1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দুর্নীতি, সন্ত্রাসমুক্ত করে আধুনিক মডেল আসনে রূপান্তর করা হবে: চট্টগ্রাম ১৪ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ চন্দনাইশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন আনোয়ারা উপজেলায় আহত বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকার সিগারেট, মোবাইল ও বিউটি ক্রিম জব্দ খোলা চিঠি ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল চিটাগাং’র উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত পূর্বাশার আলো’র সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ইফতার মাহফিলে বক্তারা: রমজানে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো বিত্তবানদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য কুরআনের আলোকে অপশাসন ও জুলুম মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে : মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান দুবাইয়ে নদিমপুর প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কোতয়ালীতে স্কুলছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ,পলাতক তুষারকে ধরতে মাঠে পুলিশ

সারাদিন পানি ও রোদে  থেকেও সুফল মিলছেনা তিস্তা পাড়ের জেলেদের!

  • সময় বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৭৭৮ পঠিত
আসাদ হোসেন রিফাতঃ
সকাল থাকি সইনদ্যা (সন্ধ্যা) পর্যন্ত পানিত থাকি। দুপুরের রইদোত (রোদে) পানিত বোলান দিয়া মাছ ধরি। সকাল থাকি দোপর (দুপুর) পর্যন্ত মাছ ধরি দুই’শ টাকা বেচপার (বিক্রি) না পাই। ভারত সরকার পানিও ছাড়ি দেয় না! মাছ ও আইসেনা। হামরা এলা কি করি খাই বাহে! আগোত তিস্তা নদীতে মাছ ভাসি বেড়াইছে (ভেসে বেড়াত)। সেই মাছ বিক্রি করে ভালো ভাবে সংসার চলছিল। এভাবেই বলছিলেন তিস্তা পাড়ের (৪৮)বছর বয়সী জেলে হযরত আলী।
তিনি আরো বলেন,এ্যালা (এখন) সারাদিন ঘুরি ৩/৪ কেজি মাছ পাই। তা দিয়া ছাওয়া পোয়া(ছেলে-মেয়ে) ধরি সংসার চলে না। দিনে দিনে মাছ হারে যায়ছে।
হযরত আলীর মত তিস্তা পাড়ের জেলেরা বলেন, অনেকদিন থেকে ভালো মাছ পাইনা। ৩/৪ কেজি বৈরলী মাছ বিক্রি করে দিন চলে না। ৪/৫জন কাজ করি এইটুকু মাছ বিক্রি করে কি সংসার চলে! বন্যার সময় পানি থাকে, তখন কিছু মাছ পাওয়া যায়। পানি না থাকলে এভাবে মাছ কমে যাবে!  তিস্তা চরাঞ্চলের জেলেদের না খেয়ে মরতে হবে। সরকার আমাদের জন্য বিকল্প কাজ দিক। না হলে পরিবার নিয়ে চলবো কেমনে?
লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ৬৩টি চরাঞ্চল আছে। এসব চরাঞ্চলের জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারে ফলে প্রতিবছর তিস্তাসহ কয়েকটি নদী পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে জেলে মাছ ধরতে না পেরে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
জীবিকার জন্য এসব পরিবার নদীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করে কিছু মাছ শিকার করলেও তা দিয়ে চাল কেনার মতো টাকা জুটছে না। তাই জাল শুকিয়ে ঘরে এসে আবার পরের দিন ছুটে যান নদীর বুকে। অনেকেই পৈতৃক পেশা ছেড়ে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
মহিপুর তিস্তা চরের জেলে কুদরত আলী বলেন, নদীতে পানি নেই, মাছও নেই। যতটুকু পানি আছে, সেটাতে মাছ পাওয়া যায় না। আগে প্রতিদিন মাছ ধরে আয় হতো একজনের ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা। এখন পাওয়া যায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না।প্রচণ্ড রোদে মাছ ধরতে ঘুরে বেড়িয়েও আগের মতো জালে মাছ ধরা পড়ছেনা জেলেদের।
দিন শেষে ৩/৪ কেজি মাছ বিক্রি করে বাড়িতে ফিরতে হয় খালি হাতে। এনজিওর কাছে ঋণ নিয়ে চালাতে হচ্ছে সংসার। কিন্তু জেলেদের জন্য কিছুই করে না। তিস্তায় মাছ না পেয়ে পেশা বদলাচ্ছেন অনেক জেলে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, তিস্তায় পানি না থাকায় জেলেদের দূর্দিন। সরাদিন কাজ করেও মাছ পাচ্ছে। এখন যতটুকু মাছ পাচ্ছে তার চাহিদা বেশি।তিস্তায় যখন পানি থাকে, তখন কিছুটা মাছ পাওয়া যায়। বর্তমানে তিস্তা নদীতে পানি তেমন নেই। সরকার জেলেদের জন্য সুবিধা দিয়ে রাখেছে।কিন্তু তারা আসেন না।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট