1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিএনপি প্রতিষ্ঠার আদর্শ-চেতনা ও তৃণমূলের প্রত্যাশা গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নত চন্দনাইশ বিনির্মাণে করণীয় -মহিউদ্দীন কাদের লালন শাহ পরশে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ৫০ তম প্রয়াণ দিবস পালিত এরাবিয়ান লিডারশীপ মাদ্রাসায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন সানজিয়েকুন ও স্নায়ুর শর্টসার্কিট -অভিলাষ মাহমুদ বেঁধে পেটালে তুইও সহ্য করবি -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্ পদুয়া আইনুল উলুম দারুচ্ছুন্নাহ কামিল মাদ্রাসায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন জননেতা আতাউর রহমান খান কায়সার আদর্শিক রাজনীতির বরপুত্র ও ইতিহাসের অংশ – তসলিম উদ্দীন রানা লোহাগাড়ার ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে লোহাগাড়া সমিতি-চট্টগ্রামের আর্থিক সহায়তা প্রদান বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনোনীত উৎফল বড়ুয়া সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন শ্রীলঙ্কা চ্যাপ্টারের কমিটি গঠন ও ম্যাগাজিন মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

বিএনপি প্রতিষ্ঠার আদর্শ-চেতনা ও তৃণমূলের প্রত্যাশা গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নত চন্দনাইশ বিনির্মাণে করণীয় -মহিউদ্দীন কাদের

  • সময় সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ পঠিত

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের—(বিএনপি) প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের মতো বিষয়কে রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে সামনে আনে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একটি দলীয় কর্মসূচি নয় বরং প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, রাজনৈতিক আদর্শ, অর্জন-ব্যর্থতার মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর তাৎপর্য আরও গভীর। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি তার কেন্দ্রীয় কাঠামোর পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার আদর্শ-চেতনাকে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়? চন্দনাইশের সম্ভাবনাময় জনপদের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তৃণমূল বিএনপির ভূমিকা কী হওয়া উচিত? আজকে এ বিষয়ে আলোচনা। বিএনপি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক দর্শন, বিএনপির প্রতিষ্ঠার সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল পরিবর্তনশীল। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শাসনব্যবস্থার নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সময় বিএনপির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

দলের প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনৈতিক দর্শনে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং জনগণের উন্নয়নের বিষয়গুলো যুক্ত ছিল।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কর্মসূচির আলোচনায় ১৯ দফা কর্মসূচির গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য। কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরতা, কর্মসংস্থান, জনগণের অংশগ্রহণ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় সেখানে গুরুত্ব পেয়েছিল।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। কিন্তু জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষির বিকাশ, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ—এসব প্রশ্ন আজও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই প্রতিষ্ঠার আদর্শ-চেতনাকে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন রয়েছে।

গণতন্ত্রের চর্চা হোক তৃণমূলঃ

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন ও ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহি এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা—সবকিছু মিলেই গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে ওঠে।

একটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলবে, অথচ নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মতামত ও অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত রাখবে—এমন দ্বৈততা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।

তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করা, নিয়মিত সাংগঠনিক মতবিনিময় করা এবং জনগণের সমস্যাকে রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে নিয়ে আসা প্রয়োজন। গণতন্ত্রের সংস্কৃতি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পরিসরেও চর্চা করতে হবে।

তৃণমূলের প্রত্যাশা ও বাস্তবতাঃ

রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় তৃণমূলে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বক্তব্য তখনই মানুষের কাছে অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার প্রতিফলন স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে দেখা যায়। চন্দনাইশের তৃণমূলের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন, যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ, তরুণদের অংশগ্রহণ, নারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—এসবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে যদি জনগণ থাকে, তাহলে জনগণের সমস্যা, মতামত ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ভিত্তি করতে হবে।

উন্নত চন্দনাইশের সম্ভাবনাঃ

চন্দনাইশে রয়েছে কৃষি, প্রাকৃতিক সম্পদ, নদী-খাল, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং মানবসম্পদের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা। শঙ্খ নদী, চাঁনখালী, বরুমতিসহ বিভিন্ন জলসম্পদ এ অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা আর সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা এক বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত উন্নয়ন, কার্যকর স্থানীয় সরকার, দক্ষ মানবসম্পদ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে আধুনিক বাজারব্যবস্থার সংযোগ। চন্দনাইশের উন্নয়নে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নঃ

কৃষি চন্দনাইশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। স্থানীয় কৃষিপণ্যকে ব্র্যান্ডিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছানো গেলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তরুণদের কর্মসংস্থানঃ

চন্দনাইশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি। কারিগরি শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনাও জরুরি। তরুণদের হাতে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের সুযোগ তুলে দিতে হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যঃ

উন্নত সমাজের ভিত্তি হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইভাবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

যোগাযোগ ও অবকাঠামোঃ

স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সরাসরি সম্পর্কিত। গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, পানি নিষ্কাশন এবং বাজারকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলাবদ্ধতা ও বর্ষাকালীন দুর্ভোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষাঃ

চন্দনাইশের নদী, খাল, জলাশয়, কৃষিজমি ও পাহাড়ি পরিবেশ শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার অংশ।
নদী-খাল দখল ও দূষণ, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে।
তাই উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে হবে। উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব।

সুশাসন ও জবাবদিহির রাজনীতিঃ

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সুশাসনের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অভিযোগ ও মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। রাজনীতিতে ক্ষমতার ব্যবহার নয়, জনগণের সেবা ও আস্থা অর্জনই হওয়া উচিত নেতৃত্বের প্রধান মানদণ্ড।

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনঃ

চন্দনাইশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সময়ের দাবি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু মতপার্থক্য যেন ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিহিংসা বা সামাজিক বিভাজনে রূপ না নেয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা উচিত।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সংলাপ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণই পারে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হোক আত্মসমালোচনার দিনঃ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু অতীতের অর্জন স্মরণ করার দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনারও দিন।
আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে—আমরা কি জনগণের প্রত্যাশা যথাযথভাবে বুঝতে পারছি? তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? তরুণদের জন্য আমাদের বাস্তব পরিকল্পনা কী? কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সমস্যার সঙ্গে আমরা কতটা সম্পৃক্ত? চন্দনাইশের উন্নয়নের জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করার মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

প্রয়োজন চন্দনাইশের উন্নয়ন রূপরেখাঃ

চন্দনাইশের উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সমন্বিত ‘চন্দনাইশ উন্নয়ন রূপরেখা’ প্রণয়ন করা যেতে পারে। এই রূপরেখায় উল্লেখযোগ্য ভাবে থাকতে পারে—
প্রথম: কৃষি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির আধুনিকায়ন।
দ্বিতীয়: তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান।
তৃতীয়ত: শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন।
চতুর্থ: সড়ক, সেতু, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন।
পঞ্চম: নদী-খাল, পাহাড় ও পরিবেশ সংরক্ষণ।
ষষ্ঠ: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ।
সপ্তম: স্থানীয় সরকার ও নাগরিক অংশগ্রহণ শক্তিশালী করা।
অষ্টম: নারী ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি।

এ ধরনের একটি রূপরেখা দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি একটি জনপদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নচিন্তার ভিত্তি হিসেবেও কাজ করতে পারে।

পরিশেষে বলতে চায়- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) প্রতিষ্ঠার ইতিহাস আমাদের সামনে যে রাজনৈতিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং জনকল্যাণ—সেগুলোকে বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চন্দনাইশের মানুষ চায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবেশ এবং একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এই প্রত্যাশাগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তৃণমূলের রাজনীতি আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

লেখকঃ কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক;
মহাসচিব, শহীদ জিয়া রিসার্চ সেন্টার।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, চন্দনাইশ সিভিল সোসাইটি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট