
আজ দেশের যাত্রী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত, সাহসী কণ্ঠস্বর ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মোজাম্মেল হকচৌধুরী এর জন্মদিন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের সাধারণ যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথের যাত্রীদের নানাবিধ দুর্ভোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট সিন্ডিকেট, অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে তিনি ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। তার সাহসী অবস্থান ও আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি আজ দেশের লাখো যাত্রীর কাছে একটি আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী মূলত যাত্রী অধিকার আন্দোলনের একজন সুপরিচিত সংগঠক। তিনি বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই সংগঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার নেতৃত্বে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের সমস্যার বিষয়ে গবেষণা, প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উত্থাপন করে আসছে।
দেশের পরিবহন খাতে যখন নৈরাজ্য, অব্যবস্থাপনা এবং ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছিল, তখনই মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৃঢ় কণ্ঠে যাত্রীদের পক্ষে কথা বলা শুরু করেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ঈদযাত্রায় টিকিট সংকট, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, পরিবহন শ্রমিকদের অসংগঠিত কার্যক্রমসহ নানা সমস্যার বিরুদ্ধে তিনি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। তার এসব কার্যক্রম দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বিশেষ করে ঈদযাত্রার সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে তার ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেশের মানুষের কাছে তাকে আরও পরিচিত করে তুলেছে। প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও পরিবহন বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তার এসব উদ্যোগের ফলে বহু ক্ষেত্রে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে এবং যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী শুধু একজন সংগঠকই নন, তিনি একজন শক্তিশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্বও। টেলিভিশন টকশো, পত্রিকার কলাম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তিনি দেশের পরিবহন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্পষ্ট ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের কথা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ থাকায় তা সহজেই মানুষের মনে দাগ কাটে।
যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাকে বহুবার নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি এবং কারাবরণ করার ঘটনাও ঘটেছে। তবুও তিনি কখনোই পিছিয়ে যাননি। বরং এসব বাধা তাকে আরও দৃঢ় করেছে এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। অনেকেই তাকে “মজলুম মানুষের কণ্ঠস্বর” এবং “যাত্রী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক” হিসেবে অভিহিত করেন।
তার দীর্ঘ সংগ্রামের পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যাত্রীরা তাকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে মনে করেন। তারা বিশ্বাস করেন, মোজাম্মেল হক চৌধুরী সবসময় তাদের পক্ষে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতেও তিনি আগের মতোই সাহসী ভূমিকা পালন করে যাবেন এবং দেশের পরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
একজন আপসহীন সংগ্রামী নেতা হিসেবে মোজাম্মেল হক চৌধুরী ইতোমধ্যেই দেশের যাত্রী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন। তার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
তার জন্মদিনে দেশের সর্বস্তরের মানুষ তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অব্যাহত সংগ্রামী জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাত্রী অধিকার আন্দোলনের এই সাহসী কণ্ঠস্বর আগামী দিনেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাবেন।
শুভেচ্ছান্তে
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব
নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদ
Leave a Reply