
মোঃ শহিদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত পর্যন্ত ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৭টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয় পেয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ায় দলটি সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠিত হলে নেতৃত্বে থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তা বাস্তবায়িত হলে ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে—যা দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জোট রাজনীতির নতুন সমীকরণঃ ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭০টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন। এতে করে জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী অবস্থানও স্পষ্ট হচ্ছে।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনঃ বাংলাদেশে সর্বশেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ,যিনি ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ–এর শাসনামলে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন নারী নেতৃত্ব—বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজয়ে সংযমের আহ্বানঃ,নির্বাচনে নিরঙ্কুশ
জয়ের প্রেক্ষাপটে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছে। দলটির প্রেস উইং জানিয়েছে, দেশব্যাপী বাদজুমা শুকরিয়া আদায় ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ফলাফল চূড়ান্ত ঘোষণার পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে নীতি-অগ্রাধিকার,প্রশাসনিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন বার্তা প্রতিফলিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—যেখানে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর পুরুষ নেতৃত্বে সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply