
মোঃ মনিরুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি মিনিট্রাক থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট লুটের অভিযোগে সাতকানিয়া থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলসহ তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—সাতকানিয়া থানার এসআই এস এম মাহবুবুল ইসলাম, কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ এবং কনস্টেবল গাজী মো. মহসিন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে একটি মিনিট্রাকে করে ৩০ হাজার ইয়াবার একটি চালান চট্টগ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে লোহাগড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে ওই পুলিশ সদস্যরা ট্রাকটির গতি রোধ করেন।
ট্রাকচালক নাছিরের অভিযোগ, গতিরোধ করার পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাকটি চালিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রবিন ও মোমিন নামের দুই কথিত পুলিশ সোর্সের সহযোগিতায় ট্রাকের চালকের আসন থেকে ৩০ হাজার ইয়াবা লুট করে নেন ওই পুলিশ সদস্যরা। শুধু তাই নয়, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করতে ট্রাকের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং এর মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী চালক জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইয়াবা লুটের এই গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনিক কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। তদন্তে চূড়ান্তভাবে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত কথিত সোর্সদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply