1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ইসলামে কুরবানির শিক্ষা-ইতিহাস, ফজিলত ও আমল -মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন আসন্ন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও এশিয়ান স্টার এ‍্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা সিলেটে ঈদুল আজহা উপলক্ষে “রক্তের অনুসন্ধানে আমরা” সংগঠনের ঈদ উপহার বিতরণ ও মেহেদী উৎসব সিআইপি ও কমিউনিটি নেতাদের উপস্থিতিতে দুবাইয়ে ডেজার্ট রাইজের জমকালো আসর আসক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন লায়ন হাজী নুরুল আলম চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার পটিয়ায় সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক অটোরিক্সা চালক। আমার প্রিয় জন্মভূমি: পটিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ঢাকায় জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত- যৌতুক মাদক ও ধর্ষণ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার

ইসলামে কুরবানির শিক্ষা-ইতিহাস, ফজিলত ও আমল -মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন

  • সময় বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ২৫ পঠিত
যিলহজ্জ মাস হলো হিজরী সনের দ্বাদশ মাস এবং সর্বশেষ মাস। আর এ মাসেই রয়েছে বিত্তবানদের ওপর ফরজ হজ্ব এবং মানব ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ঘটনা তথা আপন সন্তানকে কোরবানী করার ইতিহাস। কুরআনে এই মাসের ১ম ১০রাতের শপথ করেছেন রাব্বুল আলামীন। ফলে জিলহজ মাসের গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অনুমেয়।

কুরবানীকে আরবী ভাষায় “উদ্বহিয়্যাহ” বলা হয়। এর অর্থ হল-ওই পশু যা কুরবানীর দিন যবেহ করা হয়। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু যবেই করাই কুরবানী।

কুরবানীর বিধান যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে অবতীর্ণ সকল শরীয়তেই বিদ্যমান ছিল।যেমন পবিত্র কুরআন শরীফে এরশাদ হয়েছে- এবং প্রত্যকে উম্মতের জন্য আমি একটা কুরবানী নির্ধারিত করছি যেন তারা (যবেহ করার সময়) তাঁর প্রদত্ত বাকশক্তিহীন চতুস্পদ পশুগুলোর উপর আল্লাহর নাম নেয়; তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্যই। (শুধু তাঁরই নামে যবেহ কর); সুতরাং তাঁরই সম্মুকে আত্মসমর্পন কর। (নিষ্ঠার সাথে অনুগত অবয়বে)।  [সূরা হাজ্ব- আয়াত -৩৪]

হাদীসে পাকে উল্লেখ রয়েছে- হযরত যায়েদ ইবন আলক্বাম (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল (দ:) কুরবানী কী ? তিনি বল্লেন এটা তোমাদের পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর সুন্নাত সাহাবীরা আবার জিজ্ঞেস করলেন-এতে আমাদের কী উপকার রয়েছে- ? আল্লাহর রাসূল এবার উত্তর দিলন- কুরবানীর পশুর প্রত্যক পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। তা যদি ছাগল, ভড়া ও দুম্বা হয়ও।
[মসনদে আহমদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত শরীফ ২২৬]

হযরত ইব্রাহীম (আঃ এর সন্তানন ) কুরবনীর ইতিহাস ও রহস্য, মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সাথে সম্পৃক্ত। মহান আল্লাহ তাঁকে একের পর এক পরীক্ষা করে সর্বশষে খলীলুল্লাহ বা নিজের বন্ধু হিসেবে ঘোষণা দেন।

প্রথমত: নমরুদের মাধ্যমে অগিকুন্ড নিক্ষেপের পরীক্ষা। যা হযরত ইব্রাহীম (আ:) চরম ধর্য্যের সাথে মহান আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস এবং আস্থার কারণে সেই পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। এর পর নিজের স্ত্রী ও দুগ্ধপেষা সন্তানকে মরুভুমিতে নির্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হলে, তিনি সেই পরীক্ষায়ও উর্ত্তীণ হলেন।

