
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চকরিয়ার ঐতিহ্যবাহী পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত “ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬”। গত সোমবার (২৩ মার্চ) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মিলনমেলা রূপ নেয় এক আনন্দঘন ও স্মৃতিময় উৎসবে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও শিক্ষক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন ফারুক। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন চকরিয়া সমিতি-চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদের কার্যকরী সভাপতি আলহাজ্ব হামিদ হোছাইন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জি.এ.এম. সাইফুল হক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা কফিল উদ্দিন সাদেক, মাষ্টার ট্রেইনার মাওলানা আক্তার আহমদ, আলীর জাহাল আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রফিক বিন ছিদ্দিক, ফাঁসিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন এবং আলীকদম দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আজহারুল ইসলাম।
এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন মাষ্টার বেলাল উদ্দিন, সাবেক শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যাংকার আবুল কালাম, আব্দুল হান্নান চৌধুরী, শিলখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ, মাষ্টার মোক্তার আহমেদ, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জন নুর মোহাম্মদ, মাওলানা নুরুল কামাল এবং পেকুয়া ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম।
পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন, সহ-সভাপতি মাষ্টার শাহাদাত হোছাইন, মোহাম্মদ ইলিয়াস, আব্বাস আহমদ, জয়নাল আবেদীন, লায়ন এইচ এম ওসমান সরওয়ার, এপিপি অ্যাডভোকেট আলী ইয়াসিন, প্রভাষক আব্দুর রহিম, মুহাম্মদ ইব্রাহীম ও হোসাম উদ্দিন আসহাবী।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, সামাজিক বন্ধন জোরদার করা এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে আরও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা মাদ্রাসার ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।
এই আয়োজন প্রমাণ করেছে শিকড়ের টান কখনো ম্লান হয় না; বরং সময়ের ব্যবধানে তা আরও গভীর ও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
Leave a Reply