
মোঃ কায়সার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তেল-গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বোঝাই একাধিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি, এলপিজি ও মনোইথিলিন গ্লাইকল (এমইজি) নিয়ে মোট আটটি জাহাজ বর্তমানে বন্দরে নোঙর করেছে বা নোঙরের অপেক্ষায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব জাহাজ ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাতে কোনো বাধা হয়নি।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজ দুটিতে যথাক্রমে ৬৩ হাজার ৩৮৩ টন এবং ৬৩ হাজার ৭৫ টন এলএনজি রয়েছে।
এছাড়া একই বন্দর থেকে আসা ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজে রয়েছে যথাক্রমে ৬২ হাজার ৯৮৭ টন ও ৫৭ হাজার ৬৬৫ টন এলএনজি। জাহাজ দুটি সোমবার ও বুধবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অপরদিকে ‘লেব্রেথাহ’ নামের আরেকটি জাহাজ ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আগামী শনিবার বন্দরে প্রবেশ করবে।
অন্যদিকে ওমান থেকে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে ‘এলপিজি সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার বন্দরে পৌঁছেছে। এর আগে একই দেশ থেকে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে ‘জি ইম’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে ৫ হাজার ১৯ টন মনোইথিলিন গ্লাইকল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার বন্দরে আসে। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত এই রাসায়নিক পদার্থটি বিভিন্ন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত জানান, এসব জাহাজ ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে এসেছে।
বন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, ‘এসপিটি থেমিস’ নামের একটি জাহাজ ৩১ হাজার টন তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। আগামী ১২ মার্চ জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এছাড়া ‘হুয়া সুন’ নামের আরেকটি জাহাজ ১৪ হাজার টন কনডেনসেট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছেছে। কনডেনসেট থেকে অকটেন, ডিজেল, পেট্রল ও এলপিজি উৎপাদন করা হয়।
বন্দর কর্মকর্তা ও জাহাজের স্থানীয় এজেন্টরা জানান, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার হুঁশিয়ারি দেয়। এরপর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগেই প্রণালি অতিক্রম করায় এসব জাহাজ বাংলাদেশের বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কাতার, কুয়েত, ইরান, ইরাক, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজের মাধ্যমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলপিজি ও এলএনজি আমদানি করে থাকে।
Leave a Reply