1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সেন্টার অব এক্সিলেন্স এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ’র জরুরি সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পথে, আরও ৭৮টির পরিকল্পনা : চসিক মেয়র বোয়ালখালীতে গভীর রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে হার্ডওয়্যার দোকান ভস্মীভূত, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ পাহাড় মেতেছে বিজুর আমেজে-নদীতে ফুল অর্পণের মধ্য দিয়ে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব শুরু প্রবাল এক্সপ্রেসে ইট-পাথর নিক্ষেপ ইসলামাবাদে যাত্রী আহত, নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ নাগরিক ছাত্র ঐক্য চট্টগ্রামে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ‘সোশ্যাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক: পহেলা বৈশাখ -লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া চন্দনাইশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রথমবারের মতো সম্মিলিত বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা ১৪৩৩ বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার থেকে ১৫ কোটি টাকার ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ, গ্রেফতার- ৯ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড মেলায় ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন

লালন সাধনার এক অনন্য দূত ফরিদা পারভীন। -সোহেল মো. ফখরুদ-দীন

  • সময় রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২৫ পঠিত

 

বাংলাদেশের লোকসংগীতাঙ্গনে আজ এক শূন্যতার দিন। লালনগীতির মহান সাধিকা ফরিদা পারভীন চলে গেলেন না–ফেরার দেশে।১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার মহাখালীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
শিল্পী ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মধ্যে থেকেও শিল্পী গান থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি বিদায় নিলেন। রবিবার সকাল থেকে তাঁর মরদেহ শ্রদ্ধা জানানো ও জানাজা শেষে কুষ্টিয়ায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে এমন কথা বলেছে পারিবারিক স্বজনরা।
শিল্পী ফরিদা পারভিন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ফরিদা পারভীন শৈশব কেটেছে মাগুরা, নাটোর ও কুষ্টিয়ার নানা জেলায়। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আকর্ষণ ছিল প্রবল। বাবার উৎসাহে ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে সংগীতে হাতেখড়ি নেন। পরে নজরুলসংগীত ও আধুনিক গান গেয়ে সংগীতজীবন শুরু করলেও লালনগীতি তাঁকে এনে দেয় বিশ্বজনীন পরিচিতি। ১৯৭৩ সালে কুষ্টিয়ার মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে ফরিদা পারভীন প্রথম লালনগীতির তালিম নেন। তাঁর গাওয়া প্রথম লালনের গান ছিল—“সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন।” সেদিন থেকেই শুরু হয় লালনের সাধনায় আজীবনের নিবেদন। পরে খোদা বক্স সাঁই, করিম সাঁইসহ বহু সাধকের কাছে তালিম নিয়েছেন তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়জুড়ে ফরিদা পারভীন ছিলেন লালনগীতির এক অনন্য সাধিকা। তাঁর কণ্ঠে লালনের গান হয়ে উঠেছে গভীর আধ্যাত্মিকতার বাহন। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেনসহ বহু দেশে তিনি লালনের গান পৌঁছে দিয়েছেন স্ব কন্ঠে।
১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা তাঁর ঝুলিতে জমা হয়। “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি”, “নিন্দার কাঁটা”, “এই পদ্মা এই মেঘনা”সহ অনেক গান আজও মানুষের হৃদয়ে অম্লান।ফরিদা পারভীন শুধু একজন সংগীতশিল্পী নন, তিনি ছিলেন লালনসাধনার এক অনন্য দূত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গানের বিদ্যালয় অচিন পাখি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লালনের দর্শন ও গানের বাণী পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি নিজেকে বলতেন লালনের গানের “সেবিকা”। আজ তিনি চলে গেলেও তাঁর কণ্ঠে লালনের বাণী যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়ে জাগ্রত থাকবে। ফরিদা পারভীনের প্রস্থান বাংলাদেশের সংগীতজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। পরম আত্মার শান্তি কামনা করছি।
————–
লেখক: সোহেল মো. ফখরুদ-দীন,সভাপতি, বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ,সম্পাদক ও পরিচালক, ইতিহাসের পাঠশালা। চট্টগ্রাম।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট