
চট্টগ্রামের পটিয়ায় গীতল সাংস্কৃতিক একাডেমির আয়োজনে বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “কাব্যে গীতিতে চিরন্তন রবীন্দ্র-নজরুল”।
গত ৩১ মে, রবিবার পটিয়া ক্লাব হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা এবং দুই কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে কথামালা অনুষ্ঠিত হয়।
গীতল সাংস্কৃতিক একাডেমির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার দত্তের সভাপতিত্বে এবং একাডেমির সিনিয়র সদস্য চন্দ্রানী দাশ ও যত্রীতা দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ভগিরথ দাশ, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী প্রমোদ দাশ, সংগীত নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা মেঘনাদ দে, চারুরং আর্ট স্কুলের পরিচালক ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হামেদ হাসান, মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, সংগীতশিল্পী ও প্রশিক্ষক বিশ্বজিৎ সিংহ, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও প্রশিক্ষক তুষার দত্ত, শিল্পবাড়ি আর্ট স্কুলের পরিচালক বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী নয়ন দে, গীতল সাংস্কৃতিক একাডেমি’র সমন্বয়ক সংগীতশিল্পী শিবু মল্লিক, তরুণ সংগীতশিল্পী অনির্বাণ পালিত, তবলাবাদক প্রতুল ঘোষ, একাডেমির সিনিয়র সদস্য ও সংগীতশিল্পী সুমনা দেবী অর্পা, লাভলু দাশ, অর্পণ আচার্য্য, সৈকত বিশ্বাস, বৃষ্টি দত্ত, দীবা ধর, বৃষ্টি দে প্রমুখ।
কথামালা পর্বের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন গীতল সাংস্কৃতিক একাডেমির অধ্যক্ষ সংগীত শিল্পী ও প্রশিক্ষক শিমুল মল্লিক।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও মানবতাবাদী দর্শনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যদিকে কাজী নজরুল ইসলাম সাম্য, মানবতা ও দ্রোহের চেতনাসমৃদ্ধ সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তি, ন্যায় ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম আজও বাঙালির চিন্তা-চেতনা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বক্তারা আরও বলেন, গীতল সাংস্কৃতিক একাডেমির এ আয়োজন দুই মহান সাহিত্যিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ও অনুরাগ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা গীতল সাংস্কৃতিক একাডেমির এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কথামালা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পী, একাডেমির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র-নজরুল বন্দনায় একক, দ্বৈত ও দলীয় সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়া ছনহরা পঞ্চরূপা সংগীত বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর দলীয় নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে রবীন্দ্র-নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী চেতনার এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়।
Leave a Reply