
আলমগীর আলম, পটিয়া।
শখের বসে বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন ফলজ ও বনজ গাছের বাগান।
সেই বাগানে একের পর এক দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল উৎপাদন করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের যুবক ও আইনজীবী আবদুল আজিজ। এবার তার ছাদবাগানে দেখা মিলেছে চাতকী কমলার বাম্পার ফলনের।
গাছে গাছে ঝুলছে অসংখ্য কমলা। সবুজ পাতার ফাঁকে পাকা ও আধাপাকা কমলার নয়নাভিরাম দৃশ্য সহজেই যে কারও নজর কাড়ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেফালী রুদ্র বলেন, পটিয়া আদালতের আইনজীবী আবদুল আজিজ ছোটবেলা থেকেই গাছপালার প্রতি বিশেষ আগ্রহী।
অন্যদের মতো শুধু শখের বাগান করেই থেমে থাকেননি তিনি।
বাড়ির ছাদে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছেন।
একের পর এক ব্যতিক্রমী ফল উৎপাদন করে তিনি এলাকাবাসীকে চমকে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এবার আজিজের ছাদবাগানে চাতকী কমলার যে ফলন হয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। ছাদে এমন ফলের বাগান করা সম্ভব, সেটি তিনি বাস্তবে দেখিয়ে দিয়েছেন।
আবদুল আজিজ জানান, ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগানোর প্রতি তার আলাদা আগ্রহ ছিল।
সেই আগ্রহ থেকেই বাড়ির ছাদে ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো শুরু করেন। এখন তার বাগানে নানা ধরনের ফল উৎপাদন হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমার বাগানে বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদনের মাধ্যমে আমি মানুষকে বোঝাতে চাই, কৃষিজমি ছাড়াও পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাড়ির ছাদে নানা ধরনের ফল উৎপাদন করা সম্ভব। জায়গার অভাবে যেন কেউ গাছ লাগানো থেকে বিরত না থাকেন।
আজিজ আরও বলেন, ‘আমি চাই প্রতিটি বাড়িতে নিজ উদ্যোগে ছাদ কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হোক।
এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে পরিবারের চাহিদার কিছু ফল নিজেরাই উৎপাদন করতে পারবে।
ইতোমধ্যে আবদুল আজিজের ছাদবাগানে কমলা, আপেল, মালটা, জাম্বুরা, থাই আনার, লিচু, আম, জামসহ বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদন হয়েছে।
মৌসুমভেদে এসব গাছে ফল ধরায় সারা বছরই ব্যস্ত সময় কাটে তার বাগান পরিচর্যায়।
স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ত পেশাজীবনের পাশাপাশি ছাদবাগান গড়ে তুলে আজিজ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে।
বিশেষ করে বাড়ির অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে ফলজ ও বনজ গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ ফল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
ছাদবাগানে চাতকী কমলার বাম্পার ফলন তাই শুধু আজিজের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং নগর ও আধা-নগর এলাকায় সীমিত জায়গায় ফল উৎপাদনের সম্ভাবনারও একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply