মোহাম্মদ জামশেদুল ইসলামঃ
চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেনগামী সড়ক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পানির ঢলে ধসেগেছে। এতে বন্ধ রয়েছে সড়কের এক পাশের যান চলাচল। ফলে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের।
চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন এলাকায় সেতু ভেঙে দুই ভাগ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের এ অংশে এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। অন্য পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। এতে সড়কে গাড়ির জট সৃষ্টি হয়েছে।
নগরের অক্সিজেনের স্টার শিপ গলি এলাকায় শীতল ঝরনার খালের ওপর এ সেতুর অবস্থান। সেতুটি দিয়ে নগরের ২ নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন যাতায়াত করেন লোকজন। নগরের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম সড়ক বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের ওপর অবস্থিত। নগরের ২ নম্বর গেট থেকে অক্সিজেনমুখী সড়কের ওপর থাকা সেতুর অংশ ভেঙে যায়।আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৯টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কার আভাস দেওয়া হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামশুল আলম।তিনি জানান, দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে স্টারশিপ ব্রিজ নামক স্থানের সড়ক ধসে পড়েগেছে। এর ফলে ওই সড়ক দিয়ে অক্সিজেনগামী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের একটি টিম দায়িত্বরত রয়েছে সেখানে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, সড়কের একাধিক জায়গায় ফাটল ধরে ধসে গিয়েছে। ধসে যাওয়ার অংশে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং লাল সুতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে চারপাশ।বর্তমানে সড়কের এক পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় লাল ফিতা দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে রাখা হয়েছে।আবু সালেহ নামে স্থানীয় একজন জানান, এই সড়কটি অনেক আগে থেকেই ভাঙবে ভাঙবে-এমন পরিস্থিতিতে ছিল। আমরা নিয়মিত যাওয়া-আসার সময় শঙ্কায়ও ছিলাম। আজ তা সত্যি হলো। ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না।একই এলাকার ওবায়দুল হক আসিফ বলেন, গত বছরের দিকে এই ব্রিজের এক পাশ গালকা হেলে গিয়েছিলো। তখনও ফেসবুকে পোস্ট করার পরেই সিটি করপোরেশন শুধু টিন দিয়ে ঘেরাও দিয়েছিল। আর দেবে যাওয়া জায়গায় বালু-ইটের টুকরা দিয়ে কোনোভাবে নামকাওয়াস্তে গর্ত ভরাট করা হয়।বুধবার দিবাগত রাত থেকেই চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি হয়েছে। তবে সকালের দিকে বৃষ্টি কমলেও জলজটের কবলে পড়ে অফিসগামী ও কর্মস্থলগামী মানুষ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কমতে শুরু করেছে। তবে তীব্র হয়েছে গণপরিবহন সংকট।
Leave a Reply