
আলমগীর আলম ,পটিয়া।
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জৈষ্ঠ্য মাস এলেই বাজারে দেখা মেলে সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফল তাল।
চলতি মৌসুমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ তালের পাইকারি বাজারে পরিণত হয়েছে পটিয়ার ভাইয়ের দীঘির পাড় এলাকা। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কেরানীহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন এ বাজারে।
প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো বাজার এলাকা। স্থানীয়দের মতে, দক্ষিণ চট্টগ্রামে তালের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে ভাইয়ের দীঘির পাড়ের এই বাজার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, কচুয়াই, ছনহরা, বোয়ালখালী, দাশরদীঘি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে এখানে পাইকারি বিক্রির জন্য আনা হয়। তিনি বলেন, “এ বছর তালের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহও বেশি। তীব্র গরমের কারণে চাহিদা বেড়েছে, ফলে প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে।”
আরেক ব্যবসায়ী জহির জানান, এক একটি ঝুড়িতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি তাল থাকে।
বর্তমানে প্রতি এক হাজার তাল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
বাজারে কেরানীহাট, দোহাজারী, মুহাম্মদপুর ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। কেরানীহাটের সাইফুল, দোহাজারীর মুসা ও মোরশেদ, চন্দনাইশের করিমসহ অনেকেই নিয়মিত এ বাজার থেকে তাল সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।
ক্রেতা এস এম আবু হেনা বলেন, “তাল গরমের সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ফল।
এর শাঁস ও রস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং শরীরকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।
তাই পরিবারের জন্য নিয়মিত তাল কিনতে আসি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল।
গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে এবং শক্তি জোগাতে এ ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রতি বছর জৈষ্ঠ্য মাস এলেই তালকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের বাজারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পাশাপাশি তালের বেচাকেনা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
Leave a Reply