
আবদুল্লাহ ফারুক রবি, চট্টগ্রাম।
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬-এর আনন্দঘন আয়োজনে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে ফিরে এলো ‘দোহার’-এর কালজয়ী লোকগান ‘ঢাকের বোলে বাংলা দোলে’। পটিয়ার সাড়াজাগানো খুদে শিল্পী রঙিনের মিষ্টি ও প্রাণবন্ত কণ্ঠে গানটির বিশেষ পরিবেশনা উৎসর্গ করা হয়েছে ‘দোহার’-এর অন্যতম প্রাণপুরুষ ও প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য-এর স্মৃতির প্রতি।
পূজার আবহে লোকসংগীতের সুর
চট্টগ্রামের পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মা মগধেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর ও ভক্তিঘন পরিবেশে গানটির ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়। ঢাকের বোল, পূজার আবহ এবং বাংলার লোকজ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গকে ধারণ করে নির্মিত হয়েছে গানচিত্রটি।
‘দোহার’-এর সংগীতধারার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গানটির মূল পরিকল্পনা ও সুরের ভাবনা সাজিনো হয়েছে। অডিও রেকর্ডিং ও মিক্সিং করেছেন দেবরাজ দেবু। ভিডিও ধারণ করেছেন শ্রীমান্ত শীল এবং ভিডিও সম্পাদনা করেছেন দীপ্ত দে।
গানচিত্রে রঙিনের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন টিকলু দে, অনামিকা, নিত্যানন্দ, নিলয়, অন্বেষা, গোপিকা, দীপ্ত, প্রমিত ও গুনগুন। শিশু-কিশোর শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গানটির দৃশ্যায়নে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রকাশের পর থেকেই গানটি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে রঙিনের সাবলীল ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা, শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং পূজার আবহে লোকসংগীতের উপস্থাপন প্রশংসা কুড়াচ্ছে। রঙ্গিন এর পিতা চিত্রশিল্পী টিকলু দে জানান, আবহমান বাংলার লোকসংগীত ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের শেকড়ের সংস্কৃতি, লোকজ সুর ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে কিংবদন্তি শিল্পী কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য-এর অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁর নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হওয়া ‘দোহার’-এর লোকসংগীতের ধারার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে এই পরিবেশনার মাধ্যমে।
দুর্গাপূজার উৎসবমুখর সময়ে খুদে শিল্পী রঙিনের কণ্ঠে ‘ঢাকের বোলে বাংলা দোলে’ যেন নতুন প্রজন্মের কাছে পুরোনো সুরের নতুন এক উপহার। বাংলার লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এই পরিবেশনা আরও অনেক শ্রোতার কাছে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
Leave a Reply