
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার নেপথ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়ার বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, আপন চাচাতো ভাই তেজ বড়ুয়াই টাকার দলিল গায়েব করতে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে সুজন বড়ুয়া নিজেই গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য দাবি করেন।
এর আগে গতকাল শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে।
সুজন বড়ুয়া জানান, বিভিন্ন সময়ে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই তেজ বড়ুয়াকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ধারের প্রমাণ হিসেবে একটি আইনগত স্ট্যাম্পে তেজ বড়ুয়ার স্বাক্ষরও নিয়েছিলেন তিনি।
সুজনের দাবি, ওই পাওনা টাকার দলিলটি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই গভীর রাতে ঘরে ঢুকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়।
প্রতিবেশীদের বরাতে তিনি আরও জানান, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর স্ত্রী এনি বড়ুয়া ঘাতক হিসেবে তেজ বড়ুয়ার নাম স্পষ্ট করে বলে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ সুজন বড়ুয়ার ঘর থেকে চিৎকার শুনে তাঁরা ছুটে যান। এ সময় তাঁরা দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচ বছরের শিশুপুত্র পিয়াসকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েই দরজার সামনে মাটিতে ঢলে পড়েন মা এনি বড়ুয়া (৪০) এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে গিয়ে সুজনের কিশোরী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার (১৬) ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান।
প্রিয়ন্তী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হওয়ায় আজ সকালে তার সহপাঠীরা এলাকায় জড়ো হয়ে এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।
রবিবার সকালে লাশ দুটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান জানান, নিহতদের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তবে গুরুতর আহত শিশু পিয়াস বড়ুয়া বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
Leave a Reply