1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে অ্যাডভোকেসি সংলাপ অনুষ্ঠিত মানুষের কল্যাণে নীরব সেবার আলোকবর্তিকা: পটিয়ার হাজী আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশন। সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে র‍্যাবের অভিযানে পরিত্যক্ত বিদেশি রাইফেল উদ্ধার সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বোয়ালখালী মাওলানা ফয়েজ আহমদ (রহঃ) স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন ” মাওলানা ফয়েজ আহমদ (রহঃ) একজন বিনয়ী ও নম্র মানুষ ছিলেন “ ঢাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন তৃণমূল আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৭৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত পটিয়ায় মালঞ্চের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। ফতেয়াবাদ মহাকালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ।

মানুষের কল্যাণে নীরব সেবার আলোকবর্তিকা: পটিয়ার হাজী আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশন।

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৩৪ পঠিত

আলমগীর আলম,পটিয়া।

সমাজের উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। একটি মানবিক, কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ব্যক্তি, পরিবার, সামাজিক সংগঠন এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে যখন কোনো প্রতিষ্ঠান নিঃস্বার্থভাবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করে, তখন সেটি সমাজের জন্য আশার আলো হয়ে ওঠে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় এমনই একটি মানবিক সংগঠনের নাম হাজী মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশন।
যেখানে অসহায় মানুষের মুখে হাসি নেই, যেখানে অভাব-অনটনে মানুষ দিশেহারা, যেখানে একটি পরিবার চিকিৎসার অভাবে কষ্টে দিন পার করছে কিংবা কোনো শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না, সেখানেই নীরবে এগিয়ে যাচ্ছে এই ফাউন্ডেশন। প্রচারের আলোয় নয়, বরং মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে পটিয়ায় ইতোমধ্যে একটি আস্থার নাম হয়ে উঠেছে হাজী আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশন। অসহায় মানুষের আর্থিক সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, শিক্ষা সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চিকিৎসা সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শ ও জীবনদর্শন। মরহুম হাজী মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার ছিলেন একজন দানবীর ও সমাজসেবক। মানুষের কষ্ট, দুঃখ কিংবা অসহায়ত্ব তাকে গভীরভাবে নাড়া দিত। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। জীবদ্দশায় তিনি অসংখ্য মানুষের উপকার করেছেন এবং নিজের সন্তানদেরও মানবসেবার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
আজ তিনি পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার আদর্শ বেঁচে আছে তার উত্তরসূরিদের মাধ্যমে। বিশেষ করে তার সুযোগ্য সন্তান, প্রবাসী সমাজসেবক ও হাজী মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি পিতার দেখানো পথকেই জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি সবসময় পটিয়ার মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখেন। এলাকার উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সহযোগিতা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যে মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সময় ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি কখনো পিছপা হননি।
বর্তমান সময়ে সমাজে যখন ব্যক্তি স্বার্থ ও প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে, তখন মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি একটি সামাজিক মডেলে পরিণত হয়েছে।
পটিয়া স্টেশন রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোহাম্মদ নুরুল আলম সওদাগর বলেন, “হাজী মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি তার পিতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে যেসব সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন, তা সত্যিই মহৎ, প্রশংসনীয় এবং অনুসরণীয়।”
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাজী মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি বলেন, “পৃথিবীতে মানুষের সেবা করতে পারা একটি সৌভাগ্যের বিষয়। আমার পিতা আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হয়। সেই শিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ করেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, মানবতার কল্যাণে এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের সেবা করতে সবসময় বড় ধরনের তহবিলের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন আন্তরিকতা, সদিচ্ছা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা। সমাজের প্রতিটি সচেতন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
পটিয়া পৌরবাসীর উন্নয়ন ও কল্যাণ নিয়েও তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার ইচ্ছার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।
একটি সমাজ তখনই এগিয়ে যায়, যখন সেখানে মানবিক মানুষ ও মানবিক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। হাজী আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশন সেই মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী উদ্যোক্তা এবং সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।
মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করার যে নীরব সংগ্রাম হাজী আবদুস সাত্তার ফাউন্ডেশন চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হোক, মানবতার এই আলোকবর্তিকা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠুক, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট