1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পটিয়ায় শখের ছাদ বাগানে চাতকী কমলার বাম্পার ফলন জননিরাপত্তা ও অপরাধ প্রতিরোধে আগাম পরিকল্পনা জরুরি লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া পটিয়ার রিয়াজুল উলুম মাদ্রাসার গৌরব “সেরা প্রতিভার সন্ধান ২০২৬” প্রতিযোগিতায় হুসনে সাউত বিভাগে ২য় স্থান বিএনপি প্রতিষ্ঠার আদর্শ-চেতনা ও তৃণমূলের প্রত্যাশা গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নত চন্দনাইশ বিনির্মাণে করণীয় -মহিউদ্দীন কাদের লালন শাহ পরশে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ৫০ তম প্রয়াণ দিবস পালিত এরাবিয়ান লিডারশীপ মাদ্রাসায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন সানজিয়েকুন ও স্নায়ুর শর্টসার্কিট -অভিলাষ মাহমুদ বেঁধে পেটালে তুইও সহ্য করবি -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্ পদুয়া আইনুল উলুম দারুচ্ছুন্নাহ কামিল মাদ্রাসায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন জননেতা আতাউর রহমান খান কায়সার আদর্শিক রাজনীতির বরপুত্র ও ইতিহাসের অংশ – তসলিম উদ্দীন রানা

জননিরাপত্তা ও অপরাধ প্রতিরোধে আগাম পরিকল্পনা জরুরি লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া

  • সময় বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ পঠিত

 

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের রাস্তায় ছিনতাইকারীদের টানে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন (৫৫) এর মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও রাজধানীসহ দেশজুড়ে নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একজন মানুষ চিকিৎসার জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে রাজধানীতে এসে যদি একটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রাণ হারান, তাহলে ঘটনাটিকে নিছক একটি অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং অপরাধ প্রতিরোধে আমাদের সামগ্রিক প্রস্তুতির প্রশ্ন। রনজিনা পারভীন বগুড়া থেকে চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। শনিবার ভোরে রিকশাযোগে ফার্মগেটের দিকে যাওয়ার সময় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর ব্যাগ ধরে টান দেয়। আকস্মিক সেই টানে তিনি রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। একটি পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি এ ঘটনা রাজধানীতে সাধারণ মানুষের চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ঘটনার পর র‍্যাব দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন একজনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার উদ্যোগও প্রশংসনীয়। এতে প্রমাণিত হয়, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা থাকলে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে; অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধী গ্রেপ্তারই কি আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রধান সাফল্যের মাপকাঠি হবে, নাকি অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিহত করার সক্ষমতাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য? এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ছিনতাই রাজধানী ঢাকা কিংবা দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরসহ নগরাঞ্চলের নতুন কোনো সমস্যা নয়। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-অঞ্চলে ভোর, সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেলে এসে চলন্ত রিকশা বা পথচারীর ব্যাগ টেনে নেওয়া এখন অনেক অপরাধীর পরিচিত কৌশল। এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী শুধু অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী হারাচ্ছেন না; ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। রনজিনা পারভীনের ক্ষেত্রে যার পরিণতি হয়েছে মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
তাই ছিনতাইকে আর কেবল ‘সম্পদ চুরির’ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। এটি এখন জননিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বিশেষ করে যেসব অপরাধী যানবাহন ব্যবহার করে দ্রুত অপরাধ সংঘটন ও পলায়ন করে, তাদের মোকাবিলায় প্রচলিত টহলব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও গোয়েন্দাভিত্তিক নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। জাতীয় সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার আশপাশে এমন ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ওই এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা, সিসিটিভি কাভারেজ, আলোকসজ্জা, টহল ও সন্দেহজনক যানবাহন পর্যবেক্ষণের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা দরকার। কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা জরুরি। কারণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ছোট দুর্বলতাও কখনো কখনো বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের অপরাধচক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে হবে। ছিনতাইয়ের পর লুট হওয়া মালামাল কোথায় যায়, কারা সেগুলো কেনাবেচা করে, অপরাধীরা কীভাবে সংগঠিত হয়- এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। একজন বা দুজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করলেই যদি মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকে, তাহলে একই ধরনের অপরাধ আবারও ঘটবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায়ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। দ্রুত গ্রেপ্তার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সুষ্ঠু তদন্ত, যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। অপরাধীর মনে আইনের ভয় এবং সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি আস্থা- দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল, ‘ক্রাইম হটস্পট’ভিত্তিক নজরদারি, কার্যকর সিসিটিভি, পর্যাপ্ত সড়ক আলোকসজ্জা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। রনজিনা পারভীনের মৃত্যু আমাদের জন্য একটি নির্মম সতর্কবার্তা। একটি ব্যাগের জন্য একজন শিক্ষিকার জীবন চলে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর পরিবারের কাছে এই ক্ষতি অপূরণীয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যু যেন কেবল কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে হারিয়ে না যায়।
রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের সবচেয়ে মৌলিক প্রত্যাশা হলো- তিনি নিরাপদে রাস্তায় চলবেন এবং নিরাপদে ঘরে ফিরবেন। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।অপরাধীর গ্রেপ্তার অবশ্যই সাফল্য; কিন্তু অপরাধ সংঘটনের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়াই বড় সাফল্য। রনজিনা পারভীনের মতো আর কোনো নাগরিককে যেন ছিনতাইকারীর বেপরোয়া অপরাধের বলি হতে না হয়- এটাই এখন আমাদের প্রত্যাশা। নাগরিক নিরাপত্তাকে কেবল প্রতিক্রিয়াশীল নয়, বরং আগাম ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কেন্দ্রে নিয়ে আসার সময় এসেছে।

লেখক পরিচিতি: কলাম লেখক, সংগঠক ও সমাজসেবী।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট