
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক দায়িত্ব মনে করে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় অসহায় পরিবারের জন্য ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন দৈনিক ইনফো বাংলা ও ডেইলি মর্নিং টুডের সহযোগী সম্পাদক এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এস. এম. আহসানুল কবির চৌধুরী (টিটু)।
তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়ীয়া (যতরকূল) গ্রাম, বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন এবং সাতকানিয়া উপজেলার ডলু খালসংলগ্ন বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন তাঁর ভাই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী।
জানা গেছে, বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পরপরই এস. এম. আহসানুল কবির চৌধুরী টিটু নিজে দুর্গত এলাকায় উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তবে অনিবার্য ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে সেখানে উপস্থিত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবুও সহায়তা কার্যক্রম বিলম্বিত না করে তিনি নিজ উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে পুরো কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
এস. এম. আহসানুল কবির চৌধুরী (টিটু) বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সবাইকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
তিনি আরও বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব। মানবতার কল্যাণে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময়ে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু প্রয়োজনীয় সহায়তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে মানসিক সাহস ও নতুন আশার সঞ্চার করে। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামর্থ্যবান প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করা সম্ভব।
Leave a Reply