1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মহসিন এপেক্স বাংলাদেশের জেলা গভর্নর হিসেবে শপথ গ্রহণ। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং কর্ণফুলী এলিট এর ঈদ পুনর্মিলনী ও নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত  সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনু‌ষ্ঠিত কবিতাঃ দৃষ্টির আড়াল -মোঃ এনিত ইসলাম (ইমন) চট্টগ্রাম জামেয়া এলামনাই এসোসিয়েশন’র অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম উদ্বোধন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চোখের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। আলহাজ আবুল কাসেম বাদশার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হুমকির চারদিন পর কালুরঘাট থেকে যুবদল নেতা অপহরণ ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করলেন এস.এম. আহসানুল কবির চৌধুরী (টিটু) মেলার আমেজে নব সাজ মিয়ার হাট

“তুমি লিখে তোমার ভাবিকে দিও” -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্

  • সময় বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৪৩ পঠিত

 

আশির দশকের শেষের দিকের কথা। আমাদের পরিবারে একটা নিয়ম ছিলো বড় ভাই প্রবাস থেকে আসলে প্রতিদিন রাতে সবাই বসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলতো। আলোচনার সদস্য হলো খালাতো ভাই মরহুম জাহাঙ্গীর আলম, সেজ ভাই আবু তাহের, মেঝ মামা মরহুম জায়দুল হক, মাঝে মাঝে লুৎফুর রহমান (টুনটু) মামাও থাকতেন। সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য ছিলাম আমি। একদিন আলোচনায় উঠে আসলো পরীক্ষার নকল করা নিয়ে। পরীক্ষার্থী হলো দেবর আর ভাবী। একই কেন্দ্রে দু’জনের পরীক্ষার হল হওয়ায় একটি সুবিধা পেলো তারা। বড় ভাই নকল সাপ্লাই দেওয়ার সময় আগে ছোট ভাইকে পাঠালো। নকলের নিচে লিখে দিলেন “তুমি লিখে তোমার ভাবিকে দিও”। মূলত ছোট ভাই ছিলো লেখাপড়ায় আন্ডা মার্কা সে নকল দেখে লিখেছে ঠিকই পরীক্ষার খাতায়ও সে নিচের লেখাটি লিখে দিয়ে আসল। ভাবীকে সে নকল দেয়নি। সে মনে করেছে নিচের লেখাটাও উত্তরের একটি অংশ। পরীক্ষা শেষে বড় ভাই জিজ্ঞেস করল স্ত্রীকে তোমার জন্য নকল পাঠিয়েছিলাম পেয়েছ? একথা শুনেতো হা হয়ে গেল। স্ত্রী বলল কই আমিতো কোন কিছু পাইনি। ছোট ভাইকে ডেকে বলল কিরে তোর লেখা শেষ হলে তোর ভাবীকে দিতে বলেছিলামনা? ছোট ভাই বলল আমি মনে করেছি সেটা প্রশ্নের উত্তর! উল্লেখিত কথাগুলো নিচক গল্প হলেও এখানে শেখার আছে অনেক কিছু। নকল করে কত কিছুইনা হচ্ছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো কিছু মানুষ আরকজনকে নকল করে আরেকজনের প্রতিভাটাকে নকল করে। এক নরাধম আমার প্রতিনিধি হয়ে আমারই প্রতিষ্ঠানের নামটাকে নকল করে বসল। ঠিক আমি যেভাবে সাজিয়েছি ঠিক সেভাবেই হুবহু সবকিছু করল। কারো বিষোদগার নয় গঠনমূলক সমালোচনা করাকে আমি পছন্দ করি। এখনতো সব কপি পেস্টের মাধ্যমেই খুব সহজে করে ফেলে। সেটাকেও আমি নকল বলি। তবে একটা কথা আমার মাথায় ধরেনা যেভাবে সংবাদ থেকে শুরু করে লেখালেখিটা এখন সস্তা হয়ে গেছে আমার মনে হয় অদূর ভবিষ্যতে সেটা মূল্য হারাবে। আরে ভাই নকল করছ কর তবে অন্ততঃ নিজের নামটা ডুবাবে কেন? খবরের মূল বিষয়টি নিয়ে বাকী গুলো নিজ থেকে পরিবেশন কর তাহলেইতো হয়। এখনতো আরেকটি নকলবাজ দেখি কাব্য নিয়ে। কবিতা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়। বস্তুত এরা সেই দেবরের মতো নকল করা লোক। মেধাকে কাজে না লাগিয়ে সর্টকার্ট পন্থা আর কপি পেস্ট এর ভীড়ে আমরা হারাতে বসেছি জ্ঞান চর্চা। সবচেয়ে বড় বিষয় অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। তাদের ভুল গুলো যদি আপনি ধরিয়ে দেন তালে নির্ঘাত শত্রু হবেন। একসময় যোগাযোগ মাধ্যম ছিল খুবই ক্ষীণ। জানার জন্য শুধু মাত্র বই আর টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা ছাড়া তেমন কিছু ছিলনা তবুও মানুষ জানতে চেষ্টা করেছে, পড়তে চেষ্টা করেছে। এখন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় মানুষ জানতে চায় কম, পড়তে চায় কম কিন্তু বলতে চায় বেশি, জাহির করতে চায় বেশি। এত জানার সুযোগটাকে অপব্যবহার করছে। বিজ্ঞানকে অভিশাপ বানিয়েছে তারা। অথচ বিজ্ঞান এসেছে আশীর্বাদ হয়ে। সেই নকল করা লোক গুলো এখন খাবার, ঔষধ থেকে শুরু করে সবকিছুই নকল করা শুরু করেছে। এমনকি ভালোবাসা, মায়া, মমতা, বন্ধু, আত্মীয়তার বন্ধন সবি নকল।

লেখকঃ কবি ও সাংবাদিক

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট