
মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রামে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা, হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব-এর সামনে “চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ও সচেতন নাগরিক সমাজ” ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, ক্যামেরা জার্নালিস্ট, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার ও নানাভাবে হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করলেই একটি প্রভাবশালী মহল সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। এর ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঋণখেলাপি ও একাধিক মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত এস এ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাবুদ্দিন আলম ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক আরিয়ান লেলিন-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে করে একজন পেশাদার সাংবাদিককে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক আরিয়ান লেলিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণখেলাপি ও আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন। তার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসায় একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে আইনি জটিলতায় ফেলে পেশাগতভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জার্নালিস্ট ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ রানা, জাতীয় নাগরিক অধিকার ও নির্বাচন বিশ্লেষক এবং সি ভিশনের সম্পাদক এস এম আকাশ, দৈনিক এখনই সময়ের বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান কামরুজ্জামান রনি, সাংবাদিক আবু হেনা খোকন, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সোহাগ আরেফিন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তর মাহমুদ রুবেল।
এছাড়াও বক্তব্য দেন মানবাধিকার নেতা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতা শিব্বির আহমেদ, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান সমরকন্দীসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রেখা আলম, শহীদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ক্যামেরা জার্নালিস্ট শওকত, সাংবাদিক রাজীব ওসমানী, আরাফাত কাদের, রাকিব উদ্দিন, রেজাউল করিম বাবলু, সিএইচডি নিউজের আব্দুল আওয়াল মুন্না, বাবলু বড়ুয়া, আনিসুর রহমান, চ্যানেল এস প্রতিনিধি রুমেন চৌধুরী, মো. জামশেদ ইসলাম, সানি দাশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এস এ গ্রুপের এমডি শাহাবুদ্দিন আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, ঋণখেলাপি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যখনই এসব বিষয়ে কোনো সাংবাদিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, তখন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো, অপপ্রচার চালানো কিংবা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদেরই মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়, তাহলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার যেকোনো অপচেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। তাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অপপ্রচার বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক আরিয়ান লেলিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচার বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে ধারাবাহিক কর্মসূচি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার দাবি আদায় করা হবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা বলেন, কোনো ধরনের ভয়ভীতি, মামলা বা অপপ্রচারের কাছে সাংবাদিক সমাজ নতিস্বীকার করবে না। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় তারা সবসময় একসঙ্গে কাজ করবেন এবং সত্য প্রকাশের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন।
Leave a Reply