1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেঁধে পেটালে তুইও সহ্য করবি -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্ পদুয়া আইনুল উলুম দারুচ্ছুন্নাহ কামিল মাদ্রাসায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন জননেতা আতাউর রহমান খান কায়সার আদর্শিক রাজনীতির বরপুত্র ও ইতিহাসের অংশ – তসলিম উদ্দীন রানা লোহাগাড়ার ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে লোহাগাড়া সমিতি-চট্টগ্রামের আর্থিক সহায়তা প্রদান বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনোনীত উৎফল বড়ুয়া সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন শ্রীলঙ্কা চ্যাপ্টারের কমিটি গঠন ও ম্যাগাজিন মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত প্রত্যয়ের “অন্তর মম বিকশিত করো” ১৩ তম পর্ব অনুষ্ঠিত  রজভীয়া নূরীয়া কমিটি বাংলাদেশের পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভার উপদেষ্টা কমিটি গঠন ওষখাইনীরি নূরীয়া বিষু দরবার শরীফে ৪ দিনব্যাপী যিকরে মিলাদুন্নাবী (সা.) সেমিনার সম্পন্ন আমিরাতে নদিমপুর প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

চাহিদা-সরবরাহে বড় ঘাটতি, উৎপাদন ব্যাহত চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট গভীরতর, দুর্ভোগে নাভিশ্বাস

  • সময় শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৩৪ পঠিত

মোঃ কায়সার , চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। জ্বালানি সংকট ও একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গিয়ে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে, ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটে, বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট। তবে উৎপাদন ঘাটতি, গ্রিড ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কার্যকর লোডশেডিং ২৫০ থেকে ২৮০ মেগাওয়াটের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
সকাল ১১টার হিসাবে চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮৪ মেগাওয়াট, যেখানে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৯৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দিনের বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ বাড়লেও সামগ্রিক ঘাটতি কমছে না। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জ্বালানি ঘাটতি। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গ্যাসচালিত একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬টি কেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ২, ৩ ও ৫ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রাউজান-১ ও রাউজান-২—দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে নেই। জুডিয়াকের কেন্দ্রটিও বন্ধ থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা আরও কমে গেছে।
সচল কেন্দ্রগুলোর অনেকগুলোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। যেমন—এনলিমা কেন্দ্রের উৎপাদন সকালে ১০০ মেগাওয়াট থাকলেও সন্ধ্যায় তা নেমে আসে মাত্র ১৭ মেগাওয়াটে। আনোয়ারা ইউনাইটেড, বিআর পাওয়ার, এনার্জিপ্যাকসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় চলছে।
অন্যদিকে, মাতারবাড়ি, শিকলবাহা ও বাঁশখালীর এস আলম কেন্দ্র থেকে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন হলেও তা চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নগরজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। চকবাজার, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বহদ্দারহাট, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, টেরিবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরে আসতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ওয়াসার পানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে, ফলে অনেকেই পানি সংকটে পড়ছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
রাতের বেলায় লোডশেডিং আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে, কারণ এ সময় গরমের তীব্রতা বেশি থাকায় বিশ্রাম ও ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিস সময় কমানো এবং শপিং মল দ্রুত বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু না হলে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা কম। বরং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট