
যেখানে ইতিহাস কথা বলে, মাটি ফসল ফলায়, মানুষ স্বপ্ন বুনে। আমার প্রিয় জন্মভূমি পটিয়া।
পটিয়ার আলো-বাতাসে বড় হয়েছি, তাই এই মাটির টান বুকের ভেতর বয়ে বেড়াই। পটিয়া শুধু দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম শহর না। এটা একটা জীবন্ত ইতিহাসের পাতা।
এক সময় এটা ছিল সাবেক মহকুমা। আরও পিছনে গেলে দেখা যায়, একদা এই পটিয়াই ছিল আরাকান রাজ্যের রাজধানী। এই মাটিতেই উঠেছিল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ডাক। পটিয়ার মাটি বারবার জানিয়ে দিয়েছে অন্যায়ের সামনে মাথা নোয়ানো এখানকার স্বভাব না।
কত শহীদের রক্ত, কত বিপ্লবীর ত্যাগ মিশে আছে এই ধুলোয়।
পটিয়ার ইতিহাস লিখতে বসলে কলম ফুরাবে, কিন্তু গল্প ফুরাবে না। কিন্তু পটিয়াকে শুধু ইতিহাস দিয়ে বিচার করলে হবে না।
পটিয়ার আসল গর্ব হলো পটিয়ার মানুষ, পটিয়ার মাটি, আর পটিয়ার মেধা। পটিয়ার মানুষ খুবই আন্তরিক। অচেনা কেউ এসে রাস্তা জিজ্ঞেস করলে সে নিজে এগিয়ে গিয়ে দেখিয়ে দেয়। আবার পটিয়ার মানুষ খুবই কঠোর, সাহসী।
অন্যায়ের সামনে মাথা নোয়ায় না। এই দুই বিপরীত গুণ একসাথে মিশে পটিয়ার মানুষকে আলাদা করে দিয়েছে।
আর পটিয়ার মাটি? সে তো কৃষকের হাসি ফোটায়। পটিয়ায় আছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসি ফার্ম।
এই ফার্ম থেকেই সারা এলাকার কৃষকদের কাছে ভালো বীজ পৌঁছে যায়। এই কৃষি ফার্মেই আমার বাবা মরহুম এস এম আমিন শরীফ ১৯৬৫ সাল থেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। সারাজীবন মাটি আর কৃষকের জন্য নিবেদিত ছিলেন।
পটিয়া সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। কমল মুন্সিরহাট বাজারে সকাল হলেই ট্রাকে ট্রাকে সবজি লোড হয় চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে। ভোরের হাটের কোলাহল, কৃষকের হাসি, এই শব্দগুলোই পটিয়ার ভোরের গান।
পটিয়ার গর্ব শুধু কৃষি আর শিল্পে না। পটিয়ায় রয়েছে গুণী শিল্পী, লেখক, কলামিস্ট যাদের নাম লিখে শেষ করা যাবে না। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা প্রতিটা অঙ্গনে পটিয়ার সন্তানেরা আলো ছড়াচ্ছে।
দেশের পত্রিকার পাতা খুললেই পটিয়ার কোনো না কোনো সন্তানের লেখা চোখে পড়ে। বিসিক শিল্পনগরী আর লবণের মিল কারখানা হাজারো মানুষের রুটি রুজির ঠিকানা।
বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ এসে এখানে কাজ করে, পটিয়াকে আপন করে নেয়।
পটিয়ার ছেলে মেয়েরা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষক হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। যেখানেই যাক, আমি পটিয়ার বলতে গর্ব করে।
পটিয়া মানে শুধু একটা জায়গা না। পটিয়া মানে বিপ্লবের ডাক, পটিয়া মানে কলমের জোর, পটিয়া মানে কৃষির গন্ধ, পটিয়া মানে মানবতা।
তাই বলি,
পটিয়া আমার শিকড়, পটিয়া আমার গর্ব। এই মাটিতে জন্মে আমি ধন্য।
লেখক: মোঃ জিয়াউদ্দিন বাবলু
Leave a Reply