সৃজনশীল চর্চার ধারাবাহিকতা।

এই দীর্ঘ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং সচেতন সমাজমানস।
সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই পটিয়ায় কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমি।
প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও দর্শন
একাডেমির মূল লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের সংযুক্ত রাখা।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
এই বাস্তবতায় একাডেমিটি একটি সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে শিল্পচর্চা শুধু বিনোদন নয়, বরং ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
একাডেমির দর্শন স্পষ্ট—শিল্পের মাধ্যমে মানুষ গড়া। তারা বিশ্বাস করে, একজন শিক্ষার্থী যখন গান শেখে, নাচের তাল বোঝে, কবিতা আবৃত্তি করে বা তুলিতে রঙ মেশায়, তখন তার ভেতরে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নান্দনিকতা ও মানবিক বোধ তৈরি হয়।
নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
একাডেমিতে নাচ, গান, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনসহ একাধিক বিষয়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রতিটি বিভাগে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা পাঠদান করেন।
তারা কেবল কারিগরি দক্ষতা শেখান না; শিল্পের পেছনের ইতিহাস, সুরের ব্যাকরণ, কবিতার ভাব ও চিত্রকলার দর্শন নিয়েও আলোচনা করেন।
সংগীত বিভাগে দেশাত্মবোধক গান, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত ও আধুনিক গানের চর্চা হয়।
নৃত্য বিভাগে দেশীয় নৃত্যরীতি ও সৃজনশীল নৃত্য উপস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আবৃত্তি বিভাগে উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, মঞ্চ উপস্থাপনা ও আবেগ প্রকাশের অনুশীলন করানো হয়। চিত্রাঙ্কন বিভাগে শিশুদের মৌলিক আঁকাআঁকি থেকে শুরু করে জলরং, প্যাস্টেল ও বিভিন্ন মাধ্যমের ব্যবহার শেখানো হয়।
অনুষ্ঠানমালা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা
বছরজুড়ে একাডেমির আয়োজনে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখসহ জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিনগুলোকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
এসব অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠান একাডেমির অন্যতম আকর্ষণ।
এতে শিক্ষার্থীরা মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা উপস্থাপনের সুযোগ পায়। অনেক শিক্ষার্থী স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে, যা একাডেমির প্রশিক্ষণের মানের প্রমাণ বহন করে।
সমাজে ইতিবাচক প্রভাব
পটিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে একাডেমির ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্থানীয়ভাবে শিল্পচর্চার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক শিশু-কিশোর অবসর সময় সৃজনশীল কাজে ব্যয় করছে। এতে তারা মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ বা অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারছে।
অভিভাবকদের মতে, একাডেমিতে যুক্ত হওয়ার পর তাদের সন্তানদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তারা আরও আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সামাজিকভাবে সচেতন হয়ে উঠেছে।
স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিক্ষা তাদের মানসিক বিকাশেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
ঐতিহ্য সংরক্ষণে অঙ্গীকার
একাডেমি কেবল প্রশিক্ষণ প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সচেষ্ট। লোকগান, পালাগান, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও কবিতার চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করা হচ্ছে। আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা
একাডেমির কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন, খ্যাতিমান শিল্পীদের নিয়ে বিশেষ সেমিনার এবং আন্তঃউপজেলা সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি বলেন শিশুদের দেশ প্রেম জাগ্রত ও প্রতিভা বিকাশে অনন্য অবদান রাখতে আমরা কাজ করছি
আমাদের প্রত্যাশা, পটিয়া একদিন একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে, যেখানে নিয়মিত শিল্পচর্চা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সচেতন প্রজন্ম তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি পটিয়ার সাংস্কৃতিক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে তাদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

লেখক: আলমগীর আলম।
যুগ্ম সদস্য সচিব পটিয়া সচেতন নাগরিক ফোরাম।
সাবেক সভাপতি এপেক্স ক্লাব অব পটিয়া।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট