
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন জনপদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে প্রকৃতি। চারদিকে থৈ থৈ পানি, চলাচলের কোনো উপায় নেই- এমন পরিস্থিতিতে এক ব্যক্তির মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দূরের কবরস্থানে নিয়ে দাফন করতে হয়েছে।
১০জুলাই শুক্রবার দুপুরে কলাগাছের ভেলায় করে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম হচ্ছে মোহাম্মদ ফোরকান (ড্রাইভার)।তিনি কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান। কিন্তু মৃত্যুর পরই পরিবারের সামনে দেখা দেয় নতুন সংকট। বাড়ির চারপাশসহ পুরো এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তার মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার কোনো স্বাভাবিক ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি আশপাশে দাফনের উপযোগী কোনো শুকনো জমিও পাওয়া যায়নি।
অবশেষে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েকটি কলাগাছ একত্রে বেঁধে অস্থায়ী ভেলা তৈরি করা হয়। সেই ভেলার ওপর মরদেহ রেখে বুকভরা কষ্ট নিয়ে স্বজনরা পানির ওপর ভাসিয়ে দূরের একটি কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এবারের বন্যায় কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়ক, আঙিনা ও কবরস্থানসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফোরকানের মরদেহ কলাগাছের ভেলায় বহনের ঘটনাটি বন্যাকবলিত মানুষের অসহায় পরিস্থিতির এক নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মোহাম্মদ ফোরকান ড্রাইভারের মৃত্যুর পর তাকে দাফন করার জন্য আশপাশে কোনো উঁচু বা শুকনো জায়গা ছিল না। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা কলাগাছের ভেলা বানিয়ে অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে তার মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানান।
Leave a Reply