ইতিহাসে এমন কিছু মনীষী আছেন, যাঁদের জীবন শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তাঁদের জ্ঞান, কর্ম ও আদর্শ যুগের পর যুগ মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকে। তাঁরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁদের বর্ণাঢ্য কর্ম ও অবদানের ফলে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন দিনের পর দিন। উপমহাদেশের এমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আলা হযরত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত, শাহ ইমাম আহমদ রেযা খাঁ ফাজেলে বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি একজন আলেম, মুফাসসির, গবেষক, লেখক এবং সর্বোপরি নিখাঁদ এক আশেকে রসূল ছিলেন। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, তাকওয়া, ফতোয়া ও নবীপ্রেম তাঁকে মুসলিম বিশ্বের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
উনবিংশ শতাব্দীতে যখন ভারতীয় উপমহাদেশ নানা ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও সামাজিক সংকটের মধ্যে অতিবাহিত করছিল, তখন ইমাম আহমদ রেযা খাঁ (রহ.) তাঁর জ্ঞান, গবেষণা ও লেখনীর মাধ্যমে মানুষের মাঝে তুলে ধরেন কুরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ শিক্ষা। তিনি শুধু একজন আলেম ছিলেন না; বরং ছিলেন সত্যের নির্ভীক প্রচারক। যার কলম আজও জ্ঞানপিপাসুদের অনুপ্রেরণার উৎস।
শুভজন্ম ও পরিবার:
আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খাঁ (রহ.) ১৮৫৬ সালের ১৪ জুন মোতাবেক ১০ শাওয়াল ১২৭২ হিজরিতে ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর বেরেলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুফতি নকী আলী খাঁ (রহ.) এবং মাতার নাম হোসাইনি খানুম। তাঁর পরিবার ছিল ধর্মীয় জ্ঞান, তাকওয়া ও কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণে প্রসিদ্ধ। বিশেষ করে তাঁর পিতা ছিলেন তৎকালীন বিখ্যাত আলেম ও মুফতি। ফলে তিনি জন্মের পর থেকেই এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যেখানে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইবাদত ও নৈতিক চরিত্র গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী ছিলেন।
শিক্ষা জীবন:
ইমাম আহমদ রেযা (রহ.)-এর শিক্ষাজীবন শুরু হয় পিতা মুফতি নকী আলী খাঁ (রহ.)-এর হাত ধরে। অল্প বয়সেই তিনি পবিত্র কুরআন, তাফসির, হাদিস, ফিকহ, নাহু-সরফ, ফারসি সাহিত্য, মানতিকসহ ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর ও বিস্ময়কর। কোনো বিষয় একবার পড়লেই তা সহজে মনে রাখতে পারতেন। আ’লা হযরত মাত্র এক মাস বা ২৩-২৪ দিনে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন।
প্রথম ফতোয়াদান:
মাত্র তেরো বছর বয়সেই তিনি ফতোয়া প্রদানের অনুমতি লাভ করেন, যা ইসলামী ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি সারাজীবন জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও লেখালেখির পাশাপাশি মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।” (সুনানে তিরমিজি: ২৬৪৬)
এই হাদিসের প্রতিফলন আলা হযরতের জীবনে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি শুধু জ্ঞান অর্জন করেননি; বরং সেই জ্ঞান মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদস্বরূপ রেখে গেছেন।
বহুমাত্রিক প্রতিভা:
আলা হযরত ছিলেন জ্ঞান, আমল ও ঈমানের খেদমতে নিবেদিত এক প্রাণ। তিনি শুধু একজন মুফতি ছিলেন না; ছিলেন একজন মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ, গবেষক এবং কলমসম্রাট। ইসলামী জ্ঞানের পাশাপাশি আরবি, ফারসি, মানতিক, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যাতেও তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। তাঁর সময়ে যখন মুসলিম সমাজের বিভিন্ন বিভ্রান্তি ও মতভেদ দেখা দেয়, তখন তিনি কুরআন-সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তী ইমামদের ব্যাখ্যার আলোকে মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। দূর-দূরান্ত থেকে যখন মানুষ ধর্মীয় সমস্যা নিয়ে উপস্থিত হতো, তখন তিনি তা ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এর সমাধান দিতেন। পরবর্তীতে তাঁর অসংখ্য ফতোয়া জ্ঞানভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়।
অবদান:
তিনি ছিলেন এক অসাধারণ লেখক। তিনি এক হাজারেরও বেশি পুস্তক রচনা করেছেন। তাঁর লেখার বিষয় ছিল কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আকীদা, তাসাউফ, ফারসি সাহিত্য, নাতে রসূল (দঃ) ইত্যাদি। তাঁর লেখা শুধু তথ্যবহুল নয়; বরং যুক্তি ও প্রমাণনির্ভর বিধায় আজও তা মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর সর্বাধিক পরিচিত গ্রন্থ ‘ফতোয়ায়ে রেজভীয়া’। এটি বর্তমান সংস্করণ ৩২ খণ্ডের একটি ফতোয়া গ্রন্থে রূপ নিয়েছে। যা সারা বিশ্বে আজো অতুলনীয়। এ ছাড়াও তাঁর রচিত ‘কানযুল ঈমান’ নামে উর্দু ভাষায় রচিত কুরআনের তাফসির এবং মুসলিম উম্মাহ কে সদা নবীপ্রেমে জাগ্রত রাখতে তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ‘হাদায়েকে বখশিশ’ নামে নাতের সম্ভার। যা মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তাঁর প্রতিটি রচনায় ফুটে উঠেছে নবীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং ইসলামের প্রতি আন্তরিক নিষ্ঠার পরিচয়।
তাঁর লিখিত বিখ্যাত নাতে রাসূল (দ.)এর কয়েকটি-
[১ ] মুস্তফা জানে রহমত পে লাখো সালাম (সবচেয়ে বিখ্যাত সালাত ও সালাম)
[ ২ ] সবছে আউলা ও আলা হামারা নবী)
[৩ ] ওয়াহ ক্যা জুদ ও কারম হ্যায় শাহে বাথা তেরা (ওয়া ক্যা জুদ ও কারম হ্যায়)
[ ৪ ] সরওয়ার কহুঁ কি মালিকে মওলা কহুঁ তুঝে
[ ৫ ] ওহ সুয়ে লালে যার ফিরতে হ্যায়” ইত্যাদি।
পবিত্র হারামাইন শরীফাঈনের জিয়ারত ও বিস্ময়কর প্রতিভার দৃষ্টান্ত স্থাপন:
হিজরি ১৩২৩ সালে আলা হযরত রহ. হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মুকাররমায় সফর করেন। এ সফরে তাঁর অসাধারণ জ্ঞান, তুখোড় স্মৃতিশক্তি ও গবেষণার পরিচয়ে মক্কার আলেম সমাজ বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়। তাঁরা আলা হযরতের কাছ থেকে বিভিন্ন জটিল ধর্মীয় বিষয় ও ফতোয়া জানতে আগ্রহ প্রকাশ করে। মক্কায় অবস্থানকালে যখন ”প্রিয় নবীর ইলমে গায়েব’ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় কলমসম্রাট তখন লিখতে বসেন। কলম তো ইলমে গায়েবের ভান্ডার, মদীনার তাজেদার। গায়বের সংবাদদাতা নবীর নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। আর সে নির্দেশ পাওয়ার পর চলতে শুরু করে আপন গতিতে। একটানা দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা চলার পর কলম থামলো। আর এরই মধ্যে রচনা হয়ে গেল মুসলিম মিল্লাতের সুদৃঢ় আকীদার স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য দালীলিক সম্পদ, নবীজির ইলমে গায়েবের পক্ষে অমূল্য প্রমাণ “আদ দাওলাতুল মাক্কিয়্যাহ বিল মা-দ্দাতিল গাইবিয়্যাহ”। নবীজির ইলমে গায়েব আছে, এই সত্যের পক্ষে অকাট্য ফতোয়া।
একই সময়ে “কাগজী নোট” এর বৈধতা সম্পর্কে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি রচনা করেন “কিফুলুল ফকীহিল ফাহিম ফি আহকা-মে ক্বিরতা-সিদ দারাহিম” নামক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। তাঁর মক্কা সফরে রচিত এই দুটি গবেষণা গ্রন্থ মক্কার বিশিষ্ট আলেম সমাজের প্রশংসা ও স্বীকৃতি কুড়িয়ে তাঁর ইলমী মর্যাদাকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
আকিদা প্রসারে ভূমিকা:
ইমাম আহমদ রেযা খাঁ (রহ.) ইসলামের সঠিক রূপরেখা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা ও আদর্শ সংরক্ষণে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেন। হযরত মুহাম্মদ (দঃ)-এর উম্মত শেষ যামানায় এসে ৭৩ ফিরকায় বিভক্ত হবে। আর এর মধ্যে মাত্র এক ফিরকা জান্নাতী, আর সব জাহান্নামী হবে। আর এর মূল কারণ হলো আকীদার ক্রুটি ও ভ্রান্তি। আকীদাগত পার্থক্যের কারণে এক আল্লাহ বিশ্বাসী, এক রসূলের উম্মত ও এক কুরআনের অনুসারী মুসলমানরা শিয়া, সুন্নি, মুতাযিলা, কাদরিয়া, জাবরিয়া, ইমামিয়া ইত্যাদি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হক ও সত্যাশ্রয়ী একমাত্র দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে এবং এর প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠায় ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহ.) অসামান্য অবদান রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। [সূরা আলে ইমরান: ১০৩]
এই আয়াতের শিক্ষা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের সঠিক পথ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা আলা হযরত নিজ জীবন ও কর্মের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
আলা হযরত তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ভারতের বেরেলীতে অতিবাহিত করেছেন, তবুও তাঁর জ্ঞান ও চিন্তার প্রভাব ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর ছাত্র, অনুসারী এবং রচনাবলীর মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা ভারতের বেরেলী শহর ছাড়িয়ে সমগ্র ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছে। বর্তমানে আলা হযরতের বহু কিতাব সারা বিশ্বের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি, মাদরাসা, কলেজে সিলেবাসভূক্ত রয়েছে। যা ইসলামী গবেষণায় ব্যাপক সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখছে । তাঁর রেখে যাওয়া জ্ঞানের ভাণ্ডার নতুন প্রজন্মকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা সম্বন্ধে জানতে ও গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এরই মাধ্যমে তিনি এই পৃথিবী থেকে পর্দা করলেও মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে গেছেন।
কারামাত:
ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, কারামত হলো আল্লাহ প্রদত্ত নেক বান্দাদের জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ; যা কখনোই তাঁদের নিজস্ব ক্ষমতা নয়। তাই তিনি নিজেও কখনো এসব বিষয় নিয়ে গর্ব করতেন না; বরং সব কৃতিত্ব আল্লাহর দিকে সমর্পণ করতেন। জীবনীকারদের বর্ণনায় জানা যায়, তিনি ছিলেন অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও প্রখর মেধার অধিকারী। জটিল অনেক সমস্যার সমাধান তিনি খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে কুরআন, হাদিস ও ফিকহর আলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতেন, যা উপস্থিত আলেমদেরও বিস্মিত করত। তাছাড়াও মক্কা-মদিনা সফরকালে নবীর ইলমে গায়েব আছে—এর অকাট্য প্রমাণস্বরূপ মাত্র আট ঘণ্টায় গ্রন্থ রচনা তাঁর অন্যতম কারামত। যে গ্রন্থের কারণে বহু খ্যাতিমান আলেম তাঁর জ্ঞান ও গবেষণার উচ্চ প্রশংসা করেন এবং তাঁকে সম্মানসূচক সনদ প্রদান করেন। তাঁর অর্জিত এই সম্মান ছিল দীর্ঘ সাধনা, গভীর জ্ঞান ও আল্লাহভীতির স্বীকৃতি।
আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খাঁ (রহ.)-এর জীবনীগ্রন্থে তাঁর বহু কারামতের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে তিনি কখনো অলৌকিক ঘটনা প্রচার করে মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করেননি। বরং সর্বদা কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ, ইবাদত, বিনয় ও উত্তম চরিত্রের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। যা তাঁর ব্যক্তিত্বকে আজও মানুষের কাছে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে আছে।
মূল্যায়ন:
আলা হযরত ছিলেন এমন এক মনীষী, যিনি সমগ্র জীবন কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামের খেদমত, জ্ঞানচর্চা এবং মানবকল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর চরিত্রে যেমন ছিল আল্লাহভীতি, তেমনি ছিল রসূলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি বিশ্বাস করতেন, জ্ঞান তখনই সুন্দর ও মূল্যবান, যখন তা মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রকে সুন্দর করে। তাই তাঁর প্রতিটি রচনায়, ফতোয়ায় ও গবেষণায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে ইসলামের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার ছাপ।
রসূল (দঃ) ইরশাদ করেন: “আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী” (জামে তিরমীজি: ২৬৮২)। এই হাদিসের আলোকে আলা হযরতকে মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন, সেই জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠায় নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তাঁর জীবন ও রচিত সহস্রাধিক গ্রন্থ আজও গবেষণার বিষয়। আজকের তরুণ সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। নিষ্ঠার সঙ্গে জ্ঞানার্জন, সত্যের পথে অবিচল থাকা, উত্তম চরিত্র গঠন ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার শিক্ষা তাঁর জীবন থেকেই পাওয়া যায়। প্রযুক্তির এই যুগে তাঁর আদর্শ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রকৃত সফলতা শুধু জ্ঞানার্জনে নয়, বরং জ্ঞানকে মানবকল্যাণে ছড়িয়ে দেওয়ার মাঝে নিহিত। ইমাম আহমদ রেযা (রহ:) শুধু প্রখ্যাত আলেম নন; তিনি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, আল্লাহভীতি, নবীপ্রেম ও মানবকল্যাণের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার আলো যুগের পর যুগ মানুষকে সত্য, সৌন্দর্য ও কল্যাণের পথ দেখিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও দেখিয়ে যাবে।
ওফাত:- হানাফী মাযহাবের সূর্য আলা হযরত (রহ) ২৫শে সফর ১৩৪০হিজরী মোতাবেক ২৮ অক্টোবর ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে জুমাবার দুপুর ১২ টা ১০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন মহান আল্লাহর স্বানিধ্য লাভ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। বেরেলী শহরের তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মানযারুল ইসলামের উত্তর পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে এবং মাযার শরীফ রয়েছে। প্রতি বছর ২৪ ও ২৫ শে সফর দেশে বিদেশে তাঁর পবিত্র সালনা ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।এই বছর ২০২৬সালে তাঁর ১০৮ তম পবিত্র সালনা ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই মহান বুজুর্গের ফুয়ুযাত ও জ্ঞান লাভে ধন্যে করুন। আমিন বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালিন
লেখিকা শিক্ষার্থীঃ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদরাসা, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply