
মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা পুলিশ ক্যাম্পের নিজ কক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার (৫২) নামের এক পুলিশ উপপরিদর্শকের (এসআই) গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ক্যাম্পের ভেতরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ধারণায় এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
নিহত এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার আশুগঞ্জ সার কারখানা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তার বিপি নম্বর ৭৪৯১০৪১৮২১। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পূর্ব খাবাশপুর গ্রামে। তিনি মৃত আলী আকবর তালুকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে হাঁটতে বের হন এসআই জাহাঙ্গীর। হাঁটা শেষে তিনি ক্যাম্পের নিজ কক্ষে ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ক্যাম্পের ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শুনতে পান অন্য পুলিশ সদস্যরা। দ্রুত তাঁর কক্ষে গিয়ে মেঝেতে মাথা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর পাশেই তাঁর নিজের ইস্যুকৃত সরকারি পিস্তলটি পড়ে ছিল।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কোনো কলহের জেরে তিনি নিজের পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে এটি নিছক আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পেশাগত চাপ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আরফাতুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে
Leave a Reply