
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় তিনবারের শ্রেষ্ঠ উপজেলা যুব সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ। সংগঠনটির ধারাবাহিক সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানবিক উদ্যোগ এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জন সংগঠনের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দ ও গৌরবের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। রক্তদান কর্মসূচি, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ নানা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি এলাকায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।
সংগঠনটির এ অর্জনকে সদস্যরা নিজেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ত্যাগ, শ্রম ও মানবিক মূল্যবোধের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একটি সংগঠনের প্রকৃত সার্থকতা শুধু পুরস্কার বা সম্মাননা অর্জনে নয়, বরং মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত।
এ বিষয়ে সংগঠনের পরিচালক সরোয়ার উদ্দিন আনসারী বলেন, তিনবারের শ্রেষ্ঠ উপজেলা যুব সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। এই অর্জন আমাদের একার নয়; এটি সংগঠনের প্রতিটি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “সম্মাননা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চাই, তরুণ প্রজন্ম মাদক, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজের প্রত্যাশা, অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতেও মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখা এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাওয়া।
Leave a Reply