
বসন্তের আগমনকে স্মরণ করতে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় প্রত্যয় বসন্ত উৎসব ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকর মিলনায়তনে এই আয়োজনে অংশ নেন নানা বয়সী মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী, শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীরা।
সকাল ৯টায় প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির শিক্ষার্থীদের সমবেত কণ্ঠসংগীত ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। দিনভর চলে গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা। হলুদ, বাসন্তী ও নানান রঙের পোশাকে সেজে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে প্রত্যয় মিলনায়তন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
নতুন ঋতুকে বরণ করে নিতে শনিবার সারাদিনে আরো আয়োজন ছিল বিভিন্ন ঐতিহ্যেবাহী ও মজার খেলাধুলা, চিত্র প্রদর্শনী, দলীয় ও একক নৃত্য, দলীয় ও একক আবৃত্তি, দলীয় ও একক সঙ্গীত, কথামালা, পুরষ্কার বিতরণ ও আপ্যায়ন।
বসন্ত কথন পর্বে শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব বলেন, “সংস্কৃতির যে আবহমান ধারা, তারই প্রকাশ ঘটে বিভিন্ন পার্বণে আর এ ধরণের উৎসবে। আজকে বসন্ত উৎসবে যেভাবে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ একত্রিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্রই ফুটে উঠছে। বসন্ত উৎসবের অসম্পদায়িক রূপ আবহমান বাংলার একটি চরিত্র, এটি আরও বেশি ছড়িয়ে দেয়া জরুরি।”
প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি বলেন, “মানুষের মাঝে সাংস্কৃতিক চর্চা ও মানবিকতার চর্চা যেন আরও বৃদ্ধি পায় তার জন্যই বসন্ত উৎসব উদযাপন করছি আমরা। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ও মানবিকতার জয়গান শোনাই এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পথে নিজেদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাই।”
আবৃত্তি শিল্পী নীহারিকা পাল ও নৃত্য শিল্পী হৈমন্তী দে এর প্রানবন্ত উপস্থাপনায় উৎসবে শুভেচ্ছা জানান সম্মিলিত বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এর সদস্য সচিব ডা. শাখাওয়াত হোসাইন হিরু, প্রত্যয়ের নির্বাহী সদস্য এস এম হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ ব্যাংক এর সহকারী পরিচালক সিরাজুল মোস্তফা রাজু, শিক্ষক পূরবী দে, এপেক্স বাংলাদেশ এর ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর সৈয়দ মিয়া হাসান, ব্যাংকার আলমগীর আলম, চিত্র শিল্পী টিকলু দে, জয় শীল, সঙ্গীত শিল্পী আকাশ দাশ, শিবু মল্লিক।
সারাদিন নান্দনিক আয়োজন শেষে বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের মধ্যে দিয়ে বসন্ত উৎসব শেষ হয়।
Leave a Reply