এভাবে বড়বড় ত্রিশ(৩০) উর্ধ্ব পরিক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। আর প্রতি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয় আল্লাহর বন্ধুত্বর আসন সমাসীন হত সক্ষম হন। সর্বশেষ পরীক্ষা নেওয়া হয়-নিজের প্রাণপ্রিয়, কলিজার টুকরা আদরের সন্তান কে কুরবানী নির্দেশের মাধ্যম। পবিত্র হাদিসে পাকে বর্ণিত রয়েছে- হযরত ইব্রাহীম (আ:) আল্লাহর রাস্তায় ১ হাজার বকরী, ৩শ গাভী এবং একশ-উট কুরবানী দিয়েছিলেন।

মহান আল্লাহর প্রতি ভালবাসার এমন নিদর্শন দেখে মানুষ তো বটেই ফেরেশতারাও অবাক হয়ে গিয়েছিলন। এ অবস্থায় হযরত ইব্রাহীম (আ:) আরো আবেগাপ্লুত হয়ে বল্লেন- “আমার রবের জন্য আমি যা দিলাম তাতাে কিছুই নয়! বরং আমার কাছে যদি আরো একটা সন্তান থাকতো তাকেও আমি আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতাম।
এদিকে অনেকদিন অতিবাহিত হয়ে গেল। আর এ কথাটিও তাঁর ম্মরণের অগােচরে চলে যায়। যখন পবিত্র মক্কায় পর্দাপন করলেন আল্লাহর পাকের দরবারে একটি সন্তানের আবেদন করলেন।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্র ফরিয়াদ কবুল করলেন এবং পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেন। ফলে শিশুপুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম’ এর জন্ম হয়।

অতি আদর যত্নে লালিত-পালিত শিশু ইসমাইল (আ:) এর বয়স যখন ৭ বছর বা ১০ বৎসর হলো। তখন হযরত ইব্রাহীম (আ:) কে স্বপ্নে বলা হলো- ওহে ইব্রাহীম! এবার তুমি তােমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তুটি আল্লাহর দরবারে কুরবানী করো!

এভাবে  তিন দিন একই স্বপ্ন দেখে নিশ্চত হলেন , আল্লাহ তাঁকে স্বীয় প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈলকে কুরবনীর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসঙ্গে কুরআনের আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- অতঃপর যখন সে তার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছলো, তখন পিতা পুত্র(ইসমাইল) কে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে (আল্লাহর জন্য) কুরবানি করছি। অতএব দেখ তোমার কী অভিমত; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। এরপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল।’ (সুরা আস-সাফফাত: ১০২-১০৩)

এই আয়াতের তাফসিরে হযরত কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন- নবী-রাসূলদের স্বপ্ন ওহী হয়ে থাকে। তারা যখন স্বপ্নে কিছু দেখতেন সেটা বাস্তবে রূপ দিতেন। [তাবারী] পয়গম্বরগণের স্বপ্নও প্রত্যাদেশ ও আল্লাহর আদেশই হয়। ফলে তাঁদের জন্য তা পালন করা জরুরী। পুত্র আল্লাহর আদেশ পালনে কতটা প্রস্তুত আছে, তা জানার উদ্দেশ্যে তিনি পুত্রের সাথে পরামর্শ করেন।

মহান আল্লাহর নির্দেশ মতো শিশুপুত্র হযরত ঈসমাঈল(আ:)কে কুরবানী করার জন্য মিনা নামক প্রান্তে শায়িত করে ধারালো ছুরি দিয়ে বারংবার যবেহের প্রচেষ্টা চালনাের পরও শিশু ইসমাঈল (আ:) এর কােমল চামড়া কাঁটা যাচ্ছিল না।

এমতাবস্থায় আরো হতাশায় হৃদয় ভেঙ্গে পড়লেন। তখনি এক পর্যায়ে অনুভব করছিলেন কুরবানীর হয়ে গেছে। বাঁধা চক্ষুযুগল যখন খুল্লেন, দেখতে পেলেন সামনে একটি দুম্বা যবেহ হয়ে আছে; যা দেখে আরাে বেশি হতবাক হয়ে গেলেন।

তখন ওহীর আওয়াজ এলো-“হে ইব্রাহীম! নিশ্চয় তুমি তােমার স্বপ বাস্তবায়ন করেছো । আর এভাবেই আমি পূণ্যবানদের পুরস্কৃত করি। [সুরা সাফফাত, আয়াত নং-৮০] সে দিন আল্লাহ তাআলা জিব্রাইলকে বেহেশত থেকে দুম্বা এনে শিশু ইসমাঈল (আ:) এর স্থলাভিষিক্ত করে কুরবানীর কবুলের নির্দেশ প্রদান করলেন ।

বস্তুত হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর প্রিয় সন্তান হযরত ইসমাঈল (আ:) কে কুরবানী দেওয়ার এ- অবিস্মরণীয় ঘটনাকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রাণবন্ত করে রাখার জন্যই উম্মত মুহাম্মদী (দ:) এর উপর কুরবানীকে ওয়াজিব করা হয়েছে ।

কুরবানী প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- হে নবী “আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। (সুরা কাউসার-২)

অপর এক হাদীসে এসেছে – “কুরবানী পশু ক্রয়ের জন্য যে ঘর হতে বের হয়, তার প্রত্যক কদমের পরিবর্তে একটি করে নেকী আল্লাহ তায়ালা তার আমল নামায় লিপিবদ্ধ করে দেন।”
হাদীসে পাকে আরো এসেছে-  তােমরা কুরবনীর পশুকে সম্মান করো, কেননা ওটা পরকালে পুুলসিরাতের উপর তােমাদের বাহন হবে।”

কুরবনীর ফযিলত সম্পর্ক অন্য হাদীস এসেছে- প্রিয়নবী ইরশাদ করেছেন- “কুরবানীদাতার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তার কুরবানী আল্লাহর দরবার কবুল করা হয়। যদি অন্তরের নিয়ত পরিশুদ্ধ হয়।”

মহনবী (দ.) আরো বলেছেন “তােমাদের মধ্যে যারা কুরবনী দিবে এবং যারা কুরবানী দিত অক্ষম তারা যেন জিলহজ্বের ১ম দিন হতে ১০ম দিন কুরবানীর পশুর গলায় চুরি দেওয়া পর্যন্ত নিজের চুল, নখ, পশম ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাক। এটা মুস্তাহাব আমল, এর ফলে আল্লাহ তায়ালা কুরবানী অক্ষম ব্যাক্তিকেও কুরবানীর সাওয়াব দান করেন।

যাদের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব: যে ব্যক্তির নিকট নিম্নোক্ত শর্তাবলী পাওয়া যাবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। ১. মুসলিম হওয়া: অমুসলিম ব্যক্তির ওপর শরিয়তের এ বিধান প্রয়োজ্য নয়। ২. স্বাধীন হওয়া: গোলাম বা দাস-দাসীর ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ৩. মুকিম হওয়া: মুসাফিরের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ৪. সামর্থ্যবান বা ধনী হওয়া: গরীব বা মিসকিনের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

১০ই জিলহজ্বের ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ্বের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ কুবানির দিনগুলোতে যার নিকট যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পরিমান অর্থ সম্পদ থাকে তবে তার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে। উল্লেখ্য যে, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নেই বরং কুরবানির দিন ব্যয়ের উদ্ধৃত, নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তুর অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। দৈনন্দিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মালিককে নিসাবের মালিক বলা হয়।

জিলহজ্জের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তাকবীরে তাশরিক পাঠ করা। আইয়ামে তাশরিক বা তাশরিকের দিন কোনগুলো—এমন প্রশ্ন অনেকে করে থাকেন। মূলত জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর নামাজের পর থেকে নিয়ে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত সময়কে তাশরিকের দিন বলে।

এই দিনগুলোর প্রতি ফরজ নামাজের পর অন্তত একবার—
الله أكبر الله أكبر، لا إله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد.
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

এই তাকবির পড়া ওয়াজিব। এটিকে তাকবিরে তাশরিক বলা হয়। (হেদায়া : ১/২৭৫)

দোয়াটি পড়ার সওয়াব ও ফজিলতঃ
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন- ‘যেন তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ২৮)

রাসুলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেছেন, এই দিনগুলোতে তাকবিরে তাশরিকের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী করিম (দ.) বলেন, ‘জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়ে জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।’ (সহিহ বুখারি শরীফ, হাদিস নং : ৯৬৯)

দোয়াটি কতবার ও কীভাবে পড়বেনঃ
তাশরিকের দিনগুলোতে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষদের ওপর উচ্চৈঃস্বরে একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। আর নারীরা নিচু স্বরে পড়বে,  যাতে নিজে শোনে। (ফাতাওয়া শামি : ২/১৭৮)

ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়া হোক বা একাকী, ওয়াক্তের মধ্যে পড়া হোক বা কাজা, নামাজি ব্যক্তি মুকিম হোক বা মুসাফির, শহরের বাসিন্দা হোক বা গ্রামের সবার ওপর ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। (দুররে মুখতার : ২/১৮০)

ফরজ নামাজের পর তাকবির বলতে ভুলে গেলে, স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবির পড়ে নেবে। তবে হ্যাঁ, নামাজের বিপরীত কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে, যেমন— কথা বলা, নামাজের স্থান থেকে উঠে পড়া ইত্যাদি হলে তাকবির বলতে হবে না, বরং ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করবে। (ফাতোয়ায়ে শামি : ৬/১৭৯)

তাকবিরে তাশরিক জেনে রাখা উচিতঃ
প্রতি ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক তিনবার বলা সুন্নত বা মুস্তাহাব নয়। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কীভাবে তাশরিকের দিনগুলোতে তাকবীর বলতেন তা হাদিসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে একাধিকবার তাকবিরের কথা উল্লেখ নেই। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৫৬৯৮, ৫৬৯৯; আল-আওসাত, হাদিস : ২১৯৮, ২২০০)

তাবেয়ি ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম আরাফার দিন নামাজের পর উক্ত তাকবির বলতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৫৬৯৬)

অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে তাকরিরে তাশরিকের সঙ্গে অন্য কিছু মিলিয়ে পড়ার বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন হযরত ইবনে উমর (রা.) তাকবিরে তাশরিকের আগে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। (আল-আওসাত, হাদিস : ২২০১)

আর পূর্ণ তাকবিরে তাশরিক তিনবার পড়ার বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিকহবিদগণও তিনবার বলার প্রতি গুরুত্ব দেন না। অবশ্য কেউ যদি সুন্নত মনে না করে এমনিতেই তিনবার বলে তবে সেটাকে বিদআত বলাও উচিত নয়। (আল-আওসাত, হাদিস : ২১৯৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৫৬৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; আদ-দুররুল মুখতার ২/১৭৭; আল-বাহরুর রায়েক ২/১৬৫

তাকবিরে তাশরিকের আমল প্রচলন হয়েছেঃ
প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ও বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) বলেন—

যখন হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বীয় পুত্র ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি রাখলেন, এদিকে আল্লাহর নির্দেশে হজরত জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসমান থেকে একটি দুম্বা নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করছিলেন।কিন্তু জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর আশঙ্কা ছিল, তিনি দুনিয়াতে পৌঁছার আগেই ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) জবাইপর্ব সমাপ্ত করে বসবেন। ফলে তিনি আসমান থেকে উঁচু আওয়াজে বলে উঠলেন : ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।’

হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম
আওয়াজ শুনে আসমানের দিকে নজর ফেরাতেই দেখতে পেলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম একটি দুম্বা নিয়ে আগমন করছেন। ফলে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর।’ পিতার কণ্ঠে এই কালিমা শুনতেই ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-উচ্চারণ করলেন : ‘আল্লাহু আকবার,ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

একজন ফেরেশতা আর দুজন প্রিয় নবীর এ বাক্যমালা আল্লাহর খুব পছন্দ হয়। তাই কিয়ামত পর্যন্ত এই বাক্যমালা আইয়ামে তাশরিকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়াকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/১৭৮, ইনায়া শরহুল হিদায়া : ১/৪৬৪)

পরিশেষে বলা যায়- কুরবানীর বিশাল নি’মাতের মূল কারণ হলো, এতে বান্দার পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর প্রতি মুহাব্বত ও ত্যাগের এক প্রােজ্জ্বল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়। তাই কুরবানী হতে হবে  নিষ্কলুষ মনে ও লৌকিকতামুক্ত। ফলে তার সাথে যবেহ হবে মনের পশুত্ব! তাতেই সার্থকতা নিহিত।

আর তা করতে না পারলে কুরবানী করার মধ্য কোন সার্থকতা আমাদের কপালে নসীব হবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যকের কুরবানীকে কবুল করে অফুরন্ত সাওয়াব দান করেন এবং দেশ ও দেশবাসীর ওপর রহমত, শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন। আমিন বেহুরমতে সায়িদিল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

লেখক ও প্রাবন্ধিক
জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদরাসা, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

খতিব- মসজিদে রহমানিয়া গাউসিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী, চট্টগ্রাম।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট