1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
“হযরত ওসমান (রাঃ)” রচনায়ঃ মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম (খাজা হাবীব ) অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা খানের সাথে আসফ নেতৃবৃন্দের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় “নববর্ষের চেতনা” রচনায়ঃ মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম (খাজা হাবীব ) সিলেটে ঈদ উপহার দিলেন মনচন্দ্র সুশীলা, বিমান পটু ও রেনুপ্রভা প্রিয়রঞ্জন ফাউন্ডেশন বটতল ফাউন্ডেশন এর উপদেষ্টা ও কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা মাইজভান্ডারি সূর্যগিরি আশ্রম শাখার উদ্যোগে ঈদ বস্ত্র-সামগ্রী প্রদান “বাঁকা চাঁদের হাসি” রচনায়ঃ মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম (খাজা হাবীব ) পটিয়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা তসলিম উদ্দীন রানা সিলেটে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন সিলেট চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন “ঈদুল ফিতর” রচনায়ঃ মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম (খাজা হাবীব)

আশুরার ফজিলত

  • সময় সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৪৮ পঠিত
পবিত্র আশুরার ফজিলত এবং আহলে বাইতের মর্যাদা ও তাঁদের প্রতি ভালোবাসা”
মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন কাদেরী
আল্লাহর নামে শুরু করছি, আসমান-যমীন সৃষ্টিকাল হতেই এ মহররম মাস টি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে আসছে। এ মাসের ফযিলত বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন: “মুহররম মাস হচ্ছে সমস্ত মাসের সরদার।” (আল হাদিস) এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহররম ‘আশূরা’র দিন, মুহররম মাসের শ্রেষ্ঠতম দিন। দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। যেটি  আরবী “আশারুন” শব্দ হতে উদগত, অর্থাৎ দশ, মুহররম মাসের দশম দিনটি আশূরা হিসেবে পরিচিত।
আশূরা করে নামকরণ:
———–
আশূরার নামকরণের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেন। তবে অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম বলেন, এ দিনটি মুহররম মাসের ১০ তারিখ বলেই এটার নাম ‘আশূরা’ হয়েছে।
“আ’শুরা ও তাসূয়া’ দুটি প্রশিদ্ধ নাম, আ’শুরা হলো মুর্হারমের দশম তারিখ আর তাসূয়া’ হলো- নবম তারিখ” ( কাশ্শাফুল ক্বান্না ২/১৮)
কোন কোন আলিম বলেন, আল্লাহ পাক উম্মতকে যে দশটি বুযূর্গ দিন উপহার দিয়েছেন, তন্মধ্যে আশূরার দিনটি ১০ম স্থানীয়। এ কারণেই এটার নাম ‘আশূরা’ রাখা হয়েছে। আবার কারো মতে, এই দিনটিতে যেহেতু আল্লাহ পাক স্বীয় দশজন নবীকে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন রহমত দান করেছিলেন তাই এটার নাম আশূরা হয়েছে।
১০ই মুহররমবা আশূরার দিনের বরকতময় ঘটনাসমূহঃ সৃষ্টির সূচনা হয় এই দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয়।
প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পযর্ন্ত প্রায় সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামের উল্লেখযোগ্য কোনো না কোনো ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গত কারণেই এ দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, সাথে সাথে রহমত, বরকত ও মাগফিরাত হাছিল করার দিনও।
এই আশূরার দিনে অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে- যা সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হলো:
১. মহান আল্লাহ পাক এই মুহররমের ১০ তারিখে সৃষ্টির সূচনা করেন।
২.আশূরার দিন শুক্রবার ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
৩. এ দিনই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র ওজুদ (সৃষ্টি)  মুবারক হয় এবং ইছমত, সম্মান ও খুছূছিয়ত এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।
৪.এই দিনে হযরত আদম আলাইহিস্ সালামের দোয়া কবুল করা হয়।
৫.এই দিনে হযরত ইদ্রিস আলাইহিস্ সালামকে সম্মানিতস্থানে তথা আকাশে তুলে নেয়া হয়।
৬.এই দিনে হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর সঙ্গী সাথীদের আল্লাহ পাক মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি দেন।
৭.আল্লাহ পাক এদিনে হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামের সাথে কথা বলেন এবং তাঁর উপর তাওরাত শরীফ নাযিল করেন।
৮. এদিনে বণী ইস্রাঈল সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ পাক সাগরের উপর দিয়ে রাস্তা করে দেন। যার উপর দিয়ে হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর সম্প্রদায় পার হয়ে যান। আর ফেরাউন দলবল ও সৈন্যসামন্তসহ পানিতে ডুবে মারা যায়।
৯.আল্লাহ পাক এদিনে হযরত ইউনূস আলাইহিস্ সালামকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেন।
১০.হযরত আইয়ুব আলাইহিস্ সালামকে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থতা দান করেন।
১১.এদিনে দীর্ঘ দিন বিচ্ছেদের পর হযরত ইউসূফ আলাইহিস্ সালামকে তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্ সালামের কাছে ফিরিয়ে দেন।
১২.আল্লাহ পাক এদিনে হযরত সোলায়মান আলাইহিস্ সালামকে তাঁর রাজত্ব বা কর্তৃত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন।
১৩.আল্লাহ পাক এ দিনে হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামকে আসমানে তুলে নেন।
১৪.এদিনে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের বিলাদত শরীফ, খলীল উপাধি লাভ এবং নমরূদের অগ্নিকুন্ড থেকে মুক্তিলাভ করেছিলেন।
১৫.এ দিনে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের দুয়া কবুল এবং তাঁর পুত্র হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ব প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
১৬.এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম যমীনে বৃষ্টি নাযিল করেন।
তবে এই ১০ই মুহররম আল্লাহ পাকের হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয়তম দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন, যে ঘটনা বিশ্ববাসীকে ব্যথিত ও মর্মাহত করে, তবে মুসলিম উম্মাহকে শিক্ষা দেয় ত্যাগের ও সত্যের।
সুতরাং এই পবিত্র মুহররম মাসটি সকলের জন্যই রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত হাছিল করার মাস। সে জন্যই অতীতের সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম এই পবিত্র মুহররম মাসকে সম্মান করেছেন।
আশূরা দিনের আমল:
———
রোযা রাখা: আশূরার একটি অন্যতম আমল হচ্ছে আশূরার রোযা, তথা ১০ই মুহররম উপলক্ষে দুটি রোযা রাখা। অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ। শুধু ১০ তারিখ রোযা রাখা মাকরূহ। কারণ এদিন ইহুদীরাও রোযা রাখে। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
“তোমরা আশূরা উপলক্ষে রোযা রাখো এবং  ইহুদীদের খিলাফ করো। তোমরা আশূরার দিন এবং এর পূর্বে অথবা পরে আরেকটি রোযা রাখো।” অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ রোযা রাখো।  (আহমদ-১/২৪১, ইবনু খোযাইমা-২০৯৫, বায়হাক্বী-৪/২৮৭)
এ প্রসঙ্গে বুখারী ও মুসলিম এ বর্ণিত হয়েছে:
“হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় তাশরীফ নিয়ে এলেন তখন তিনি লক্ষ্য করলেন ইহুদীরা আশূরা’র দিনে রোযা পালন করছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেনঃ এই দিনে রোযা রাখার তাৎপর্য কি? তারা বললোঃ এই দিনটির অনেক বড় তাৎপর্য রয়েছে, আল্লাহ মূসা আলাইহিস্ সাল্লাম ও তাঁর অনুসারীদের মুক্তি দিয়ে ছিলেন এবং ফেরাউন ও তার অনুসারীদের ডুবিয়ে মেরে ছিলেন। হযরত মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ঘটনার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ রোযা রাখতেন আর তাই আমরাও রাখি। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো বেশি হক্বদার ও নিকটবর্তী, সুতরাং তোমাদের চেয়ে আমাদের রোযা রাখার অধিকার বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরা’র রোযা রাখতেন এবং অন্যদেরকে এই রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন”  (  সহিহ মুসলিম:৬/২৫২০. বুখারী:৫/৫৮:হাদিস-২৭৯)
হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:-
“রমাদ্বান শরীফ-এর পর সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ রোযা হচ্ছে- মুহররম তথা আশূরার রোযা এবং ফরয নামাযের পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নামায হলো রাতের নামায বা তাহাজ্জুদ নামায  (  সহিহ মুসলিম-১৯৮২ )
হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশূরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন
“আরাফাহ দিনের রোযা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয় আর আশুরার রোযা  বিগত এক বৎসরের গুনাহর মাফ করে দেয়।” (মুসলিম শরীফ-১১৬২ )
পবিত্র আশূরার দিন পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়ানো: পবিত্র আশূরার দিন পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়ানো সম্পর্কে হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, সাইয়িদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
“যে ব্যক্তি আশূরার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাদ্য খাওয়াবে ও ভালো পোষাক পরাবে আল্লাহ পাক সারা বছর তাকে সচ্ছলতা দান করবেন।”  ( তাবারানী শরীফ ) তাই পবিত্র আশূরার দিন ভালো খাদ্য খাওয়া, খাওয়ানো, পরিধান করা ও পরিধান করানো মুস্তাহাব।
এ মাসে আহলে বায়ত বা নবী বংশের প্রতি সম্মানজ্ঞাপন ও অন্যতম আমল।
আহলে বাইত বা নবীবংশের পরিচয়ঃ-
দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, আমরা মুসলমান হয়েও আহলে বাইত তথা আউলাদে রাসূলকে চিনি না বা চেনার চেষ্টাও করি না। আবার কোন সময় চিনলেও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করি না। এটা কি আমাদের জন্য লজ্জার নয়? বস্তুত আহলে বাইত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় ও স্নেহের পাত্র। সেদিকে নির্দেশ করেই আল্লাহর রাব্বুল আলামীন পবিত্র ক্বোরআনুল করীম এরশাদ ফরমান : (হে হাবীব) আপনি বলে দিন যে, আমি (রাসূল) তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাই না, আমার বংশধরগণ ও নিকটাত্মীয়দের ভালোবাসা ব্যতীত। [সূরা শুরা-২৩]
এই আয়াতে কারীমা নাযিল হওয়ার পর, সাহাবায়ে কেরাম রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র নিকট স্বীয় আত্মীয় সম্পর্কে বিনয়ের সাথে জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকটাত্মীয় কারা? যাঁদের প্রতি (আমাদের) আন্তরিক ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব।
[তাফসীর ইবনে কছীর- ২য় খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা]
সরকারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন- তাঁরা (আহলে বাইত) হলেন হযরত আলী, হযরত ফাতিমা, হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম এবং তাদের উভয়ের আওলাদ।
[যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব, সাওয়াইক্বে মুহরিক্বা, খুৎবাতে মুহররম- পৃষ্ঠা২৫৬, মুফতি জালালুদ্দীন আমজাদী রহ.]
বস্তুত আহলে বাইত ছিলেন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর খুবই আপনজন। পবিত্র ক্বোরআনে তাদের পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ্ পাকের ইরশাদ- ‘‘হে আহলে বাইত! নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। [সূরা আহযাব: ৩৩]
আয়াতটি নাযিল হলে হযরত আবু সাঈদ খুদরী, হযরত আয়েশা সিদ্দিকা ও উম্মে সালমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) বলেন, এটি ‘‘আহলে বাইত’’ তথা মা ফাতেমা, হযরত আলী, ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আহলে বাইতে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচয়ে প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু এবং তাবেঈ হযরত মুজাহিদ, হযরত ক্বাতাদাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা সহ অন্যান্য মুফাস্সিরের মতে আহলে বাইত বলতে ‘‘আহলে আবা’’ অর্থাৎ চাদরাবৃতদেরকে বুঝানো হয়েছে। প্রশ্ন হলো কারা এই চাদরাবৃত? এই প্রসঙ্গে একটি হাদীস শরীফে এসেছে- হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম প্রত্যুষে বের হলেন, তখন তাঁর শরীর মুবারক কালো নকশা বিশিষ্ট চাদর দ্বারা আবৃত ছিল। অতঃপর ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আসলে নবীজী তাঁকে চাদরের মধ্যে শামিল করে নিলেন, এরপর ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এলে তাঁকেও নবীজী চাদর মুবারকে জড়িয়ে নিলেন। অতঃপর আসলেন হযরত মা ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা আল্লাহর রসূল তাঁকেও চাদরের অভ্যন্তরে নিয়ে নিলেন। সর্বশেষ এলেন শেরে খোদা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু। তাঁকেও তাঁর নূরানী চাদর মুবারকে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর তিলাওয়াত করলেন- হে আহলে বাইত! নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। [সূরা আহযাব-৩৩]
অতঃপর রব্বুল আলামীনের দরবারে এই দোয়া করলেন- আল্লাহুম্মা হা-উলায়ে আহলু বাইতি ওয়াখাচ্ছাতি ফাআজহিব আনহুমুর রিজসা ওয়াতাতহিরহুম তাতহীরান।
অর্থাৎ হে আল্লাহ্। এরাই আমার আহলে বাইত এবং বংশীয় ও ঘনিষ্ঠজন। আপনি এদের থেকে অপবিত্রতা দূরীভূত করুন আর এদেরকে পরিপূর্ণভাবে পবিত্র করুন।
[মুসলিম শরীফের বরাতে মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ৫৬৮]
অপর এক হাদীসে পাকে এসেছে হযরত উসামা ইবনে যায়দ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন, ‘‘আমি নবীজীর খিদমতে উপস্থিত হয়ে দেখলাম নবীজী এমনভাবে কম্বল জড়িয়ে আছেন যে, মনে হলো তার ভিতরে কিছু লুকিয়ে রেখেছেন। আমি আবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়কা ওয়াসাল্লাম, কম্বলের ভিতরে কী যেন লুকিয়ে আছে মনে হচ্ছে? সাথে সাথে নবীজী কম্বলখানা খুলে দিলেন। তখন দেখা গেল নবীজীর নূরানী কোলে বসে আছেন ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা। অতঃপর নবীজী ইরশাদ করলেন- আল্লাহুম্মা ইন্নি উহিব্বুহুমা ফাআহিব্বাহুমা ওয়া আহিব্বা মান আহাব্বাহুমা। অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমি এই দু’জনকে ভালোবাসি সুতরাং তুমিও এদেরকে ভালোবাস এবং ভালোবাস তাদেরকে যারা এদেরকে ভালোবাসবে। [তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ৫৭০]
অতএব, প্রতীয়মান হলো যে, আহলে বায়ত হলো শেরে খোদা আলী, হযরত মা ফাতেমা, হযরত ইমাম হাসান, হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম ও তাঁদের সন্তানগণ।
আহলে বাইতে রাসূল’র মর্যাদা
যবেহ ইসমাঈল যে যিবহে আযীম দ্বারা পরিবর্তন হয়, তা হুযূর নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের পর পূর্ণতা লাভ করে। প্রসঙ্গে ড.আল্লামা ইকবাল রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন,
‘‘সিরের ইবরাহীম ইসমাঈল বুয়দ
ইয়া’নি ইসমাঈল রা তাফসীলে বুয়দ।’’
অর্থাৎ ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম এবং হযরত ইসমাঈল আলায়হিস্ সালাম-এর সেই কোরবানির ঘটনা ছিল এক গূঢ় রহস্য, আর তার প্রাকটিক্যাল নমুনা হলো কারবালার যমীনে ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত। হুযূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত শরীফের পর শেরে খোদা হযরত আলী ও নবী দুলালী মা ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-এর বংশ অব্যাহত থাকে। সেই শাহাদাত সংঘটিত হওয়ার সময় যাকে যবেহ ইসমাঈল প্রতিপাদ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ কারবালার ময়দানের ঘটনা নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের পবিত্র রক্তে রঞ্জিত এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আর আহলে বাইত তথা আউলাদে রাসূলগণকে আল্লাহ্ তা‘আলা যে মর্যাদা দান করেছেন তা সাধারণ মুমিন মুসলমানদের দেয়া হয়নি। কারণ তাঁরা আল্লাহর রাসূলের বংশধর। ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে আল্লাহর রাসূল নিজের পুত্রের মত ভালোবাসতেন। হাদীসে পাকে এসেছে- হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাস‘ঊদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি দেখেছি, নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের হাত ধরে বলেছেন- এরা আমার সন্তান।
[দায়লামী আল্ ফিরদাউস বিমা’ সূরিল খিতাব-৪/৩৩৬ হাদীস ৫৯৭৩]
ইমাম হাসান ও হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমার সাদৃশ্য হাদীসে পাকে এসেছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে। হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তাঁরা সবচেয়ে বেশী সদৃশ ছিলেন।
[আসকালানী, আল্ ইসাবা ফি তাময়িজিস সাহাবা ২/৭৭ হাদীস ১৭২৬]
তাবরানী শরীফের এক হাদীসে পাকে রয়েছে- হযরত মাওলা আলী শেরে খোদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন হযরত ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বক্ষ থেকে মাথা মুবারক পর্যন্ত, আর ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ছিলেন বক্ষ থেকে পা মুবারক পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পুরোপুরি সদৃশ। [আল্ মুজামুল কবির, ৩/২৯ হাদীস ২৫৭]
আহলে বাইত সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত বংশের অধিকারী
নবী-বংশ সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। এ প্রসঙ্গে হাদীস পাকে এসেছে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা হযরত ইসমাঈল আলায়হিস্ সালাম-এর আউলাদগণের মধ্যে কেনান গোত্রকে নির্বাচন করেছেন। তার মধ্য থেকে কোরাইশ বংশকে আর কোরাইশ বংশ হতে বনী হাশেমকে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বনী হাশেম হতে আমাকে মনোনীত করেছেন।
[বরকাতে আলে রাসূল: পৃষ্ঠা ৯১, খুৎবাতে মুহররম পৃষ্ঠা ২৪৩]
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- একদিন জিবরাঈল আমীন এসে আমাকে বললেন- আমি জমিনের পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত সবখানে তালাশ করলাম, কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হতে উত্তম মর্যাদাবান সম্মানিত কাউকে খুঁজে পাইনি।
তাবরানী শরীফে ও দারু কুতনীর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে- রাসূলে পাক ইরশাদ করেছেন- কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে সর্ব প্রথম ‘আহলে বায়ত’ এর জন্য আমার শাফা‘আত হবে; অতঃপর অন্যান্যের জন্য। আল্লাহর নবী ইরশাদ করেন, ‘‘আমি যাদের জন্য/যার জন্য সর্বপ্রথম সুপারিশ করব। তারাই সর্বাধিক মর্যাদাবান হবে।’’[আশরাফুল মুয়াববাদ: পৃষ্ঠা ৩৯]
এ সব হাদীসে পাক থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আহলে বাইত অতি মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ আসনে সমাসীন।
আহলে বায়তের প্রতি মুহাব্বত:
আহলে বাইতের প্রতি মুহাব্বতের বহু রেওয়ায়ত বিদ্যমান। তৎমধ্যে তিরমিযী শরীফে উল্লেখ রয়েছে- হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজের সময় আরাফাত দিবসে রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে ‘ক্বাসওয়া’ নামক উটের উপর আরোহনরত অবস্থায় বলতে শুনেছি ও দেখেছি- নবীজী ইরশাদ করলেন- হে মানব সম্প্রদায়! আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর তাহলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো কিতাবুল্লাহ্ ও আমার বংশধর- আমার আহলে বাইত।
[মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ৫৬]
তাবরানী শরীফে এসেছে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন বান্দা মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমাকে নিজের জীবন থেকে, আমার বংশধরকে তার বংশধর থেকে, আমার পরিবার-পরিজনকে তার পরিবার-পরিজন থেকে এবং আমার সত্তাকে তার সত্তার চাইতে বেশি ভালোবাসবে না।
আউলাদে রাসূলকে যে যত বেশি ভালোবাসবে ও সম্মান করবে সে তত বেশী সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে। হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত- নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি হাসান-হোসাইন আলায়হিমাস্ সালামকে ভালোবেসেছে, সে যেন বাস্তবে আমি রাসূলকে ভালোবেসেছে।
[ইবনে মাজাহ আস্ সুনান, ইমাম আহমদ- আল্ মুসনাদ, নাসায়ী- আস্ সুনানুল কুবরা ও ফাযায়িলুস্সাহাবা। যথাক্রমে হাদীস নং ১৪৩,৭৮৬৩,৮১৬৮ ও ৬৪]
আর যাকে আল্লাহর রাসূল ভালোবেসেছেন, আল্লাহ্ও তাঁকে ভালোবাসবেন। সুতরাং আল্লাহ্ যাকে ভালোবাসবেন নিঃসন্দেহে তিনি তাঁকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাদীস পাকে এসেছে- হযরত সালমান ফারসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, হযরত রাসূল করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইমাম হাসান-হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা সম্পর্কে বলেছেন, যে ব্যক্তি তাঁদেরকে ভালোবাসবে তাকে আমি ভালোবাসবো, আর যাকে আমি (নবী) ভালোবাসবো, তাকে আল্লাহ্পাক ভালোবাসবেন, আর আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন যাকে ভালোবাসেন তাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যা নেয়ামত দ্বারা পরিপূর্ণ।
[তাবরানী: আল্ মু’জামুল কবীর ৩/৫০ হাদীস ২৬৫৫ হায়সমী: মাজমাঊয যাওয়ায়েদ ৯/১৮১]
এমনকি দুনিয়ার শেষ পরীক্ষা অর্থাৎ মৃত্যুর পরীক্ষায় ও আউলাদে রাসূলের নেগাহে করমে ও দোয়ার বরকতে সফলতা লাভ করা যাবে, যা আল্লাহ রাসূলের একাধিক হাদীসে পাক দ্বারা সুস্পষ্ট। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নবী বংশের ভালোবাসায় ইন্তেকাল করলো, সে যেন ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় ইন্তেকাল করল এবং আর যে ব্যক্তি নবী বংশের ভালোবাসা নিয়ে ইন্তেকাল করলো সে যেন তাওবাকারী রূপে ইন্তেকাল করল। এবং যে নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের ভালোবাসার উপর ইন্তেকাল করলো, সে যেন মু’মিন হিসেবে ইন্তেকাল করলো। [খোতবাতে মুহাররম: ১৪১]
আহলে বাইতের মর্যাদা ও সম্মানের ব্যাপারে হযরত আবূ বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (যার হাতে আমার প্রাণ এ সত্তা, তাঁর কসম) আমার নিকট আমার আত্মীয়গণ অপেক্ষা নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয় ও বংশধরের ভালোবাসা অধিক প্রিয়। [বুখারী শরীফ ও আশশারফুল মুআব্বদ : পৃষ্ঠা ৮৭]
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, আলে রাসূলকে মহব্বত করা একশ বৎসর ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। [আশশারফুল মুআব্বাদ: পৃষ্ঠা ৮৭]
ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, আমি আহলে বাইতে রাসূলকে এতবেশি ভালোবাসতাম যে, লোকেরা আমাকে রাফেযী বলা শুরু করল। আমি তাদের জবাবে বললাম, আলে রাসূলের প্রতি ভালোবাসার নাম যদি রাফেযী হয়, তাহলে হে জ্বিন জাতি ও মানবজাতি ও বিশ্ববাসী সাক্ষী হয়ে থাক, এই অর্থে আমি রাফেযী। এরপর আহলে বাইতের মহব্বতে তিনি আরো বলেন, হে নবীজীর বংশধরগণ, আপনাদের মহব্বত করা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরয। আর এই হুকুম মহান আল্লাহর পবিত্র ক্বোরআনে নাযিল করেছেন। তদ্রুপ তাঁদের সাথে যারা শত্র“তা পোষণ করবে তারা মূলত আল্লাহ্ ও রাসূলের সাথে শত্র“তা পোষণ করে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে– আল্লাহর ক্রোধ অতীব কঠোর ও কঠিন হবে যারা আমার বংশধরকে কষ্ট দিয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন যে আমার বংশধরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে আমার সাথেই বিদ্বেষভাব পোষণ করল। নবীজী আরো বলেন- হোসাইন আমার থেকে আমি হোসাইন থেকে, যে হোসাইনকে ভালোবাসে তাকে মহান আল্লাহ্ ভালোবাসেন।
[তিরমিযি শরীফ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮২]
নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নামাযরত ছিলেন। ইমাম হোসাইন নিজ ঘর হতে বের হয়ে মসজিদে নববীতে গেলেন এবং দেখতে পেলেন নানাজান রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে নামাযরত। শিশু ইমাম হোসাইন কালবিলম্ব না করে আল্লাহর রাসূলের কাঁধ মুবারকে ওঠে গেলেন। হুযূর-ই আকরাম সাজদাকে দীর্ঘ করে দিলেন। রাসূলুল্লাহরও ইচ্ছা ইমাম হোসাইন যতক্ষণ নিজের ইচ্ছায় নামবে না ততক্ষণ অবস্থান করুক।
এক পর্যায়ে ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু অবতরণ করলে সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামও মাথা মুবারক সাজদা হতে উত্তোলন করলেন। নামায শেষে সাহাবীরা সাজদা দীর্ঘ করার কারণ জানতে চাইলেন এবং বললেন আজ থেকে কি সাজদা দীর্ঘ করার কোন হুকুম এসেছে? হে আল্লাহর রাসূল! হুযূর-ই আকরাম উত্তরে বললেন, ‘না, সাজদা দীর্ঘ করার কারণ- আমার হোসাইন আমার কাঁধে উঠে গিয়েছিল। আর সে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাওয়ার আশঙ্কায় আমি সাজদা দীর্ঘ করি। [মুস্তাদরাক: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠ ১৬৬]
ইমাম হোসাইনের এতটুকু কষ্টও নবীজী সহ্য করতে পারলেন না, তাও আবার নামাযরত অবস্থায়। তাহেল ৬১ হিজরি সনে করবালার প্রান্তরে কুখ্যাত ইয়াযীদের নরপশুরা সেই ইমামের নূরানী দেহ মুবারকে কত ধরনের নির্যাতন চালিয়ে পরিশেষে দেহ মুবারক হতে মাথা মুবারককে বিচ্ছিন্ন করে উল্লাস করল! (নাঊযুবিল্লাহ্)। এতে নবীজী কত কষ্ট পেয়েছেন তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।
পরিশেষে, বর্তমানে এক শ্রেণীর লোক আশুরার নামে যে মাতম করে ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে ছুরিও ব্লেড দিয়ে শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করে তা মোটেও ইসলাম ও শরিয়ত সমর্থিত নয়। তাই সকল প্রকার কুপ্রথা মর্সিয়া, মাতম বর্জন করে শাহাদাতে কারবালার প্রকৃত শিক্ষা ও তাৎপর্য বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। তাইতো বলা হয় ‘‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকে বাদ।’’ আমাদের সকলের অন্তরে যেন আহলে বাইতে রাসূলের প্রতি মহব্বত ও সম্মান বিরাজমান রাখতে পারি আল্লাহ সেই তাওফীক্ব দান করুন। আ-মী-ন।
লেখক-
শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক
খতিব: মসজিদ-এ রাহমানিয়া গাউসিয়া,শীতলঝর্ণা আ/এ,বায়েজিদ, চট্টগ্রাম।
উপাধ্যক্ষ- মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া, মোহরা, চট্টগ্রাম।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট