
মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কমলমুন্সিহাট এলাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সেলুনগুলোতে এখন চলছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। বিশেষ করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিচে অবস্থিত জনপ্রিয় “শয়ন সেলুন”-এ প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাস্টমারের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের আগে নিজেকে পরিপাটি ও আকর্ষণীয় করে তুলতে মানুষ ছুটছেন সেলুনে, যার ফলে নাপিতদের এখন দম ফেলারও সময় নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, শয়ন সেলুনে একদিকে যেমন চুল কাটার ব্যস্ততা, অন্যদিকে দাড়ি সেট, ফেসিয়ালসহ বিভিন্ন গ্রুমিং সেবার জন্য ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ ও বয়স্ক—সব শ্রেণির মানুষ ঈদ উপলক্ষে নিজেদের সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শয়ন সেলুনের পরিচালক শয়ন শীল বলেন, “প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর কাস্টমারের চাপ অনেক বেশি। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে ভালোভাবে সেবা দিতে, তবে কখনো কখনো অতিরিক্ত চাপের কারণে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ৫ জন কর্মী আছে যারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। ঈদের আগে এই সময়টাতে আমাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময় যায়।”
সেলুনে আসা কাস্টমারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ঈদের আগে চুল কাটা ও দাড়ি ঠিক করা এখন এক ধরনের আনন্দের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক কাস্টমার বলেন, “ঈদের আগে নতুন লুকে নিজেকে সাজাতে ভালো লাগে। তাই ভিড় হলেও আমরা আসছি। সার্ভিস ভালো হওয়ায় অপেক্ষা করতেও সমস্যা হয় না।”
আরেকজন কাস্টমার বলেন, “এখানে কাজ ভালো হয়, তাই একটু সময় বেশি লাগলেও আমরা এখানেই আসি। ঈদের সময় সবাই ব্যস্ত থাকে, এটা স্বাভাবিক।”
স্থানীয়দের মতে, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সেলুনগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন নাপিতদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে কমলমুন্সিহাটের সেলুনগুলোতে এখন জমে উঠেছে প্রাণচাঞ্চল্য, আর সেই ব্যস্ততার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শয়ন সেলুন।
Leave a Reply