
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে শুরুতে নানা উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীরা নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন- যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত।
কেন্দ্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভোটার, প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকসহ সর্বস্তরের মানুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং দায়িত্বশীল মনোভাব নির্বাচনকে করেছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োপযোগী, পেশাদার ও মানবিক তৎপরতায় সার্বিক পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। কোথাও উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হওয়ায় তাঁদের বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি।
বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলসহ সারাদেশে যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশারই প্রতিফলন। এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে- শান্তি, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ বিদ্যমান থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফলভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
গণতন্ত্রের পথে সৌহার্দ্যের এই বিজয়ধ্বনি শুধু একটি নির্বাচনের সাফল্য নয়- এটি প্রমাণ করে, জিতেছে সৌহার্দ্য, জিতেছে বাংলাদেশ।
লেখক : উৎফল বড়ুয়া, মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মী।
Leave a Reply